তালায় একই বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে, মুচলেকায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ২১
বাল্যবিবাহের প্রতিকী ছবি।  স্ট্রিম গ্রাফিক
বাল্যবিবাহের প্রতিকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের তথ্য পাওয়ার পর তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে না পাঠানো এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন অভিভাবকেরা।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসলামকাটি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির পাঁচ ও দশম শ্রেণির ছয়জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে একই বিদ্যালয়ের আরও দুই ছাত্রীসহ মোট ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের তথ্য পাওয়া যায়।

জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলার লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট বিদ্যালয়ে গিয়ে ১১ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের তথ্য জানতে পারেন। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জেলা প্রশাসক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার উপস্থিতিতে অভিভাবকেরা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে না পাঠানো এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।

ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, ‘অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েদের বাবার বাড়িতে রাখার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ছাত্রীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। কেউ মুচলেকার শর্ত অমান্য করে মেয়েকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে পাঠালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামকাটি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেব বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ১৩ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মুচলেকা দিয়েছেন। তারা এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে।

এ ঘটনার পর তালা উপজেলার অন্যান্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সতর্কতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত