জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জমে উঠছে ঈদের বেচাবিক্রি, দুই লাখ কোটি টাকার বিক্রির লক্ষ্য ব্যবসায়ীদের

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদ বাজার। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদ বাজার। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে কেনাকাটার আমেজ তৈরি হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের আশাবাদ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চাকরিজীবীদের বেতন-বোনাস ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহের কারণে এবার সারা দেশে ঈদ বাজারের লেনদেন ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা।

নিউমার্কেট ও এলিফেন্ট রোড এলাকা
শবে বরাতের পর থেকেই এই এলাকার ৫ থেকে ৭ হাজার দোকানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলী শামীম বলেন, “এবার সরবরাহ যেমন বেশি, দামও নাগালে। গতবার দাম ৩০ শতাংশ বাড়লেও এবার বেড়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।” কটন গ্যালারির মালিক মো. মাসুম জানান, মাসের শেষ দিকে রোজা শুরু হওয়ায় বিক্রি এখনো কম, তবে আগামী মাসের শুরুতে বেতন-বোনাস হলে বাজার জমে উঠবে।

এলিফেন্ট রোডের সাদিয়া ফ্যাশনের মালিক আমিনুল ইসলাম মনে করেন, ফুটপাতে হকারদের কারণে ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, যা চাঁদাবাজির চেয়েও বড় সমস্যা। গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী আসিফুল আলম এবং চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের হৃদয় আহমেদও একই সুরে বলেন, বিক্রি মাত্র শুরু হয়েছে, তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ভিড় ততই বাড়বে।

গুলিস্তান ও বঙ্গবাজারের চিত্র
গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার (দক্ষিণ) দোকান মালিক সমিতির সেক্রেটারি মো. আকতার হোসেন রানা জানান, অনেক ব্যবসায়ী ঋণ করে মালামাল তুলেছেন। তবে বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডের ৩ বছর পার হলেও নতুন ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় ক্রেতা সংকট কাটেনি। বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম বলেন, “২০২৮ সালে ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা, ততদিন পর্যন্ত এই ক্রেতা ঘাটতি কাটবে না।” ফুটপাত হকার মো. মালেক জানান, বেতন-বোনাস পেলে ১০ রোজার পর ক্রেতার চাপ বাড়বে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মল
পান্থপথের এই শপিং মলের প্রায় ৩ হাজার দোকানে ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। রিচ ম্যান ব্র্যান্ডের শোরুম ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, “নতুন সরকার আসায় আমাদের প্রত্যাশা অনেক, তাই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।” চৈতি ফ্যাশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান ৫-৭ বছরের মন্দা কাটার আশা করছেন। অন্যদিকে পার্পল ফ্যাশনের ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন গতবারের চেয়ে বেশি বিক্রির ব্যাপারে আশাবাদী।

কেরানীগঞ্জ ও চট্টগ্রাম
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, এবার সেখানে পাইকারি পণ্য বিক্রি ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তালহা গার্মেন্টসের মনির হোসেন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় এবার নির্বিঘ্নে বেচাকেনা চলছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের বৃহত্তম কাপড়ের বাজার টেরিবাজারে ভারত, পাকিস্তান ও চীন থেকে আনা মানসম্মত পোশাকে শোরুম ভরে উঠেছে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ। সেখানে ২ হাজার কোটি টাকার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

অনিশ্চয়তা ও অর্থনীতিবিদদের মত
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলেন, “প্রস্তুতি ভালো হলেও মাসের শেষে রোজা শুরু হওয়ায় মানুষের হাতে টাকা নেই। প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে আগামী মাসে।”

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক। মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে।” তবে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন মুদ্রানীতির ফলে তারল্য বেড়েছে এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবারের ঈদ বাজার দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

বিষয়:

ঈদুল-ফিতর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত