স্ট্রিম প্রতিবেদক

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখার সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতি (এমপিএস) প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক কড়াকড়ি নীতি অব্যাহত রেখেছে। এজন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন) নীতিসুদের হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত এই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখা হবে।
এর পরপরই ডিসিসিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর মুদ্রানীতি কার্যকর থাকলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে কমেনি, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ডিসিসিআইয়ের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কড়াকড়ি নীতি প্রয়োগ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এতে শিল্পখাত, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করছে।
সংগঠনটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের নিম্নগতির বিষয়ে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারিখাতের ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের হার এবং ঋণের অতিরিক্ত ব্যয় শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ডিসিসিআই আরও জানায়, একই সময়ে অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ব্রড মানি (এম২) প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের জুনে ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে গত ডিসেম্বরে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনীতিতে মুদ্রা সম্প্রসারণ ঘটছে। ফলে চলমান কঠোর মুদ্রানীতির কার্যকারিতা এবং নীতিগত সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে। ২০২৩ অর্থবছরে যেখানে এ হার ছিল ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, তা কমে ২০২৫ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ডিসিসিআই বলছে, এ ধরনের অকার্যকর মুদ্রানীতি দিয়ে কোনো দেশের পক্ষে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবসম্মত নয়।
রপ্তানি খাতেও এ নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। গত ছয় মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা চেম্বার মনে করে, অতিমাত্রায় কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। সংগঠনটি মনে করে, এতে অর্থনীতির গতি আরও মন্থর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে তারা আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতিসুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবতা-ভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছে।
ডিসিসিআই বলছে, একটি সমন্বিত নীতি কাঠামোর মাধ্যমে রাজস্ব ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয়, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের মাধ্যমেই টেকসই বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখার সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতি (এমপিএস) প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক কড়াকড়ি নীতি অব্যাহত রেখেছে। এজন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন) নীতিসুদের হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত এই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখা হবে।
এর পরপরই ডিসিসিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর মুদ্রানীতি কার্যকর থাকলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে কমেনি, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ডিসিসিআইয়ের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কড়াকড়ি নীতি প্রয়োগ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এতে শিল্পখাত, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করছে।
সংগঠনটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের নিম্নগতির বিষয়ে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারিখাতের ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের হার এবং ঋণের অতিরিক্ত ব্যয় শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ডিসিসিআই আরও জানায়, একই সময়ে অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ব্রড মানি (এম২) প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের জুনে ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে গত ডিসেম্বরে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনীতিতে মুদ্রা সম্প্রসারণ ঘটছে। ফলে চলমান কঠোর মুদ্রানীতির কার্যকারিতা এবং নীতিগত সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে। ২০২৩ অর্থবছরে যেখানে এ হার ছিল ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, তা কমে ২০২৫ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ডিসিসিআই বলছে, এ ধরনের অকার্যকর মুদ্রানীতি দিয়ে কোনো দেশের পক্ষে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবসম্মত নয়।
রপ্তানি খাতেও এ নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। গত ছয় মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা চেম্বার মনে করে, অতিমাত্রায় কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। সংগঠনটি মনে করে, এতে অর্থনীতির গতি আরও মন্থর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে তারা আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতিসুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবতা-ভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছে।
ডিসিসিআই বলছে, একটি সমন্বিত নীতি কাঠামোর মাধ্যমে রাজস্ব ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয়, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের মাধ্যমেই টেকসই বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
.png)

১০ বছরের বেশি সময় আটকে থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শুরু হচ্ছে চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণ কাজ। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে ব্যর্থতায় নতুন করে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ।
১৯ ঘণ্টা আগে
এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২ হাজার ৩২৮ জনকে সনদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে তাদের এই সনদ দেওয়া হয়। বিজিএমইএ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসেট যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
২০ ঘণ্টা আগে
দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
২৫ জুলাই ২০২৬