পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশোধিত গেজেট স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত জানিয়েছে, ইসির লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ফলে গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী আসনবিন্যাসই বহাল থাকছে। রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আপিল বিভাগের আদেশের ফলে ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট কার্যকর হলো। সে অনুযায়ী সাঁথিয়া উপজেলা এককভাবে ‘পাবনা-১’ সংসদীয় আসন হিসেবে বহাল থাকবে। অন্যদিকে সুজানগর ও সম্পূর্ণ বেড়া উপজেলা মিলিয়ে গঠিত হবে ‘পাবনা-২’ আসন।
এর আগে হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ ডিসেম্বর ইসি একটি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছিল। ওই গেজেটে বেড়া উপজেলার পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নকে (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেঙ্গা, চাকলা এবং কৈটোলা) পাবনা-১ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের ফলে সেই বিন্যাস বাতিল হয়ে গেল।
সীমানা নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে রায় দেন। রায়ে আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান পৃথকভাবে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। সোমবার আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রকাশিত ইসির সংশোধিত গেজেট স্থগিত করেন।
সীমানা জটিলতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসির সামনে পাবনা-১ আসনের বাসিন্দারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছিলেন। স্থানীয় ছাত্রনেতা আসাদ্দুজামান নয়ন ও সালমান হোসেনের নেতৃত্বে ওই আন্দোলনে ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়ার দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। অথচ সুজানগরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, যা প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে জনভোগান্তি বাড়ায়। এছাড়া বেড়া ও সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ ৬২ হাজারে, যা সাঁথিয়ার চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এটি ইসির নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন তাঁরা।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বেড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও নগরবাড়ি ঘাট পাবনা-২ আসনে চলে গেলে পাবনা-১ আসনের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আপিল বিভাগের আদেশে আগের সীমানা বহাল থাকায় স্থানীয়দের একাংশের দাবির প্রতিফলন ঘটল।