leadT1ad

একটি দলকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ৩৮
ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করছেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০০৮ সালের মতো আবারও একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা নির্বাচনি কারসাজি করার চেষ্টা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নরসিংদীর ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের প্রয়োজন ছিল আমূল সংস্কার। আমরা ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘোষণা দিয়েছিলাম—এই বিপ্লব শুধু হাসিনা খেদানোর বিপ্লব নয়। এটি ফ্যাসিবাদের তৈরি করা সিস্টেম পরিবর্তনের বিপ্লব। গণ-অভ্যুত্থানের আগে তারা সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা নিজেরাই নিজেদের কথা রাখছে না। তারা নির্বাচিত হলে এই কথাগুলো রাখবে না। শেখ হাসিনাও ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা বলেছিল। দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর সুযোগ হয়নি। আমাদের জন্য এখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নির্বাচিত হলে এসব খাতে আমূল পরিবর্তন আনব।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আজকে যারা অভিজ্ঞতার কথা বলছেন, গত ১৬ বছর আপনাদের অভিজ্ঞতার ব্যর্থতার জন্যই আমরা ফ্যাসিবাদের কাছে শোষিত হয়েছি। আপনারা এখন অবসরে যান। আমাদের দেশ গঠনের সুযোগ দিন। আমরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে চাই। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বলব, ব্যক্তিস্বার্থ বাদ দিয়ে ১১ দলের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। আধিপত্যবাদ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত করতে হবে।’

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যজোট নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করবে। আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে জুলুম করেছে, একটি দল গত ১৭ মাসে সেই পরিমাণ নির্যাতন করেছে। যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে কথা বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পলাশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে।’

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘একটি দলের চেয়ারম্যান বিভিন্ন কার্ডের কথা বলছেন। কিন্তু তিনি নিজেই পকেটে হাত দিয়ে কার্ড খুঁজে পান না। কোনটি ফ্যামিলি কার্ড আর কোনটি কৃষক কার্ড, তা তিনি নিজেই চেনেন না। সরকার একটি কার্ডের মধ্যেই সব নাগরিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা চাঁদাবাজ ও দখলবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট হবে। এবারের গণভোট হবে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। যদি চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত দেশ চান, তবে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিন। একটি দলের নেতাকর্মীরা নারীদের নির্যাতনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিচ্ছেন। মা-বোনদের নিরাপত্তা চাইলে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিতে হবে।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নরসিংদী-২ আসনে জোটের প্রার্থী সরোয়ার তুষার বলেন, ‘নরসিংদীর পলাশে একটি দল আগের চেয়ে চাঁদাবাজি বাড়িয়ে দিয়েছে। টোল প্লাজা ও শিল্প এলাকায় বড় একটি দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আমরা বিজয়ী হলে সব চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়ে তুলব। পলাশ ও ঘোড়াশালে ভোট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে নরসিংদীতে আবারও জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে ১২ তারিখের পর আপনাদের স্থান হবে গারদে।’

নির্বাচনি সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত