সালেহ ফুয়াদ

রংপুর থেকে মিরপুর। দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার হলেও ঘুচে গেছে বিজয়ে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে জয় পেয়েছেন অধ্যাপক রায়হান সিরাজী। ৮০ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী রায়হান জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি। অন্যদিকে তাঁর দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান জিতেছেন মিরপুর এলাকার ঢাকা-১৫ আসনে জিতেছেন ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে।
এককভাবে জামায়াত ৬৮ আসনে জয় পেয়েছে, যা দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জোটগতভাবে ৭৭ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এই জোট সর্বাধিক আসন পেয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। অর্থাৎ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলায়। সবচেয়ে কম আসন পেয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে।
রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ১৭টি পেয়েছে জামায়াত। আর খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের ২৫টিই নিয়েছেন দলটির নেতারা। রংপুর বিভাগের আট জেলার চারটির সবগুলো এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার তিনটিতে একচেটিয়া জয় পেয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। নির্দিষ্ট অঞ্চলে একচেটিয়া জয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ অঞ্চলভেদে জামায়াতের ভালো ফলাফলের পেছনে একক কোনো কারণ দেখছেন না। তাঁর মতে, রংপুরে জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিন প্রভাব ছিল। আবার তারাই রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করেছে। এই সুযোগে জামায়াত সেখানে শক্তি বৃদ্ধি করেছে। রংপুরের ভোটই দলটির প্রকৃত ভোট।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত যেসব আসনে একচেটিয়া ভোট পেয়েছে, সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল প্রকট। প্রতিটি আসনেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে গেছে কয়েকটি বাক্সে। আবার ওই অঞ্চলে জামায়াতজোটে তেমন বিদ্রোহী না থাকায় ভোট পড়েছে এক বাক্সে।
সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে তুলনামূলক কম আসন পাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে আলতাফ পারভেজ স্ট্রিমকে বলেন, সিলেট-চট্টগ্রামে সামাজিক শান্তি রয়েছে। একইভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কম থাকায় ভোট ভাগ হয়েছে সামান্য। তাছাড়া ওই অঞ্চলের মানুষের ইসলাম নিয়ে নিজস্ব বোঝাপড়া রয়েছে।
জামায়াতজোট রাজধানীতেও দাপট দেখিয়েছে। রাজধানীর ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বাকি আসন পেয়েছে বিএনপি।
ঢাকা জেলার সংসদীয় আসন ২০টি। এর মধ্যে ১৫টি রাজধানীতে। রাজধানীর প্রায় অর্ধেক অংশের ভোট জামায়াত-এনসিপির বাক্সে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাজা স্মৃতি। তবে আলতাফ পারভেজের মতে, রাজধানীতেও জামায়াতের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি সাংগঠনিক ভোটের বাইরে মূলত বিভিন্ন নিম্নআয়ের পেশাজীবীরা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
রংপুর ও খুলনা বিভাগে ৪২
রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ১৭টিতে জামায়াত ও এনসিপি জিতেছে দুটিতে। একটি স্বতন্ত্র ও বাকি ১৩ আসন পেয়েছে বিএনপি। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিভাগের আট জেলার চারটির সবগুলো আসনেই একচেটিয়া জয় পেয়েছে জামায়াতজোট।
একইভাবে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে জামায়াত। ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টিই জিতেছে তারা। এ বিভাগে বিএনপি পেয়েছে ১১টি আসন। বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে একচেটিয়া তিনটি জেলার সব আসন জিতেছে জামায়াত।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে তিন তথা সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সবকটি আসন পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা। যশোরের ছয় আসনের পাঁচটি এবং কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও বাগেরহাটের প্রতিটির চার আসনের মধ্যে তিনটি করে পেয়েছে জামায়াত।
রাজধানীতেও অর্ধেক হিস্যা
উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছাড়াও জামায়াত চমক দেখিয়েছে রাজধানীতে। রাজধানীর ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল– জামায়াত ও এনসিপি। বাকি আসনে জয়ী বিএনপি।
ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে ঢাকা-১ আসন দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। শুধু কেরানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩। সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে ঢাকা-১৯ এবং ধামরাই উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২০। এই পাঁচটি ছাড়া সবগুলো রাজধানীতে।
রাজধানীতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম মিলন, ঢাকা-১৪ আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুর রহমান ও ঢাকা-১৬ আসনে আব্দুল বাতেন বিজয়ী হয়েছেন।
রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর অংশের পুরোটাই পড়েছে ঢাকা-১৪, ১৫ ও ১৬ আসনের ভেতর। এই অঞ্চলের পুরোটাই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সংসদ সদস্যদের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে জয়ী হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
স্বল্প ব্যবধানে হাতছাড়া ৩ আসন
রাজধানীর তিনটি আসন নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। এগুলো হলো ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৭। তিনটি আসনেই হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে আসনগুলোতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা হেরে গেছেন। অবশ্য শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে ৩০টি আসনের ফলাফল স্থগিতের আবেদন করেছে জামায়াত। এই তিনটি ছাড়াও ঢাকা-৬ আসন রয়েছে। ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে এসব আসনে বিজয়ীদের শপথপাঠ না করানোর দাবি জানিয়েছে দলটি।
মির্জা আব্বাস-নাসীরুদ্দীন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ আনেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যলয়ের তথ্যে, ১০৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টালসহ ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি পোস্টালসহ ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। এখনো একটি কেন্দ্রের গণনা বাকি।
অল্প ব্যবধানে মামুনুল হকের পরাজয়
ঢাকা-১৩ আসনে মাত্র ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়ে জয় পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের ববি হাজ্জাজ। তাঁর ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোটের বিপরীতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি। নির্বাচনের দিন গভীর রাতে মামুনুল হক তাঁর আসনে বাতিল হওয়া ২ হাজার ৩০০ ভোট নিজের দাবি করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। পরে একই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও যান তিনি। আজ শনিবারও একই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন মামুনুল হক।
তারেক রহমানের সঙ্গে স্বল্প ব্যবধানে পরাজয়
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. এসএম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানী জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান।
এই তিনটি আসনে জয় পেলে রাজধানীতে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা হতো বিএনপি জোটের চেয়েও বেশি। ভোটের ব্যবধান বলে দিচ্ছে রাজধানীতে দুই জোটের লড়াই হয়েছে সমানে সমান।
গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও (চট্টগ্রাম-২, ৪) বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। এছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন।

রংপুর থেকে মিরপুর। দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার হলেও ঘুচে গেছে বিজয়ে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে জয় পেয়েছেন অধ্যাপক রায়হান সিরাজী। ৮০ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী রায়হান জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি। অন্যদিকে তাঁর দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান জিতেছেন মিরপুর এলাকার ঢাকা-১৫ আসনে জিতেছেন ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে।
এককভাবে জামায়াত ৬৮ আসনে জয় পেয়েছে, যা দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জোটগতভাবে ৭৭ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এই জোট সর্বাধিক আসন পেয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। অর্থাৎ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলায়। সবচেয়ে কম আসন পেয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে।
রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ১৭টি পেয়েছে জামায়াত। আর খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের ২৫টিই নিয়েছেন দলটির নেতারা। রংপুর বিভাগের আট জেলার চারটির সবগুলো এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার তিনটিতে একচেটিয়া জয় পেয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। নির্দিষ্ট অঞ্চলে একচেটিয়া জয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ অঞ্চলভেদে জামায়াতের ভালো ফলাফলের পেছনে একক কোনো কারণ দেখছেন না। তাঁর মতে, রংপুরে জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিন প্রভাব ছিল। আবার তারাই রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করেছে। এই সুযোগে জামায়াত সেখানে শক্তি বৃদ্ধি করেছে। রংপুরের ভোটই দলটির প্রকৃত ভোট।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত যেসব আসনে একচেটিয়া ভোট পেয়েছে, সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল প্রকট। প্রতিটি আসনেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে গেছে কয়েকটি বাক্সে। আবার ওই অঞ্চলে জামায়াতজোটে তেমন বিদ্রোহী না থাকায় ভোট পড়েছে এক বাক্সে।
সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে তুলনামূলক কম আসন পাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে আলতাফ পারভেজ স্ট্রিমকে বলেন, সিলেট-চট্টগ্রামে সামাজিক শান্তি রয়েছে। একইভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কম থাকায় ভোট ভাগ হয়েছে সামান্য। তাছাড়া ওই অঞ্চলের মানুষের ইসলাম নিয়ে নিজস্ব বোঝাপড়া রয়েছে।
জামায়াতজোট রাজধানীতেও দাপট দেখিয়েছে। রাজধানীর ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বাকি আসন পেয়েছে বিএনপি।
ঢাকা জেলার সংসদীয় আসন ২০টি। এর মধ্যে ১৫টি রাজধানীতে। রাজধানীর প্রায় অর্ধেক অংশের ভোট জামায়াত-এনসিপির বাক্সে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাজা স্মৃতি। তবে আলতাফ পারভেজের মতে, রাজধানীতেও জামায়াতের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি সাংগঠনিক ভোটের বাইরে মূলত বিভিন্ন নিম্নআয়ের পেশাজীবীরা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
রংপুর ও খুলনা বিভাগে ৪২
রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ১৭টিতে জামায়াত ও এনসিপি জিতেছে দুটিতে। একটি স্বতন্ত্র ও বাকি ১৩ আসন পেয়েছে বিএনপি। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিভাগের আট জেলার চারটির সবগুলো আসনেই একচেটিয়া জয় পেয়েছে জামায়াতজোট।
একইভাবে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে জামায়াত। ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টিই জিতেছে তারা। এ বিভাগে বিএনপি পেয়েছে ১১টি আসন। বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে একচেটিয়া তিনটি জেলার সব আসন জিতেছে জামায়াত।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে তিন তথা সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সবকটি আসন পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা। যশোরের ছয় আসনের পাঁচটি এবং কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও বাগেরহাটের প্রতিটির চার আসনের মধ্যে তিনটি করে পেয়েছে জামায়াত।
রাজধানীতেও অর্ধেক হিস্যা
উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছাড়াও জামায়াত চমক দেখিয়েছে রাজধানীতে। রাজধানীর ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল– জামায়াত ও এনসিপি। বাকি আসনে জয়ী বিএনপি।
ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে ঢাকা-১ আসন দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। শুধু কেরানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩। সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে ঢাকা-১৯ এবং ধামরাই উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২০। এই পাঁচটি ছাড়া সবগুলো রাজধানীতে।
রাজধানীতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম মিলন, ঢাকা-১৪ আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুর রহমান ও ঢাকা-১৬ আসনে আব্দুল বাতেন বিজয়ী হয়েছেন।
রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর অংশের পুরোটাই পড়েছে ঢাকা-১৪, ১৫ ও ১৬ আসনের ভেতর। এই অঞ্চলের পুরোটাই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সংসদ সদস্যদের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে জয়ী হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
স্বল্প ব্যবধানে হাতছাড়া ৩ আসন
রাজধানীর তিনটি আসন নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। এগুলো হলো ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৭। তিনটি আসনেই হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে আসনগুলোতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা হেরে গেছেন। অবশ্য শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে ৩০টি আসনের ফলাফল স্থগিতের আবেদন করেছে জামায়াত। এই তিনটি ছাড়াও ঢাকা-৬ আসন রয়েছে। ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে এসব আসনে বিজয়ীদের শপথপাঠ না করানোর দাবি জানিয়েছে দলটি।
মির্জা আব্বাস-নাসীরুদ্দীন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ আনেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যলয়ের তথ্যে, ১০৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টালসহ ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি পোস্টালসহ ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। এখনো একটি কেন্দ্রের গণনা বাকি।
অল্প ব্যবধানে মামুনুল হকের পরাজয়
ঢাকা-১৩ আসনে মাত্র ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়ে জয় পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের ববি হাজ্জাজ। তাঁর ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোটের বিপরীতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি। নির্বাচনের দিন গভীর রাতে মামুনুল হক তাঁর আসনে বাতিল হওয়া ২ হাজার ৩০০ ভোট নিজের দাবি করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। পরে একই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও যান তিনি। আজ শনিবারও একই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন মামুনুল হক।
তারেক রহমানের সঙ্গে স্বল্প ব্যবধানে পরাজয়
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. এসএম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানী জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান।
এই তিনটি আসনে জয় পেলে রাজধানীতে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা হতো বিএনপি জোটের চেয়েও বেশি। ভোটের ব্যবধান বলে দিচ্ছে রাজধানীতে দুই জোটের লড়াই হয়েছে সমানে সমান।
গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও (চট্টগ্রাম-২, ৪) বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। এছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে ১০০ আসন নির্ধারিত হবে এবং এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনে বিজয়ী ২৯৬ প্রার্থীর মধ্যে ২১৮ জনই পেশায় ব্যবসায়ী; শতাংশের হিসাবে যা ৭৩ দশমিক ৬৫। আর পেশায় রাজনীতিবিদ মাত্র ১১ জন (৩ দশমিক ৭১ শতাংশ)। নির্বাচিতদের মধ্যে ব্যবসায়ী ২১৮, আইনজীবী ৩৯, শিক্ষকতা পেশার ২৫ ও চিকিৎসক ১৩ জন।
২ ঘণ্টা আগে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
২ ঘণ্টা আগে
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি নির্বাচনী মাঠের প্রতিপক্ষ দুই নেতার সঙ্গে দেখা করবেন।
৩ ঘণ্টা আগে