ট্রেনে কাটা পড়ে ২ যুবকের মৃত্যু: ‘লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ঘুমানোর’ দাবি ভুয়া

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ওই দুই যুবক রেললাইনে ঘুমিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাঁরা কোনো গণমাধ্যমকে দেননি। সংগৃহীত ছবি

ফেসবুকে কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রেললাইনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন দুই যুবক। পরে ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

এমন দাবির পোস্ট দেখা গেছে এখানে, এখানে এবং এখানে

লোডশেডিংয়ের কারণে দুই যুবক রেললাইনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন—এমন তথ্য কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও পাওয়া যায় (,,)। এসব প্রতিবেদনে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, লোডশেডিংয়ের কারণে দুই যুবক ঘর থেকে বের হয়ে রেললাইনের ওপর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

তবে স্ট্রিমকে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ওই দুই যুবক রেললাইনে ঘুমিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাঁরা কোনো গণমাধ্যমকে দেননি।

ঘটনার শুরু

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন মহেশপুর ইউনিয়নের বায়ৈখোলা গ্রামের শাহ আলম গাজীর ছেলে হাসিব গাজী (২০) এবং নোয়াপাড়া গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে মেহেদী শেখ (২৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত দশটার পর উপজেলার মহেশপুর রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনে দুই যুবক শুয়ে ছিলেন। এ সময় তাঁদের পাশে মশার কয়েল জ্বলছিল।

ঘটনার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, লোডশেডিংয়ের কারণে দুই যুবক রেললাইনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কয়েকটি প্রতিবেদনে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাতে লেখা হয়, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ওই দুই যুবক ঘর থেকে বের হয়ে রেললাইনের উপর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তবে স্ট্রিমের কাছে গণমাধ্যমে তাঁর বরাতে প্রচারিত বক্তব্যটি অস্বীকার করেন তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘কারো সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো কথাই হয় নাই। আমরা বলেছি, দুইজন ব্যক্তি ওখানে কয়েল নিয়ে শুয়ে ছিল। তাঁরা সিগারেট খাচ্ছিল। যারা এমন নিউজ করেছেন, সম্পূর্ণ ভুল নিউজ করছেন।’

কয়েকটি সংবাদে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের বরাতেও লোডশেডিংয়ের তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে। তবে তিনিও স্ট্রিমকে এমন বক্তব্য দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো মিডিয়া তো এ ধরনের রেফারেন্স দিতেই পারে না। যারা মারা গেছে, তাদের তো স্টেটমেন্ট নাই। কয়েকটি মিডিয়াতে দুইজন মারা যাওয়ার তথ্য আমি নিশ্চিত করেছি। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মারা গেছে, এমন মন্তব্য করিনি।’

মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে গরম পড়ছে, সেজন্য এই নিউজে লোডশেডিংটাকে হাইলাইট করা হয়েছে। তবে কারো কাছ থেকে অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট না নিয়ে টিআরপি (TRP) বাড়ানোর জন্য নিজেদের মনগড়া নিউজ করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা ঠিক না। মানুষ এত পাগল হয়ে যায় নাই যে রেললাইনের উপরে ঘুমাতে যাবে।’

লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমানোর প্রমাণ মেলেনি

এ ঘটনায় রাজবাড়ী রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসিরুল হক খান।

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণেই যদি ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে দুনিয়ার রাস্তাঘাট, ফাঁকা স্টেশন রেখে তাঁরা রেলের স্লিপারের ওপরে মাথা দিয়ে ঘুমালো কেন? আমরা ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁরা ওখানে ঘুমাচ্ছিল, এমন কথা কেউ বলে নাই।’

নিহত দুই যুবক মাদকসেবন করেছিলেন কি না, সে বিষয়েও তদন্তকারীর কাছে জানতে চায় স্ট্রিম। এসআই নাসিরুল হক খান বলেন, ‘তাঁদের কাছ থেকে কোনো নেশাজাতীয় আলামত পাইনি। তবে ওদের কাছে সিগারেট আর গ্যাসলাইটার পাওয়া গেছে। দুই পাশে দুটো কয়েল জ্বলছিল। তাঁরা গভীর ঘুমে বিভোর ছিল।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত