সেমিনারে বক্তারা

১৮ বিলিয়ন ডলারের ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা বাংলাদেশের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২৩: ১৬
সেমিনারে বক্তব্য দেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ছবি সংগৃহীত

সরকারি নীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের ‘ব্লু ইকোনমির’ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা জানান, গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ, সামুদ্রিক বায়োটেকনোলজি ও সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণে কৌশলগত বিনিয়োগ করা গেলে ব্লু ইকোনমি (সুনীল অর্থনীতি) থেকে বিপুল আয় সম্ভব।

সেমিনারে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ভূমি-কেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল থেকে বেরিয়ে বঙ্গোপসাগরকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মৎস্য, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস ও রপ্তানি একই মূল্য শৃঙ্খলের অংশ। এ খাতের বিকাশে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’

আশিক মাহমুদ আরও জানান, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান মৎস্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম জানান, বর্তমানে সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। তবে সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহারে এই আয় দ্বিগুণ বা তিনগুণ করার সুযোগ রয়েছে।

খুরশেদ আলমের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য, জলবায়ু নিরপেক্ষতা, টেকসই উপকূলীয় জনগোষ্ঠী এবং সমন্বিত সুশাসনের ওপর ভিত্তি করে ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলা উচিত।

খুরশেদ আলম বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা থাকা সত্ত্বেও আমাদের মোট মৎস্য উৎপাদনের মাত্র ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ আসে সামুদ্রিক মৎস্য খাত থেকে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, দেশের প্রচলিত মাছ ধরার নৌযানগুলো উপকূল থেকে মাত্র ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার যেতে পারে।

আধুনিক সমুদ্রগামী জাহাজে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে খুরশেদ আলম বলেন, সমুদ্রসীমায় টুনাসহ আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের বহু মাছের প্রজাতি রয়েছে, যা পর্যাপ্তভাবে আহরণ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার করে ওষুধ, ওমেগা-৩ খাদ্য-পরিপূরক, প্রসাধনী, সামুদ্রিক শৈবাল থেকে অ্যাগার এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব।

আইসল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে খুরশেদ আলম বলেন, মাছের প্রতিটি অংশের ব্যবহার নিশ্চিত করে উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্য ও ওষুধশিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশও রপ্তানি আয় বাড়াতে পারে। এ জন্য তিনি সামুদ্রিক শিল্পে আর্থিক প্রণোদনা, উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ দ্রুত সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সুনীল অর্থনীতিকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর একমত হন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত