ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা। দীর্ঘ সড়ক পথের বিড়ম্বনায় এই জনপদের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীমুখী হন। তবে সেখানে যাতায়াতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেঘনা নদী, যেখানে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ফেরি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাই বাঞ্ছারামপুরবাসীর প্রধান দাবি—মেঘনা নদীতে একটি স্থায়ী সেতু। ভোটারদের মতে, এই সেতুটি নির্মিত হলে ভুলতা-আড়াইহাজারের মতো বাঞ্ছারামপুরেও শিল্পায়নের জোয়ার আসবে এবং পাল্টে যাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মধ্যে ৩ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘তৃতীয় মেঘনা সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা বিগত সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। জাপান ও চীনের অর্থায়নে এটি হওয়ার কথা থাকলেও পটপরিবর্তনের পর কাজ অনেকটা থমকে গেছে। সেতুটি হলে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটের বিকল্প রুট তৈরি হবে এবং চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ২৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে, ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার ভুলতা-বাঞ্ছারামপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হলেও বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা সদরের স্কুলশিক্ষক সৈয়দ ওসমান গনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশেই নদী। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুটি হয়ে গেলে জেলা সদরে যাওয়ার চেয়ে ঢাকা যাওয়া অনেক সহজ হবে।’
আসমা জাহান নামের আরেক ভোটার বলেন, ‘রাস্তাঘাটের উন্নয়ন অনেকদিন ধরে বন্ধ। এবার যিনি নির্বাচিত হবেন তাকে সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে এবং নারী শিক্ষায় নজর দিতে হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীরা এই সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে তাদের প্রধান ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বিএনপি জোটের প্রার্থী এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুরকে বড় বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মেঘনা সেতু হলে ঢাকার দূরত্ব হবে মাত্র দেড় ঘণ্টা। বিদেশে যারা আছেন তারা এখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং মরিচাকান্দিতে বড় শিল্প এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
জামায়াত প্রার্থী মো. মহসিন জানান, তিনি নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষনন্দী-কড়ইঘাটের মধ্যে মেঘনা সেতু নির্মাণ করবেন। এছাড়া তিনি ২৫ কিলোমিটার ‘মেরিন ড্রাইভ’ নির্মাণ এবং উপজেলার সরু সড়কগুলো প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন খাঁন জাবেদ বলেন, ‘জয়ী হলে আমরা জনকল্যাণমূলক কাজই আগে করব। আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সংযোগ সেতু নির্মাণসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু কায়েস সিকদার জানান, তাঁর প্রতিশ্রুতি হচ্ছে চারটি। প্রথমত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দ্বিতীয়ত শিক্ষা, তৃতীয়ত শিল্পায়ন এবং সবশেষ কৃষির আধুনিকায়ন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই চারটি কাজ করতে পারলেই বাঞ্ছারামপুরের চিত্র পাল্টে যাবে।
বাঞ্ছারামপুর আসনের ভোটাররা এখন ব্যালটের মাধ্যমে এমন এক নেতৃত্ব বেছে নিতে চান, যিনি কেবল বুলি নয়, বরং মেঘনা সেতুর বাস্তবায়ন ঘটিয়ে এই জনপদের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন।