ফয়সাল আহমেদ

আমাদের মরা মরা সিনেমা হলগুলো ভরা হয় ঈদে, অপেক্ষাকৃত কম আবর্জনা দিয়া। এর একটা কারণ হইলো, আমাদের আসলে দলবল নিয়া যাওয়ার জায়গা কম, তার উপর ইন্ডাস্ট্রি যা দিতেছে, তার বাইরে অপশনও নাই, আমরা তাই অগত্যাই একেকটা হাবিজাবি সিনেমারে হিট বানাই বক্স অফিসে।
আমাদের একটা পুরনো স্বভাব হইলো তুলনামূলক বিচারে ‘কম খারাপ’ অপশনটার পাশে দাঁড়ানো। সিনেমার ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। আমরা সবসময় চেষ্টা করি বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়াইতে; তবে সেই চেষ্টাটা অনেক সময় ভালো কোনো ছবির বদলে কেবল ‘অপেক্ষাকৃত কম খারাপ’ ছবিটাকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আটকায় যায়।
এইবারের ঈদে আসতেছে এমন কয়েকটা ছবির ট্রেলার ইতিমধ্যে রিলিজ হইছে। চলেন দেখি, এবার ‘কম খারাপ’ হওয়ার রেসে ঈদের কোন ছবি কতটা আগায়ে আছে।
রাক্ষস / পরিচালক: মেহেদী হাসান হৃদয়

ট্রেলারের শুরুতেই নায়ক সিয়াম বলতেছে, নারী আটকায় লোভে, তারপর বলতেছে সে জুলিয়েটরে জান-প্রাণ দিয়া ভালোবাসত, এরপর সে ভয়ংকর এগ্রেশনে একের পর এক মানুষ মারতেছে, এক ফাঁকে মারতেছে ভিলেন সোহেল মণ্ডলরেও। শেষে গিয়া ডাক্তাররে বলতেছে প্রেগন্যান্সির সময় *ক্স করতে সমস্যা নাই তো? ধারণা করা যাইতেছে, প্রেমে ব্যর্থ হইয়া বিশাল এক সন্ত্রাসীতে পরিণত হইছে এই মিসোজিনিস্ট নায়ক; তার এই মিসোজিনি দেইখা হলে হাততালি মারার লোকের যে অভাব নাই, সেইটাও ধারণা করা যাইতেছে সোশ্যাল মিডিয়ার রিঅ্যাকশন দেখে।
এই সিয়ামই গত সিনেমা ‘জংলি’তে গুড টাচ, ব্যাড টাচ শিখাইছিলো আমাদের। এইবার সে কেমন কইরা এরকম একটা মিসোজিনিস্ট ক্যারেক্টার করতে রাজি হইলো সেইটা গবেষণা না কইরাও বলা যায়, কিন্তু থাক। মানুষ তো জানেই কী করলে হাইপ তৈরি হয়। তবে সিয়াম আহমেদরে বলতে চাই, অ্যানিমাল বা কবির সিং হয়ে উঠতে চাওয়া ঠিক মানাচ্ছে না, কেবল বন্দুক হাতে চিল্লায়া অ্যাকশন হিরো হওয়াও সম্ভব না। বাকিটা কেজিএফ কেজিএফ কেজিএফ…
বনলতা এক্সপ্রেস / পরিচালক : তানিম নূর

গতবার তানিম নূর আসছিলেন বড় বড় মারামারির সিনেমার পাশে একটা বড় নাটক নিয়া। কোনো অ্যাডাল্ট এলিমেন্ট না রাইখা একটা শিশুতোষ পারিবারিক সিনেমা দিয়া ব্যবসা সফলও হইছিলেন তিনি।
গল্প নির্বাচনে ডিরেক্টর যে কোনো রিস্ক নেন না, তা বোঝা যায় তার মৌলিক গল্প নিয়া সিনেমা না বানানো দেইখা। ‘উৎসব’ সিনেমায় উনি বেশ ভালো অ্যাডাপ্টেশন করছিলেন চার্লস ডিকেন্সের ‘ক্রিসমাস ক্যারল’ এর। এইবার উনি আসতেছেন হুমায়ূন আহমেদের পাঠকপ্রিয় উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ এর ফিল্ম অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে। ভদ্রলোক বড় বড় অভিনেতারে আটকায়া ফ্যালেন ছোট ছোট ফ্রেমে। ডায়ালগ রাইটিংয়েও গতবারের ধারাবাহিকতা বজায় রাইখা উক্ত অভিনেতাদের জনপ্রিয় ডায়ালগগুলার রিপিটেশন আনছেন। তবে খাঁটি বাংলাদেশি সিনেমা বানাইতে খাটাখাটি যে করছেন ডিরেক্টর সেইটা চোখে পড়ার মতো।
সব মিলায়া ঈদের ছবির মধ্যে কম খারাপ বা অপেক্ষাকৃত ভালো মনে হইছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’রে।
প্রেশার কুকার/ পরিচালক: রায়হান রাফী

মাদ্রাসার ছাত্র ও তারেক মাসুদের শিষ্য বইলা নিজেরে পরিচয় দেওয়া রায়হান রাফী এইবার হালকা বাইর হইছেন গুলি-বন্দুকের ফর্মুলা থিকা। সিনেমাটোগ্রাফি, বিজিএম, অ্যাক্টিং আর সাস্পেন্সফুল ট্রেলার বানানোর জায়গায় এইবারের ঈদে সবচাইতে আগায়ে আছেন রায়হান রাফী। তবে প্রশ্ন থাইকা যায়, বরাবরের মতো ‘প্রেশার কুকার’ও কি হইয়া উঠবে রায়হান রাফীর আরেকটা মিসোজিনিস্ট গল্প? তাছাড়া প্রমিজিং ট্রেলারের মতো সিনেমাও বাজিমাত করবে নাকি শেষমেশ চইলা যাবে বি-গ্রেড বলিউডি সিনেমার কাতারে–সেইটাই এখন দেখার অপেক্ষায় আছি।
প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা / পরিচালক: আবু হায়াত মাহমুদ

প্রিন্স হইলো কেজিএফের আরেকটা ক্লোন। একদা ঢাকাই ছবিতে ভালো ভিএফএক্স না থাকায় সিনেমার কী করুণ দশা ছিল সেইটা বুঝাইতেই মেবি সিনেমার নাম রাখছে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। পরপর কয়টা মারদাঙ্গা অবতারে ব্যবসাসফল ছবি করার পর এইরকম কার্টুন অবতারে হাজির হওয়া শাকিব খান হতাশ তো করলোই, সাথে বুঝাইয়াও দিলো ডিরেক্টর ইজ দ্য ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ। আর এই ছবির ডিরেক্টর এতোই অমনোযোগের সাথে ট্রেলার বানাইছেন যে শাকিব খানের হাতে যে বিশাল বন্দুক, তার গুলি বাইর হওয়ার জায়গাটা যে ব্লক তা খেয়াল না কইরাই মার্কেটে ছাইড়া দিছে ট্রেলার। অনেকটা এইরকম যে—বানাইছে বাঘ কিন্তু সাউন্ড করতেছে মিয়াও। বাংলা সিনেমায় শাকিব খানের পুনরুত্থানের গল্পে একটা হতাশাজনক অধ্যায় হইয়া থাকলো এই প্রিন্স।
দম/ পরিচালক: রেদওয়ান রনি

এইরকম সার্ভাইভাল সিনেমা বাংলাদেশে আগে হইছে কি হয় নাই, এই মুহুর্তে মনে পড়তেছে না, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুইরা বেড়াইতেছে এই সিনেমার সাথে ২০২৪ এর রিলিজ হওয়া সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা ‘দ্য গোট লাইফ’ এর ফ্রেম টু ফ্রেম মিল। যদি তাই হয়, তাইলে হতাশই হব। যদিও বাংলা সিনেমা দেখে হতাশ হইতেই অভ্যস্ত আমরা, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতেছে এই সিনেমা আসলে নূর বইলা এক লোকের জীবন থিকা নেওয়া। আমারও বিশ্বাস, আইসক্রিম বা চোরাবালির ডিরেক্টর এতো বছর পর চোরাগল্প নিয়া আসতেছেন না নিশ্চয়ই। কিন্তু হাঁটাচলায় আর ডায়লগ ডেলিভারিতে নিশোরে যদি নিশোই লাগে, তাইলে আর দমের গল্পে ঢোকা যাবে না, মনে হবে সুড়ঙ্গ টু দেখতেছি। হায় আল্লাহ খালেদ, এইরকম যেন না হয়!
হুট কইরা বাংলাদেশি ছবির পরিচালকদের এই কেজিএফ, কবির সিং, বা অ্যানিমালের ফরম্যাটে ঢুইকা যাওয়া, মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ আর লম্বা চুলের ফর্মুলা নায়কের হাতে মূলার মতো বন্দুক তুইলা দিয়া বড় অ্যামাউন্টের বক্স অফিস কালেকশন সম্ভব হইলেও, এই উচ্চ ফলনের ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে ভালো কিছুই হবে না। আমার এক বিদেশি বন্ধু একবার "Bangladeshi Hero" লেইখা গুগলে সার্চ করছে, রেজাল্টে আসছে হিরো আলমের ছবি। তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের এই কবির সিং আর কেজিএফমার্কা বড় বন্দুকওয়ালা ছবিগুলা যে ইন্ডিয়ান সিনেমা হিসেবে পরিচিত হইয়া উঠবে না, তার কোনো গ্যারান্টি দেয়া যাইতেছে না। ভাইয়েরা, এখনও সময় আছে, আপনারা বাংলাদেশি সিনেমার ল্যাঙ্গুয়েজ এস্টাবলিশ করেন।

আর দর্শক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান হইতেছে, একটা ইনকমপ্লিট ইন্ডাস্ট্রি থিকা বাইর হওয়া সিনেমাগুলাও যে একেকটা হাফ সিনেমা হইয়া উঠবে, এইটাই বরং স্বাভাবিক। তাই নিজের প্রত্যাশারে সংযত রাইখা, আশারে জাগায়া রাখতে হবে। আমাদের যেহেতু বাংলা সিনেমারে সাপোর্ট কইরা যাওয়া ছাড়া আর কাজ নাই, উৎসবগুলাতে তাই আমরা অপেক্ষাকৃত কম খারাপ সিনেমাগুলারে দেখব। হাফ সিনেমা দেইখা ফুল সাপোর্ট দেব; একদিন ফুল মার্ক পাইয়া পাস করবে—এই ভাইবা বাপ যেমন ফেইল করা পোলারে সাপোর্ট দিয়া যায়, ওইভাবে।

আমাদের মরা মরা সিনেমা হলগুলো ভরা হয় ঈদে, অপেক্ষাকৃত কম আবর্জনা দিয়া। এর একটা কারণ হইলো, আমাদের আসলে দলবল নিয়া যাওয়ার জায়গা কম, তার উপর ইন্ডাস্ট্রি যা দিতেছে, তার বাইরে অপশনও নাই, আমরা তাই অগত্যাই একেকটা হাবিজাবি সিনেমারে হিট বানাই বক্স অফিসে।
আমাদের একটা পুরনো স্বভাব হইলো তুলনামূলক বিচারে ‘কম খারাপ’ অপশনটার পাশে দাঁড়ানো। সিনেমার ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। আমরা সবসময় চেষ্টা করি বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়াইতে; তবে সেই চেষ্টাটা অনেক সময় ভালো কোনো ছবির বদলে কেবল ‘অপেক্ষাকৃত কম খারাপ’ ছবিটাকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আটকায় যায়।
এইবারের ঈদে আসতেছে এমন কয়েকটা ছবির ট্রেলার ইতিমধ্যে রিলিজ হইছে। চলেন দেখি, এবার ‘কম খারাপ’ হওয়ার রেসে ঈদের কোন ছবি কতটা আগায়ে আছে।
রাক্ষস / পরিচালক: মেহেদী হাসান হৃদয়

ট্রেলারের শুরুতেই নায়ক সিয়াম বলতেছে, নারী আটকায় লোভে, তারপর বলতেছে সে জুলিয়েটরে জান-প্রাণ দিয়া ভালোবাসত, এরপর সে ভয়ংকর এগ্রেশনে একের পর এক মানুষ মারতেছে, এক ফাঁকে মারতেছে ভিলেন সোহেল মণ্ডলরেও। শেষে গিয়া ডাক্তাররে বলতেছে প্রেগন্যান্সির সময় *ক্স করতে সমস্যা নাই তো? ধারণা করা যাইতেছে, প্রেমে ব্যর্থ হইয়া বিশাল এক সন্ত্রাসীতে পরিণত হইছে এই মিসোজিনিস্ট নায়ক; তার এই মিসোজিনি দেইখা হলে হাততালি মারার লোকের যে অভাব নাই, সেইটাও ধারণা করা যাইতেছে সোশ্যাল মিডিয়ার রিঅ্যাকশন দেখে।
এই সিয়ামই গত সিনেমা ‘জংলি’তে গুড টাচ, ব্যাড টাচ শিখাইছিলো আমাদের। এইবার সে কেমন কইরা এরকম একটা মিসোজিনিস্ট ক্যারেক্টার করতে রাজি হইলো সেইটা গবেষণা না কইরাও বলা যায়, কিন্তু থাক। মানুষ তো জানেই কী করলে হাইপ তৈরি হয়। তবে সিয়াম আহমেদরে বলতে চাই, অ্যানিমাল বা কবির সিং হয়ে উঠতে চাওয়া ঠিক মানাচ্ছে না, কেবল বন্দুক হাতে চিল্লায়া অ্যাকশন হিরো হওয়াও সম্ভব না। বাকিটা কেজিএফ কেজিএফ কেজিএফ…
বনলতা এক্সপ্রেস / পরিচালক : তানিম নূর

গতবার তানিম নূর আসছিলেন বড় বড় মারামারির সিনেমার পাশে একটা বড় নাটক নিয়া। কোনো অ্যাডাল্ট এলিমেন্ট না রাইখা একটা শিশুতোষ পারিবারিক সিনেমা দিয়া ব্যবসা সফলও হইছিলেন তিনি।
গল্প নির্বাচনে ডিরেক্টর যে কোনো রিস্ক নেন না, তা বোঝা যায় তার মৌলিক গল্প নিয়া সিনেমা না বানানো দেইখা। ‘উৎসব’ সিনেমায় উনি বেশ ভালো অ্যাডাপ্টেশন করছিলেন চার্লস ডিকেন্সের ‘ক্রিসমাস ক্যারল’ এর। এইবার উনি আসতেছেন হুমায়ূন আহমেদের পাঠকপ্রিয় উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ এর ফিল্ম অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে। ভদ্রলোক বড় বড় অভিনেতারে আটকায়া ফ্যালেন ছোট ছোট ফ্রেমে। ডায়ালগ রাইটিংয়েও গতবারের ধারাবাহিকতা বজায় রাইখা উক্ত অভিনেতাদের জনপ্রিয় ডায়ালগগুলার রিপিটেশন আনছেন। তবে খাঁটি বাংলাদেশি সিনেমা বানাইতে খাটাখাটি যে করছেন ডিরেক্টর সেইটা চোখে পড়ার মতো।
সব মিলায়া ঈদের ছবির মধ্যে কম খারাপ বা অপেক্ষাকৃত ভালো মনে হইছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’রে।
প্রেশার কুকার/ পরিচালক: রায়হান রাফী

মাদ্রাসার ছাত্র ও তারেক মাসুদের শিষ্য বইলা নিজেরে পরিচয় দেওয়া রায়হান রাফী এইবার হালকা বাইর হইছেন গুলি-বন্দুকের ফর্মুলা থিকা। সিনেমাটোগ্রাফি, বিজিএম, অ্যাক্টিং আর সাস্পেন্সফুল ট্রেলার বানানোর জায়গায় এইবারের ঈদে সবচাইতে আগায়ে আছেন রায়হান রাফী। তবে প্রশ্ন থাইকা যায়, বরাবরের মতো ‘প্রেশার কুকার’ও কি হইয়া উঠবে রায়হান রাফীর আরেকটা মিসোজিনিস্ট গল্প? তাছাড়া প্রমিজিং ট্রেলারের মতো সিনেমাও বাজিমাত করবে নাকি শেষমেশ চইলা যাবে বি-গ্রেড বলিউডি সিনেমার কাতারে–সেইটাই এখন দেখার অপেক্ষায় আছি।
প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা / পরিচালক: আবু হায়াত মাহমুদ

প্রিন্স হইলো কেজিএফের আরেকটা ক্লোন। একদা ঢাকাই ছবিতে ভালো ভিএফএক্স না থাকায় সিনেমার কী করুণ দশা ছিল সেইটা বুঝাইতেই মেবি সিনেমার নাম রাখছে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। পরপর কয়টা মারদাঙ্গা অবতারে ব্যবসাসফল ছবি করার পর এইরকম কার্টুন অবতারে হাজির হওয়া শাকিব খান হতাশ তো করলোই, সাথে বুঝাইয়াও দিলো ডিরেক্টর ইজ দ্য ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ। আর এই ছবির ডিরেক্টর এতোই অমনোযোগের সাথে ট্রেলার বানাইছেন যে শাকিব খানের হাতে যে বিশাল বন্দুক, তার গুলি বাইর হওয়ার জায়গাটা যে ব্লক তা খেয়াল না কইরাই মার্কেটে ছাইড়া দিছে ট্রেলার। অনেকটা এইরকম যে—বানাইছে বাঘ কিন্তু সাউন্ড করতেছে মিয়াও। বাংলা সিনেমায় শাকিব খানের পুনরুত্থানের গল্পে একটা হতাশাজনক অধ্যায় হইয়া থাকলো এই প্রিন্স।
দম/ পরিচালক: রেদওয়ান রনি

এইরকম সার্ভাইভাল সিনেমা বাংলাদেশে আগে হইছে কি হয় নাই, এই মুহুর্তে মনে পড়তেছে না, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুইরা বেড়াইতেছে এই সিনেমার সাথে ২০২৪ এর রিলিজ হওয়া সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা ‘দ্য গোট লাইফ’ এর ফ্রেম টু ফ্রেম মিল। যদি তাই হয়, তাইলে হতাশই হব। যদিও বাংলা সিনেমা দেখে হতাশ হইতেই অভ্যস্ত আমরা, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতেছে এই সিনেমা আসলে নূর বইলা এক লোকের জীবন থিকা নেওয়া। আমারও বিশ্বাস, আইসক্রিম বা চোরাবালির ডিরেক্টর এতো বছর পর চোরাগল্প নিয়া আসতেছেন না নিশ্চয়ই। কিন্তু হাঁটাচলায় আর ডায়লগ ডেলিভারিতে নিশোরে যদি নিশোই লাগে, তাইলে আর দমের গল্পে ঢোকা যাবে না, মনে হবে সুড়ঙ্গ টু দেখতেছি। হায় আল্লাহ খালেদ, এইরকম যেন না হয়!
হুট কইরা বাংলাদেশি ছবির পরিচালকদের এই কেজিএফ, কবির সিং, বা অ্যানিমালের ফরম্যাটে ঢুইকা যাওয়া, মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ আর লম্বা চুলের ফর্মুলা নায়কের হাতে মূলার মতো বন্দুক তুইলা দিয়া বড় অ্যামাউন্টের বক্স অফিস কালেকশন সম্ভব হইলেও, এই উচ্চ ফলনের ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে ভালো কিছুই হবে না। আমার এক বিদেশি বন্ধু একবার "Bangladeshi Hero" লেইখা গুগলে সার্চ করছে, রেজাল্টে আসছে হিরো আলমের ছবি। তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের এই কবির সিং আর কেজিএফমার্কা বড় বন্দুকওয়ালা ছবিগুলা যে ইন্ডিয়ান সিনেমা হিসেবে পরিচিত হইয়া উঠবে না, তার কোনো গ্যারান্টি দেয়া যাইতেছে না। ভাইয়েরা, এখনও সময় আছে, আপনারা বাংলাদেশি সিনেমার ল্যাঙ্গুয়েজ এস্টাবলিশ করেন।

আর দর্শক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান হইতেছে, একটা ইনকমপ্লিট ইন্ডাস্ট্রি থিকা বাইর হওয়া সিনেমাগুলাও যে একেকটা হাফ সিনেমা হইয়া উঠবে, এইটাই বরং স্বাভাবিক। তাই নিজের প্রত্যাশারে সংযত রাইখা, আশারে জাগায়া রাখতে হবে। আমাদের যেহেতু বাংলা সিনেমারে সাপোর্ট কইরা যাওয়া ছাড়া আর কাজ নাই, উৎসবগুলাতে তাই আমরা অপেক্ষাকৃত কম খারাপ সিনেমাগুলারে দেখব। হাফ সিনেমা দেইখা ফুল সাপোর্ট দেব; একদিন ফুল মার্ক পাইয়া পাস করবে—এই ভাইবা বাপ যেমন ফেইল করা পোলারে সাপোর্ট দিয়া যায়, ওইভাবে।

ল্যাংটা শব্দটার মধ্যে একটা অস্বস্তি আছে। একটা মধ্যবিত্ত ট্যাবু আছে। আর ইন্টারনেটের একটা নিয়ম হচ্ছে যেখানে একটু ট্যাবুর গন্ধ আছে, সেইটাই দ্রুত জনপ্রিয় হয়।
১ দিন আগে
বাস্তব দুনিয়া লজিকে চললেও ইন্টারনেটের দুনিয়া তেমন লজিক গুনে না। কিন্তু রেগুলার লাইফে আমরা যে পরিমাণ প্রেশারে থাকি, যত স্ট্রেস আমাদের ওপর দিয়া যায়, তাতে অনেক সময় নেট দুনিয়ার ইলজিক্যাল আর মিনিংলেস ব্যাপারস্যাপার আমাদের স্ট্রেস রিলিফের সুযোগ কইরা দেয়।
৪ দিন আগে
সালটা ২০২১। ঘরের স্পিকারে ফুল ভলিউমে দোজা ক্যাটের ‘বস বিচ’ বাজতেছে । আয়নার সামনে দাঁড়ায়ে আমার বোন চোখে গাঢ় কাজল, আর ঠোঁটে হাই পিগমেন্টেড কালো লিপস্টিক দিয়ে সাজগোজ করছে। মা একবার রুমে উঁকি দিয়ে খুবই বিরক্ত স্বরে জিজ্ঞেস বললেন, ‘ঠোঁট কেন কালা হবে?’
৭ দিন আগে
মাহবুব-এ-খোদা। দেওয়ানবাগী পীর হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত হওয়ার অনেক আগে এটিই ছিল তার নাম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হিস্ট্রিতে তার এন্ট্রিটা কোনোভাবেই অ্যাক্সিডেন্ট ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার কানেকশনের পেছনে ছিল দীর্ঘ পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিজম আর কড়া দেশপ্রেমের দুর্দান্ত স্টোরিলাইন।
১১ দিন আগে