জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সংসদে ‘সংখ্যালঘু’ সম্প্রদায়ের চার মুখ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ০৯
স্ট্রিম গ্রাফিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপির। এবার নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যা মোট প্রার্থীর ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ঢাকা-৩ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শাহীনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। মাগুরা-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।

পার্বত্য অঞ্চল থেকেও দুজন সংখ্যালঘু প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বান্দরবান আসন থেকে বিএনপির সাচিং প্রু ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ মো. সূজা উদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। সাচিংপ্রু জেরী ১ লাখ ১৫ হাজার ২৯৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

রাঙামাটি আসনে বিএনপির দীপেন দেওয়ান ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে পরাজিত করেন। এবার সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন দীপেন দেওয়ান। ধানের শীষ প্রতীকে দীপেন পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। পহেল চাকমা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২।

নির্বাচনে বিএনপি এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয়জনকে প্রার্থী করে। তাদের পরাজিত দুজন হলেন– বাগেরহাট-১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে। জামায়াতে ইসলামী প্রথমবার খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করে। তিনি অবশ্য হেরে গেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাশকে প্রার্থী করলেও তিনি জিততে পারেননি।

বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো থেকে এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ১৭, বাসদ সাত ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) সাতজনকে প্রার্থী করে। তাদের কেউই জিততে পারেননি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৪, গণসংহতি আন্দোলন ২, গণঅধিকার পরিষদ ২ এবং গণফোরাম ২ জনকে প্রার্থী করেছিল।

বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে ৭ জন নির্বাচনে অংশ নেন। দলটির সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল যশোর-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন। অন্যান্য দলগুলো থেকেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৮ জনকে প্রার্থী করা হয়।

নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ১০ নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বিভিন্ন দলের মনোনীত এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে ৩, বাসদ ২, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২ এবং জাতীয় পার্টি ২ জনকে প্রার্থী করেছিল।

বরিশাল-৫ আসনের পরাজিত প্রার্থী বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী জানান, তিনি নারী বা সংখ্যালঘু পরিচয়ে নয় বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মোট ১২ জন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন– গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত