leadT1ad

দেশ-বিদেশে সম্পদের পাহাড়সহ বেনজীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৬: ৪৬
সাবেক আইজিপি বেনজির আহমদের বানানো রিসোর্ট। গোপালগঞ্জের জেলাপ্রশাসকের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ছবি

দুর্নীতির মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম-খুন ও বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আজ রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তার গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন। গ্রেপ্তারের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ফেরত আনার অনুরোধ (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হবে।

সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম-খুন ও বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ অনেক দিন ধরে আলোচিত হচ্ছে। এসব ভয়াবহ অভিযোগের মুখে ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বেনজীর। অবশেষে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও দুদকের তৎপরতায় দুবাই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ, আদালত সূত্রে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ

দুদকের দেওয়া চার্জশিট অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন।

কিন্তু দুদকের তদন্তে স্থাবর ৭ কোটি ৫২ লাখ এবং অস্থাবর ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসে, যা ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া নিজের অপ্রাপ্ত বয়সী কন্যা জাহরা জাবিন বিনতের সম্পদও তিনি সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছিলেন।

অর্থ পাচার

অবৈধ আয়ের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক, ব্যবসা ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ এবং স্থানান্তর করেছেন। স্ত্রী জিসান মির্জার নামে দুবাইয়ে ১ কোটি ৪ লাখ ৭৯ হাজার দিরহাম মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে।

এ ছাড়া সেখানকার দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ ৬২ হাজার দিরহাম পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ জব্দ ও হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুধু দুবাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য চেয়ে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল রিকোয়েস্ট’ (এমএলআর) পাঠিয়েছে দুদক।

দেশে জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি

আদালত ইতিমধ্যে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন।

২০২৩ সালের ৫ মার্চ একদিনেই ঢাকার গুলশানের ‘র‍্যাংকন আইকন টাওয়ারে’ চারটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। ৯ হাজার ১৯২ বর্গফুটের এসব ফ্ল্যাটের দাম দেখানো হয় মাত্র ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক রকম কম। সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনি এসব ব্যবসা ও সম্পদ করেছেন।

সংখ্যালঘুদের জমি দখল

গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ‘সাভানা ইকো রিসোর্টের’ নামে প্রায় ৬০০ থেকে ৬২১ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ও জোর করে এসব জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।

এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জমি কম দামে কেনা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ নিয়ে কাজ করছে দুদক।

ইসিএ এলাকায় জমি

সাভানা রিসোর্টের প্রাথমিক পরিবেশ ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হলেও চূড়ান্ত ছাড়পত্রের কোনো আবেদন করেননি বেনজীর। এমনকি রিসোর্টের কাজ তদারকির জন্য পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। সা

বেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ এ বিষয়ে বলেছিলেন, ব্যক্তিগত কাজে পুলিশের ব্যবহার সম্পূর্ণ অপরাধমূলক।

এ ছাড়া পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সেন্ট মার্টিনে ১ দশমিক ৭৫ একর এবং কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের কাছে স্ত্রী-কন্যাদের নামে ৭২ শতক জমি কিনেছেন তিনি।

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা

শুধু দুর্নীতি নয়, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ২০২১ সালে র‍্যাব এবং বেনজীর আহমেদসহ কয়েকজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। ওই সময় ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট উল্লেখ করে, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০-এর বেশি গুম এবং ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৬০০ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে র‍্যাবের বিরুদ্ধে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত