একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি শুনতে অপারগতা জানান।
আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা জানিয়েছেন।’ পরে তিনি রিটটি শুনানির জন্য বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের তফসিলের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমান তফসিল বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনপূর্বক নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
সেদিন রিট দায়েরের সময় আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বিভিন্ন বিধানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নামের কোনো ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না। সে কারণে বিদ্যমান কোনো আইন বা সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন বা গণভোট আয়োজনের সুযোগ নেই।’
তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ৬, ৬ এর এ ও ৭ ধারা এবং এ বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো আইন বাতিল হলেও তার প্রভাব পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না।’ ওই আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) কিংবা সংবিধানে একই দিনে দুটি নির্বাচন আয়োজনের কোনো বিধান নেই। ফলে এই তফসিল আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।’
সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে রিটকারী আইনজীবী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল শর্ত হলো সবার অংশগ্রহণে প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন’। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের শরিক কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এমনকি যেসব দল অংশ নিচ্ছে, তাদের মধ্যেও অনেকে নির্বাচন নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।’ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত না হলে তা সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলেও আদালতকে জানান তিনি।