জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বসন্তে মনের রসায়ন, বলে দিন ‘ভালোবাসি’

আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। বসন্তে প্রকৃতিতে ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়? আর বসন্তের সঙ্গে মনের কোনো সম্পর্ক আছে কি?

গায়ে মাখুন বসন্তের মাতাল সমীরণ। সংগৃহীত ছবি

‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিলো নেশা, কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে..’

কিছুক্ষণ আগেই আপন মনে গুনগুন করছিলাম গানের কলি। বসন্ত আসলেই চারপাশটা আরও বেশি রঙিন লাগে, মনের মধ্যে সুখ সুখ অনুভূতি কাজ করে। মনে প্রশ্ন জাগলো, বসন্ত আসলেই ‘বুকের মধ্যে সুখের মতো ব্যথা’ কি আমার একার হয় নাকি বসন্তকালে সবার মনেই ফাগুন লাগে? বসন্তে প্রকৃতিতে ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়? আর বসন্তের সঙ্গে মনের কোনো সম্পর্ক আছে কি?

‘ফাগুন লেগেছে বনে বনে’

শীতের রুক্ষতা যখন বিদায় নেয়, তখন প্রকৃতি যেন এক দীর্ঘ ঘুম থেকে জেগে ওঠে। বসন্তের আগমনের সবচেয়ে বড় বার্তাটি আসে প্রকৃতির মাধ্যমে। কদিন আগেও যে গাছটি ছিল পাতাশূন্য, রুগ্ন কঙ্কালের মতো, ফাল্গুনের স্পর্শে তাতে কচি পাতা গজাতে শুরু করে। তবে বসন্তের আসল রূপ দেখা যায় পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার ডালে। দিগন্তজোড়া এসব ফুলের রঙ দেখলে মনে হয় প্রকৃতি যেন আবির মেখে হোলি খেলতে নেমেছে। শহরের যান্ত্রিকতা ভেদ করে যখন কোনো পার্কের কোণ থেকে কোকিলের ‘কুহু কুহু’ ডাক ভেসে আসে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে বসন্ত এসে গেছে।

শীতের হিমেল বাতাসের পরিবর্তে দখিনা বাতাস বইতে থাকে চারপাশে। সেই বাতাসে থাকে আমের মুকুলের গন্ধ, থাকে হৃদয় জোড়ানো মিষ্টি অনুভূতি। বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম যথার্থই লিখেছেন, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ, আমার বাড়ি আসে।’

দখিনা বাতাসের সঙ্গে মৌমাছিদের গুঞ্জন আর রঙিন প্রজাপতির উড়াউড়ি দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতি পরিবর্তনের সঙ্গে মনের সম্পর্ক

প্রকৃতির সঙ্গে মনের সম্পর্ক গভীর। আমরা অনেকেই ভাবি, বসন্ত এলে মন ভালো হওয়ার বিষয়টি বুঝি শুধুই কবির কল্পনা। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকে বলে আমাদের মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামক হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, যা আমাদের মনকে কিছুটা বিষণ্ন বা অলস করে রাখে। একে বলা হয় ‘উইন্টার ব্লুজ’।

শীতের হিমেল বাতাসের পরিবর্তে দখিনা বাতাস বইতে থাকে চারপাশে। সেই বাতাসে থাকে আমের মুকুলের গন্ধ, থাকে হৃদয় জোড়ানো মিষ্টি অনুভূতি। বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম যথার্থই লিখেছেন, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ, আমার বাড়ি আসে।’

কিন্তু বসন্তের আগমনে যখন দিন বড় হতে শুরু করে এবং উজ্জ্বল সোনালি রোদ আমাদের ত্বকে লাগে, তখন মস্তিষ্কে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয় নতুন দিনের। ঝরা পাতা যেমন নতুন পাতাকে জায়গা করে দেয়, তেমনি আমাদের মনও পুরোনো দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুনের আহবানে মেতে ওঠে।

বসন্তকালে মানুষ কি রোমান্টিক হয়ে ওঠে

রবিঠাকুর লিখেছেন, ‘প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।’

এই রঙিন বসন্তকাল আসলে ভালোবাসার মরসুম। বসন্তে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকার কারণে মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পছন্দ করে। পার্কে হাঁটা, রেস্তোরাঁয় বসা বা রিকশায় হুড ফেলে ঘোরা—এই কাজগুলো বসন্তেই সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য লাগে। তাছাড়া ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন একই দিনে হওয়ায় চারপাশে একটি ‘রোমান্টিক আবহ’ তৈরি হয়ে থাকে। চারদিকে যুগলদের হাঁটাচলা, রঙিন ফুলের ছড়াছড়ি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে একজন নিরাবেগ মানুষের মনও জেগে উঠতে পারে।

বসন্ত যখন এসেছে ফুল ফুটবেই। তাই আজকের এই বিশেষ দিনে ঘরে বসে না থেকে পা রাখুন ঘরের বাইরে, গায়ে মাখুন বসন্তের মাতাল সমীরণ আর মনের মানুষকে বলে দিন, ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি’।

Ad 300x250

সম্পর্কিত