leadT1ad

আগামী নির্বাচন লাইনচ্যুত ট্রেনকে ট্র্যাকে ফেরানোর: ইসি সানাউল্লাহ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩৩
বক্তৃতা করছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে লাইনচ্যুত ট্রেনকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে পুনরায় চালু করার নির্বাচন বর্ণনা করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার মোর্চা ‘অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র (এএফইডি) একটি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের সীমাবদ্ধতা ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, 'আমাদের জন্য ২০২৬ সালের নির্বাচন হচ্ছে লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে ফিরিয়ে আবার চালু করা। ন্যূনতম সংস্কার ও কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে অন্তত গতি দেওয়া। এ কাজটা যদি আমরা করতে পারি, তবে আমাদের প্রথম ধাপ অর্জিত হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি তিনটি নির্বাচন ও সে সময়কালকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। একটি ১৯৯১ সাল, আরেকটি ২০০৮ সাল এবং আগামী নির্বাচন। এই সময়কালে বেশ কিছু সংস্কার হয়েছিল। ২০০৭-০৮ সালে অনেক আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে আমরা কোনো আইনের তোয়াক্কা করিনি। সে সময় যে আইনগুলো সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছিল, সেগুলো বিগত তিন নির্বাচনে প্রয়োগের সুযোগ আমরা পাইনি। এখন আমরা ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন অনেক বিধান ও আইনি সংস্কার যুক্ত করেছি।'

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে এই কমিশনার বলেন, 'নিবন্ধনের সময় আমাদের জন্য বড় জটিলতা ছিল যে, আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল (উই আর হ্যান্ডিক্যাপড)। আমরা একটি প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছি। বিষয়টি হলো, গত তিনটি নির্বাচনে যারা পর্যবেক্ষণে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই তাঁদের আমরা নিবন্ধন দিতে পারিনি।'

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে তিন শতাধিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আবেদন করেছিল। সেখান থেকে আমরা চূড়ান্তভাবে ৮১টি প্রতিষ্ঠানকে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিবন্ধন দিয়েছি। আপনারা বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ, আপনারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনারা নির্বাচন কমিশনের "তৃতীয় নয়ন" (থার্ড আই)। সুতরাং আমরা চাই, এবারের নাগরিক পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। অন্তত মৌলিক বিষয়ে যেন কোথাও কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।'

পর্যবেক্ষকদের বয়সসীমা প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, 'বয়সসীমা কমিয়ে ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুনদের মধ্যে আবেগ থাকতে পারে—এ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে।'

নারী ও প্রান্তিক ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, 'যেসব নারী ভোট দিতে পারেননি বা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়েও পর্যবেক্ষকদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।'

প্রবাসী ভোটারদের প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'কমিশন ধরে নিচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোটার ভোট দেবেন। পোস্টাল ব্যালটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিশন কাজ করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আদালতের আদেশের কারণে কোনো প্রার্থী যদি মনোনয়ন ফিরে পান, সে ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয় এবং আগে ছাপানো ব্যালট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।'

অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, এএফইডি মহাসচিব হারুন অর রশিদ, ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির প্রজেক্ট ডিরেক্টর এনাস্তাসিয়া এস. উভায়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ডিপাক ইলমার এবং এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ মিয়াসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, কূটনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত