leadT1ad

হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই: তারেক রহমান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নওগাঁ

নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ট্রিম ছবি

গত ১৭ বছর দেশে থাকতে পারেননি উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যেখানে যাই সবাই বিভিন্ন বিষয়ে আবদার করে। তবে হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরের জেলা নওগাঁয় এসেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়নি। আমরা গ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদ পথেঘাটে হাঁটতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে। ঢাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি।

কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষকদের ভালো রাখলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য শহীদ জিয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করে দেব। দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। যা দিয়ে ফসলের যাবতীয় বীজ ও সার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। এতে তাঁদের অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারবেন।

কৃষকদের খরচ কমাতে ফসল ঢাকায় নিতে রেল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাতে ট্রেনে চড়ে মানুষ সহজে ঢাকা যেতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পরের দিন থেকেই এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করা হবে।

নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে একটি সুবিধা দেওয়া হবে। গ্রামগঞ্জের মায়েরা ভালো চিকিৎসাসেবা পান না। এ জন্য গ্রামে হেলথ কেয়ার সেন্টার করা হবে। এতে ছোটখাটো অসুখ ঘরে বসেই নিরাময় করা সম্ভব হবে।

শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, লেখাপড়া করলেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়, খেলোয়াড়ও হওয়া যেতে পারে। এ জন্য স্কুল থেকে খেলাধুলা শিখতে হবে। এর মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জন ও আয় করা সম্ভব। সারা দেশে প্রচুর শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আছে। যেহেতু এটি কৃষি অঞ্চল এবং কলকারখানা আছে, তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করলে তাঁদের কর্মসংস্থান বাড়বে। আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সাথে কথা হয়েছে, তারা দেশে আসতে চায়। সেখানে আইটি অভিজ্ঞরা কাজ করতে পারবেন।

ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের প্রতি মাসে সম্মানী দেওয়া হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করা হলে দাবিগুলো আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।

জুলাই-আগস্টে যারা গুম ও খুনের শিকার এবং আহত হয়েছেন, তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। এক পক্ষ চলে গেছে, আরেক পক্ষ আছে। এ জন্য ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট শুরু হলেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে তারেক রহমান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন। এরপর তিনি বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক সনি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন। এ সময় সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু, নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজ রহমান, নওগাঁ-২ আসনের ডা. শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের ডা. ইকরামুল বারী টিপু বক্তব্য দেন। এ ছাড়া নওগাঁ-৫ আসনের জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, জয়পুরহাট-১ আসনের মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের আব্দুল বারী বক্তব্য দেন।

এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মীয়স্বজন এবং আহতরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত