শাহজালাল ফার্টিলাইজারের অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক হিসাব প্রধান ইকবালের ১২ ফ্ল্যাট ও ৯১ গাড়ি জব্দ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৪
বাংলাদশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে গড়ে তোলা বিপুল সম্পদ জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রকল্পের সাবেক হিসাব বিভাগের প্রধান খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের ১২টি ফ্ল্যাট ও ৯১টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডি জানায়, জব্দ করা স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১২টি ফ্ল্যাট, ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি ও ১১টি শেয়ার। এছাড়া আদালতের নির্দেশে ইকবালের তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার টাকাও জব্দ (ফ্রিজ) করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, ইকবাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মিনিবাস ও দুটি হাইচ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সিআইডি প্রধানকে এসব গাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। গাড়িগুলো বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভাড়ায় চলছে। সেখান থেকে অর্জিত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদালতের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, ২০০৫ সালে সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ইকবাল। পরে পদোন্নতি পেয়ে হিসাব বিভাগের প্রধান হন। ১৪ বছরের চাকরিজীবনে তিনি স্ত্রী হালিমা আক্তারের মালিকানাধীন ‘টিআই ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘মেসার্স নুসরাত ট্রেডার্স’-এর নামে ভুয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ বছর আগে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে তিনি ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে বিপুল সম্পদ গড়েছেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে ইকবাল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে সিআইডি। এর আগে ২০২২ সালের জুনে র্যাব তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) ১৩ কোটি ও ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক ২৬টি মামলা দায়ের করেছে। দুদক ও সিআইডি বর্তমানে আলাদাভাবে এসব মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত