leadT1ad

ঋণ আত্মসাৎ ও পাচার: ডেল্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২৫
এ কে এম ফারুক আহমেদ ও ডেল্টা গ্রুপের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

ডেল্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফারুক আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস আরা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ওভার ইনভয়েসিং এবং ভুয়া এলসির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষে এই আবেদনটি দাখিল করেন সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. সাইফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সপরিবারে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া জরুরি। শুনানি শেষে আদালত আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে এই আদেশ দেন।

দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি মোট সাতটি ব্যাংক থেকে ডেল্টা গ্রুপ বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও এসআইবিএল থেকে ৩৫০ কোটি টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি এবং ওয়ান ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে আরও ২৫০ কোটি টাকা ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঋণের বিপরীতে একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রাখা হয়েছে। ভুয়া এলসি ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে। গাজীপুরের কাশিমপুরে ডেল্টা গ্রুপের ১০টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই উৎপাদন এখন বন্ধ। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করে ফারুক আহমেদ মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ এবং সিঙ্গাপুরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। এছাড়া বারিধারা ও গুলশানেও তাঁর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এ কে এম ফারুক আহমেদ এলাকায় ‘তালুকদার ফারুক’ নামে পরিচিত। তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকে প্রকৌশল পেশা ছেড়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। এরশাদ সরকারের আমলে বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে তাঁর ব্যবসায়িক উত্থান শুরু হয়। ২০০৭ সালে টাস্কফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হলেও পরে তিনি দুদক থেকে দায়মুক্তি সনদ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঋণে জর্জরিত তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচারের বিষয়টি ২০১৯ সালে প্রথম দুদকের নজরে আসে। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত