সাবেক রাষ্ট্রপতির বিচারের দাবি উড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আমরা তাঁর সহযোগিতা পেয়েছি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৩৮
সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্ট্রিম ছবি

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তাঁর সহযোগিতা পেয়েছি।’

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পদত্যাগ করতে চাইলে সেটা করতে পারেন বলে সংবিধানে বিধান আছে।’

অভিযোগ করার স্বাধীনতা সবার আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন রাষ্ট্রপতিকে যারা গালি দিচ্ছেন, সেই অধিকার তাঁদের আছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে। প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে।’

তবে এসব অভিযোগ গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এনসিপি ও অন্যরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে, সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে দেখি না।’

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের শেষ দিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড; তাঁর ইমিউনিটি আছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর বাইরে যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের আছে। দিতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কিছু দেখি না।’

লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিনের ফোনালাপের অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা লাগে না। কথা বলতে চাইলে এখান থেকেও বলা যায়।’

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, সেটা সেই সময়কার বিষয়। সেটা আইন অনুসারে চলবে।’

এর আগে শুক্রবার পদত্যাগের দিনই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের গুম ও খুনের বৈধতাও দিয়েছিলেন। এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা যখন ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালান, তখনও তিনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে নীরব ছিলেন। তাই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিতে এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরুত্থান রোধে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত