leadT1ad

ঢাকা-৪

ভাগাড়ে বসে মিজানের ইশতেহার, ‘গলিসমাজ’ গঠনের অঙ্গীকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২১
ভাগাড়ে বসে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন মিজানুর রহমান। সংগৃহীত ছবি

মিজানুর রহমান, পুরোনো ঢাকার পরিচিত মুখ। নাগরিক সমস্যা সমাধানে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি করতে গিয়ে হয়েছেন নির্যাতিত। আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহার দিয়ে আবার আলোচনায় এলেন ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী-যাত্রাবাড়ী আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে জুরাইন দয়াগঞ্জের মুন্সীবাড়ী এলাকায় ময়লার ভাগাড়ের সামনে বসে ইশতেহার ঘোষণা করেন মিজানুর রহমান। নিজেকে ‘নাগরিক সেবাবঞ্চিত ভুক্তভোগী মানুষের প্রার্থী’ পরিচয় দিয়ে নির্বাচিত হলে তিনি মহল্লাসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার কথা জানান।

মিজানুর রহমান বলেন, গলির ভুক্তভোগী জনগণকে নিয়ে ‘গলিসমাজ’ গঠনের মাধ্যমে নাগরিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে জবাদিহি কাঠামো গড়ে তুলব। অনিয়ন্ত্রিত ময়লার ভাগাড়ের সামনে বসে ইশতেহার ঘোষণার বিষয়ে ফুটবল মার্কার এই প্রার্থী জানান, ঢাকা-৪ আসনের পুরোটা এক অর্থে দখল-দূষণ আবর্জনায় ভরপুর। সেই অসহনীয় জীবনব্যবস্থা দেখাতে এবং এই অবস্থা পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রতীকী হিসেবে জায়গাটি বেছে নিয়েছেন তিনি।

মিজানুর ইশতেহারে সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য এমপি হটলাইন ও ওয়েবসাইট চালুর কথা জানান। জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রমাগত রাস্তা উঁচু করে মানুষের বাসাবাড়ি-দোকানপাট বৃষ্টির পানিতে ডোবানোর ভ্রান্ত উন্নয়নের বদলে সহজ, টেকসই পদ্ধতি ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইতোপূর্বে ঢাকা ওয়াসার ‘সুপেয়’ পানি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানকে শরবত খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা মিজানুর রহমান পানিসংকট নিয়ে স্থানীয় বিশেষ সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা এবং বিলের বিপরীতে সেবা দিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াসাকে বাধ্য করা; গ্যাস বৈষম্য বন্ধ করতে তিতাসকে বাধ্য এবং সরাসরি এলপিজি প্রোভাইডারের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডারের ট্রাক আনার মাধ্যমে এলাকায় ন্যায্যমূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।

নিজ আসনের জনগণের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য তিনি জনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা জানান মিজানুর। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার খেলার মাঠ এবং ঘোষিত স্পর্শকাতর স্থাপনা ছাড়া বাকি সব সরকারি স্থাপনার উন্মুক্ত পরিসরকে বিকেল ও ছুটির দিনে খেলাসহ অবসর কাটানোর জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া রেললাইন ধরে দুই পাশের উন্মুক্ত স্থানে লক্ষাধিক ছায়াপ্রদানকারী দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর কথা ইশতেহার উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি পতিত জমিতে কিংবা এলাকার যেকোনো ফাঁকা স্থানে মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে ছোট ছোট শহুরে বন তৈরি করার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান মিজানুর রহমান।

এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোকে মেরামত করা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া, গণপাঠাগার তৈরি, নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নারী নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক, হকার-টংদোকানদার উচ্ছেদ নয়, সুশৃংখল ব্যবস্থায় আনাসহ নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে মিজানুর রহমানের ইশতেহারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত