leadT1ad

নওগাঁর তিন আসনে বিএনপির ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’ প্রকাশ্যে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নওগাঁ

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ০২
সালেক চৌধুরী, পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী ও আলমগীর কবির। স্ট্রিম কোলাজ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বহিষ্কৃত এই তিন নেতার শক্ত অবস্থান বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন—নওগাঁ-১ আসনে সাবেক এমপি ছালেক চৌধুরী, নওগাঁ-৩ আসনে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী এবং নওগাঁ-৬ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। ইতিমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে তাঁরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।

নওগাঁ-১ আসন: (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার)

এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি সম্প্রতি নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত হন।

ছালেক চৌধুরী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ আসনে তাঁর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুল আলম, জাতীয় পার্টির আকবর আলী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল হক শাহ বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি ছালেক চৌধুরীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর পক্ষে প্রচার চালানোর দায়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা করছি। জনগণের রায়ই প্রমাণ করবে আমার অবস্থান কতটা যৌক্তিক।’

অন্যদিকে বিএপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, দলের ভেতরে কোনো বিভক্তি নেই। ছালেক চৌধুরী অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁর প্রার্থিতায় ধানের শীষের ভোটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

নওগাঁ-৩ আসন : মহাদেবপুর ও বদলগাছী

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল। এখানে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। তিনি মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং প্রয়াত সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর সন্তান। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এলাকায় পারভেজ আরেফিনের একটি সুদৃঢ় ভোট ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফলে তাঁর স্বতন্ত্র প্রার্থিতা বিএনপির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মাহফুজুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা, ইসলামী আন্দোলনের নাছির বিন আসগর, বাসদের কালিপদ সরকার এবং বিএনএফের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

দলের পক্ষ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও পারভেজ আরেফিন নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর অনুসারী মহাদেবপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইফতেখারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি জানান, পারভেজ ভাই নির্বাচন করবেন এই সিদ্ধান্তে তিনি অবিচল এবং ইতিমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন।

নওগাঁ-৬ আসন : রানীনগর ও আত্রাই

এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। তিনি পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু। অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন।

আলমগীর কবির বলেন, ‘আমার এই লড়াই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। জনগণের পক্ষে এই সংগ্রামে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত