leadT1ad

তারেক রহমানকে পেয়ে আপ্লুত শহীদ আবু সাঈদের বাবা, চাইলেন ছেলে হত্যার বিচার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি কবর জিয়ারত করেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান পীরগঞ্জে পৌঁছান। পরে আবু সাঈদের কবরের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিনি দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।

তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে আপ্লুত শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা তারেক রহমানের কাছে আবু সাঈদ হত্যার বিচার দাবি করেন। কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদের বাড়িতে যান। উঠানে বসে শহীদের মা-বাবা, ভাই-বোনসহ স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সঙ্গে প্রায় ১৭ মিনিট সময় কাটান তারেক রহমান।

শহীদ আবু সাঈদের বাড়ির উঠানে বসে স্বজনের সঙ্গে আলাপ করছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
শহীদ আবু সাঈদের বাড়ির উঠানে বসে স্বজনের সঙ্গে আলাপ করছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আবু সাঈদের বাবা পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, আবু সাঈদ হত্যার যেন সঠিক বিচার হয়, আমরা তারেক রহমানের কাছে সেই দাবি জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি দাবি জানাইছি– আমার ছেলে প্রথম শহীদ, আমার ছেলে হত্যার কড়াকড়ি বিচার যেন করা হয়। আরও যারা শহীদ হইছে, তাদের হত্যার বিচারও যেন করা হয়। যেগুলা পঙ্গু, অবহেলিত আছে, সেইলারও যেন পাশে থাকা হয়।’

মকবুল হোসেন আরও বলেন, তারেক রহমানকে বলেছি– পীরগঞ্জের মধ্যে একটা মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে দাও। আর একটা কলকারখানা। কারণ এই জায়গার মধ্যে অবহেলিত মানুষ কর্ম করবার জায়গা পায় না। এগুলা যেন কর্মসংস্থান একটা হয়। তিনি (তারেক রহমান) বলেছেন– ‘যদি ক্ষমতায় যেতে পারি, তাহলে করব’।

তারেক রহমানের আগমনে আবু সাঈদের কবরস্থল ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পীরগঞ্জে স্থানীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ জড়ো হন।

আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, ‘আমাদের কিছু দাবি আছে। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। কর্মসংস্থানের অভাব, বেকারত্ব। এখান থেকে রংপুর ৫০ কিলোমিটার, আমাদের এখানে একটা মেডিকেল কলেজ দরকার। রংপুরে একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তারেক রহমানের কাছে আমরা এসব বলেছি।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে, তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ জুলাই আন্দোলনে থাকা রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। প্রথম গুলি লাগার পরও বুক চিতিয়ে লড়ে যান তিনি। পরে দুই হাত প্রসারিত করে গুলির সামনে আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন ভিন্ন মোড় নেয়। এক পর্যায়ে ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত