জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নির্বাচিত ৭৪ শতাংশের পেশা ব্যবসা, রাজনীতি ৩.৭১

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ১৪
স্ট্রিম গ্রাফিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনে বিজয়ী ২৯৬ প্রার্থীর মধ্যে ২১৮ জনই পেশায় ব্যবসায়ী; শতাংশের হিসাবে যা ৭৩ দশমিক ৬৫। আর পেশায় রাজনীতিবিদ মাত্র ১১ জন (৩ দশমিক ৭১ শতাংশ)। নির্বাচিতদের মধ্যে ব্যবসায়ী ২১৮, আইনজীবী ৩৯, শিক্ষকতা পেশার ২৫ ও চিকিৎসক ১৩ জন। এর সঙ্গে অন্যান্য পেশার রয়েছেন ৮জন। বেশ কয়েকজন একাধিক পেশার কথা উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া নির্বাচিত প্রার্থীদের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এ দলটির ১৮১ জন নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসা। অর্থাৎ, সরকার গঠন করতে যাওয়া এ দলটির সংসদ সদস্যদের ৮৬ দশমিক ৬০ শতাংশই ব্যবসায়ী।

বিএনপির নির্বাচিতদের মধ্যে আইনজীবী ১৮, চিকিৎসক ৫ এবং শুধু রাজনীতি পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৩ জন। তাঁরা হলেন তারেক রহমান, এস কে আজিজুল বারী হেলাল, এহসানুল হক মিলন। আর অন্য পেশার পাশাপাশি রাজনীতিও উল্লেখ করেছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ, মঈনুল ইসলাম খান ও আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জনের মধ্যে শিক্ষকতা পেশার আধিক্য দেখা গেছে। জামায়াতের নির্বাচিতদের মধ্যে পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করেছেন সর্বোচ্চ ২৬ জন। পেশা হিসেবে ব্যবসা ২৪ জন, আইনজীবী আটজন এবং রাজনীতি উল্লেখ করেছেন তিনজন। বাকি চারজন অন্যান্য পেশার। অর্থাৎ, দলটির নির্বাচিতদের ৩৮ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষকতা পেশার, ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ ব্যবসায়ী, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ আইনজীবী, ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ করে রাজনীতিক ও চিকিৎসক।

রাজনীতি পেশা হিসেবে উল্লেখ করা জামায়াতের ৩ নির্বাচিত প্রার্থী হলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম খান। এর মধ্যে রফিকুল ইসলাম ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর বাইরে বিএনপি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ পেশা হিসেবে আইন ও ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতির কথাও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য পদে জয়ী ৬ জনের ৩ জন ব্যবসায়ী, আইনজীবী দুইজন ও পরামর্শক একজন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত ১৪ জনের ১০ জন ব্যবসায়ী, ২ জন আইনজীবী ও অন্যান্য পেশার ২ জন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিগত নির্বাচনগুলোর জয়ী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সুজনের তথ্য বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০০ জনের (৬৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ) পেশা ছিল ব্যবসায়ী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ছিলেন ১৮৫ জন বা মোট সংসদ সদস্যের ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া দ্বাদশ, একাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়াসহ ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ আছে। তবে এর আগে হওয়া ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ীদের ৫৯ শতাংশ ব্যবসা তাঁদের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ, গত কয়েকটি নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের হলফনামার তুলনামূলক চিত্র বলছে, সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলফনামায় প্রার্থীদের তথ্য গোপনের প্রবণতা থাকে। নির্বাচন কমিশন থেকেও যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় না। এর পরেও এসব হলফনামা থেকে পাওয়া তথ্যের পরিসংখ্যান যখন বলে যে এক-চতুর্থাংশ সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী, রাজনীতি যে ব্যবসায়ীদের হাতে—এটি এমনই বার্তা দেয়।

সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার স্ট্রিমকে বলেন, ‘কেউ কেউ হলফনামায় পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করলেও তাদেরও অনেকে আসলে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী না হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা ব্যবসায়ী হয়ে যান। কারণ, তখন তারা নানা সুযোগ-সুবিধা পান; যার ফলে নিজে, পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনরা ব্যবসা শুরু করেন। এর কারণে দিন দিন রাজনীতিতে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে।’

বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, আমরা দেখেছি, ক্ষমতায় থাকাকালে এমপিদের আয় ও সম্পদ হু-হু করে বেড়ে যায়। রাজনীতি এখন আর জনকল্যাণ নেই, হয়ে গেছে নিজের কল্যাণ, পরিবারের কল্যাণ। হলফনামায় তথ্য গোপন ও ভুল তথ্য দেওয়ার পরেও যে চিত্র উঠে আসছে সেটি ভালো বার্তা দেয় না।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত