
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে সব ধর্ম, সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের সমান জায়গা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি।
মঙ্গলবার সকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে দর্শন দিয়েছেন, তার মধ্যে দেশের প্রতিটি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের স্থান রয়েছে। এই দর্শনের ভিত্তিতে প্রত্যেকেই গর্বের সঙ্গে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন।’
তিনি বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে, হাজার বছর ধরে একই সমাজে, একই গ্রামে ও একই মহল্লায় বসবাস করেছি। এই দীর্ঘ সহাবস্থানই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে।
বিভিন্ন সময়ে নানা শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারী এই বন্ধন নষ্ট করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তবে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে দেশের মানুষ একসঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে, ঈদ-মিলাদুন্নবীতে অংশগ্রহণ করি এবং প্রত্যেকেই সেই উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিই।’ এই সম্প্রীতির বন্ধন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, দলে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারাও রয়েছেন। তবে তাঁরা বিএনপিতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, জাতীয় পর্যায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিজভী বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয় বিএনপির একটি বৈশিষ্ট্য। এই বৈচিত্র্যকে ধরে রেখে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।







