leadT1ad

দুটি আসনের ব্যালট থেকে দাঁড়িপাল্লা সরাতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ১০
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় মনোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুইটি আসন থেকে নিজেদের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ সরাতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন দুটি হলো নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮।

১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের সমর্থন দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

গত ২৩ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই অনুরোধ জানান।

নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মো. আমজাদ হোসাইন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে ছিলেন মো. আবু নাসের। তবে ১০ দলীয় (বর্তমানে ১১ দল) নির্বাচনি ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুটি আসন এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, নরসিংদী-২ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষার এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জামায়াতের দুই প্রার্থী যথাসময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে ওই দুই আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

এদিকে, নরসিংদী-২ আসনে এনসিপি ও জোট মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, নরসিংদী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে তাঁকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমজাদ হোসাইন দলীয় নির্দেশনায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাইলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে তা সম্ভব হয়নি, ফলে রিটার্নিং অফিসার তাঁকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

সারোয়ার তুষার লেখেন, ‘১১ দলীয় জোটের “একবাক্স নীতি”র প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, নরসিংদী-২ আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী আমি। ব্যালট পেপারে যেন দাঁড়িপাল্লা না থাকে, সে লক্ষ্যে কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

জোটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার রাখায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসির পদক্ষেপে নির্বাচনি জটিলতার অবসান ঘটবে।

১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শরিক হিসেবে অংশ নিচ্ছে এনসিপি। নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী, এনসিপির ৩০টি আসনে লড়ার কথা। এর মধ্যে ২৯টি আসনে এককভাবে এবং একটি আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার শর্তে দলটি রাজি হয়েছিল।

তবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এনসিপির জন্য নির্ধারিত ২৯টি একক আসনের মধ্যে ১২টিতেই জোটের অন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। উন্মুক্ত আসনসহ মোট ১৩টি আসনে জোটসঙ্গীদের প্রার্থিতা বহাল রয়েছে।

আসনগুলোর মধ্যে ছিল- চট্টগ্রাম-৮ ও নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এবি পার্টি, ঢাকা-২০ আসনে খেলাফত মজলিস এবং রাজবাড়ী-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

অন্যদিকে, পঞ্চগড়-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং রংপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী রেখেছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনে এবি পার্টি, ঢাকা-১৯ আসনে এলডিপি, কুমিল্লা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস এবং নেত্রকোনা-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি।

এদিকে, এনসিপির দুজন প্রার্থীও জোটের জন্য নির্ধারিত আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এর মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুর-১ ও শেরপুর-১ আসন। শরীয়তপুর-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং শেরপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত