আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর—২

মুঙ্খ মিউজিয়াম: আঁতকে উঠেছিলাম এক ভয়ার্ত চিৎকারে

চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। এর দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। চোখ রাখুন প্রতি রোববার বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৩৪
মুঙ্খ মিউজিয়ামের সামনে লেখক। ছবি লেখকের সৌজন্যে

কী ভয়ানক চিৎকার! গগনবিদারী এবং ভয়ার্ত!

ছোট একটা ঘর। দেয়ালে কালো রঙ করা। ঘরের সব বাতি নেভানো। অনেকটা ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে অন্ধকার ঘরটাতে। এক এক করে সারিবদ্ধভাবে ঘরে প্রবেশ করতে হয়। কারণ, কারণ, সেখানে একসঙ্গে অনেক মানুষের জায়গা হয় না। কিংবা নিরাপত্তা বিষয়ক কারণও হতে পারে।

সেই ঘরে কাচঘেরা প্রকোষ্ঠে খুব ছোট আকারের একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা আছে। প্রকোষ্ঠের ভেতরে বিশেষভাবে আলোক প্রক্ষেপণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্ধকার ঘরে কেবল ওখানটায় আলো। এই চিত্রকর্মটির স্রষ্টা নরোওজিয়ান শিল্পী এডভার্ড মুঙ্খ। শিরোনাম ‘দ্য স্ক্রিম’। এটি রাখা আছে এডভার্ড মুঙ্ক মিউজিয়ামে। ১৩ তলা বিশিষ্ট এই জাদুঘরটি মুঙ্খের জীবন ও শিল্পকর্মের প্রতি উৎসর্গীকৃত বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক-শিল্পী জাদুঘর।

এডভার্ট মুঙ্খের জন্ম নরওয়ের লোটেন পৌরশহরের আডালসব্রুক গ্রামে। প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় তিনি শিল্পচর্চা করেছেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে অসুস্থতা, প্রিয়জন হারানোর শোক আর মানসিক বিষণ্নতার মধ্যে। জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোই পরে তাঁর শিল্পকর্মে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তরুণ বয়সে তিনি অসলোর (তৎকালীন ক্রিস্টিয়ানিয়া) প্রগতিশীল ও বোহেমিয়ান শিল্পী মহলের সঙ্গে যুক্ত হন।

মুঙ্খের চিত্রকর্ম দেখছেন লেখক। ছবি লেখকের সৌজন্যে
মুঙ্খের চিত্রকর্ম দেখছেন লেখক। ছবি লেখকের সৌজন্যে

মুঙ্কের ছবির মূল থিম ছিল মানুষের গভীর অনুভূতি—প্রেম, ভয়, বেদনা, বিষণ্ণতা আর মৃত্যু। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পেয়েছিলেন এসব। বাইরের পৃথিবীকে যেমন আছে তেমনভাবে আঁকার চেয়ে মানুষের মনের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে ফুটিয়ে তোলাই ছিল তাঁর প্রধান শৈলী। জীবদ্দশায় হাজার হাজার পেইন্টিং, প্রিন্ট ও ড্রয়িং তৈরি করেছেন। মৃত্যুর আগে সেই বিশাল সংগ্রহের বড় একটি অংশ তিনি অসলো শহরকে দান করে যান।

অক্টোবর মাস শেষের দিকের কথা। আমস্টার্ডাম শহরে আমার শেষ দিন। সেদিন ভোর সকালে বাতাস ছিল না। ঠান্ডার প্রকোপ ছিল মোটামুটি। শুনেছি কিছুদিনের মধ্যে প্রকৃত ঠান্ডা টের পাওয়া যাবে নেদারল্যান্ডসে।

ইউরোপের শীতের সকাল মানে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। যদি উত্তরের কনকনে বাতাস থাকে, তাহলে তো কথাই নেই! কম্বলের ভেতর থেকে বের হওয়া কঠিন; বিশেষ করে আমাদের মতো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের জন্য।

এডভার্ট মুঙ্খের আঁকা দুটি চিত্রকর্ম- ‘সেপারেসন’ (১৮৯৬) এবং ‘টু হিউম্যান বিংস’ (১৮৯২)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
এডভার্ট মুঙ্খের আঁকা দুটি চিত্রকর্ম- ‘সেপারেসন’ (১৮৯৬) এবং ‘টু হিউম্যান বিংস’ (১৮৯২)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

আমার ফ্লাইট ছিল সকাল সাড়ে দশটায়। গন্তব্য নরওয়ের ছোট শহর শিয়েনে। সেখানে উঠব এক বন্ধুর বাসায়। কিন্তু আমার আসল উদ্দেশ্য নরওয়ের রাজধানী অসলো। এই শিয়েন শহরটা বিখ্যাত নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের কারণে। তাঁকে ‘আধুনিক নাটকের জনক’ বলা হয়। ইবসেন এই শহরেই জন্মেছেন, বড় হয়েছেন। তাঁর বসতভিটা এখন হেনরিক ইবসেন মিউজিয়াম।

টর্প স্যান্ডেফর্ড এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই বিশাল ধাক্কা খেলাম! যতটুকু গরম কাপড় প্রয়োজন ভেবে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম, মনে হলো তাতেও কুলোবে না। ভাগ্য সহায়! বেশিদূর বাইরে যেতে হলো না। দেখলাম, বন্ধু এয়ারপোর্টের একেবারে বাইরের গেটেই অপেক্ষা করছে। অবশ্য বাইরে আর বেশিক্ষণ দাঁড়ানোরও উপায় ছিলো না। ঠান্ডায় দাঁতে দাঁত চিবিয়ে কুশল বিনিময় করতে করতে চলে এলাম ট্রেন স্টেশনে। স্টেশনটি মোটামুটি এয়ারপোর্ট লাগোয়া। আর শিয়েন শহর এয়ারপোর্ট থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার দূরে। ফলে আমাদের দুই বন্ধুর বাকি আলাপ হয়েছিল ট্রেনের কামারায় যেতে যেতে।

পরদিন গেলাম রাজধানী অসলোতে। ট্রেন যাত্রা প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। যেতে যেতে জানলাম, নরওয়েতে তখনো পূর্ণ শীতকাল আসেনি। তখন নাকি পুরো দেশ সাদা তুষারপাতে ঢেকে যায়। তবে নরওয়ের প্রকৃতি যে অন্যান্য ইউরোপের দেশগুলোর মতো না, তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝা মুশকিল। নরওয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর একটি। এই দেশগুলোর ভূ-প্রকৃতি অন্যান্য ইউরোপের দেশগুলোর মতো নয়।

মুঙ্খের সৃষ্টি বিখ্যাত ‘দ্য স্ক্রিম’। ছবি লেখকের সৌজন্যে
মুঙ্খের সৃষ্টি বিখ্যাত ‘দ্য স্ক্রিম’। ছবি লেখকের সৌজন্যে

অসলো ট্রেন স্টেশন থেকে ব্যোরভিকা এলাকাটি খুব কাছেই, হেঁটেই যাওয়া যায়। এখানেই পৃথিবী বিখ্যাত নরওয়েজিয় চিত্রশিল্পী ও প্রিন্টমেকার এডভার্ট মুঙ্খের মিউজিয়াম। তাঁকে আধুনিক অভিব্যক্তিবাদী ও প্রতীকবাদী শিল্পকলার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যে শিল্পকর্মের জন্য এডভার্ট মুঙ্খের নাম পৃথিবীব্যাপী আলোচনায় এসেছিল, সেটি ‘দ্য স্ক্রিম’ (১৮৯৩)। চিত্রকর্মটি একাধিকবার চুরি হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০৪ সালের চুরির ঘটনা সবচেয়ে আলোচিত। ক্যানভাসে দেখা যায় এক বিকৃত মুখের মানুষ সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ভয়ার্ত চোখে চিৎকার করছে, পেছনে লাল আকাশ। চিত্রকর্মটিকে আধুনিক এক্সপ্রেশিজমের অন্যতম প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

সেদিন ছিল ১৯৯৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। নরওয়ের লিলেহ্যামার শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধন হবে। অসলো ন্যাশনাল গ্যালারি থেকে চোরেরা জানালা ভেঙে ছবিটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটাতে তাঁদের মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে! একটি নোটও রেখে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘Thanks for the poor security!’ ভাবা যায়! তবে প্রায় তিন মাস পর পুলিশ চিত্রকর্মটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এটি প্রায় অক্ষত অবস্থায় মিউজিয়ামে ফেরত আসে।

মুঙ্খের আঁকা ‘পোর্টের্ট অফ ফেড্রিক নীটশে’ (১৯০৬)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
মুঙ্খের আঁকা ‘পোর্টের্ট অফ ফেড্রিক নীটশে’ (১৯০৬)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

এরপরের আলোচিত চুরির ঘটনা ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট। সেদিন দিনের বেলায় দুজন সশস্ত্র মুখোশধারী দর্শনার্থীদের সামনে থেকেই ‘দ্য স্ক্রিম’ ও ‘ম্যাডোনা’ চিত্রকর্ম দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা বিশ্বব্যাপী ভীষণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রায় দুই বছর পর পুলিশ চিত্রকর্মগুলো উদ্ধার করে, যদিও এতে কিছু ক্ষতি হয়েছিল। পরে সেগুলো আবার পুনরুদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। যেমন, উন্নত অ্যালার্ম সিস্টেম, বুলেটপ্রুফ গ্লাস শোকেস, পাশাপাশি কড়া নজরদারি ও সীমিত প্রদর্শনীর আয়োজন।

মুঙ্খ মিউজিয়ামে শিল্পীর প্রায় ছাব্বিশ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সংরক্ষিত আছে। তার মধ্যে রয়েছে পেইন্টিং, প্রিন্ট, ড্রইং ও ফটোগ্রাফ। মিউজিয়ামটি মোট ১৩ তলার। এখানে কনসার্ট, পারফরম্যান্স, লেকচারসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনও করা হয়। মিউজিয়ামে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ফি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৮০ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার, এবং সন্ধ্যার পর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দুইশ নোক। ১ নোক বাংলাদেশী টাকা তখন প্রায় ১৩ টাকার সমান। যদিও আমার কোনো প্রবেশ ফি লাগেনি। কাউন্টারে শুধু আমার প্রেস কার্ড দেখিয়ে খুব সহজের প্রবেশ পাস পেয়েছিলাম।

বামের দেয়ালে ‘দ্য সান’ (১৯০৯-১১) এবং ‘আলমা মেটার’ (১৯০৯-১১)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
বামের দেয়ালে ‘দ্য সান’ (১৯০৯-১১) এবং ‘আলমা মেটার’ (১৯০৯-১১)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

মুঙ্খের কিছু কিছু পেইন্টিং-এর ক্যানভাস এত বড় আকারের যে, দুইতলা ঘরকে মাঝখানে কেটে একটি দেয়ালজুড়ে ডিসপ্লে করতে হয়। বড় পেইন্টিং খুব কাছ থেকে দেখা আরামদায়ক নয়। ফলে দোতলার অর্ধেক অংশে উঠে গিয়ে দেখতে হয়। আবার ফ্লোরের মাঝখানটায় রাখা বেঞ্চে বসেও দেখা যায়। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম ‘দ্য সান’ (১৯১১)। এই বিশাল চিত্রকর্মের বিষয়বস্তু সূর্যের আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি জীবন, শক্তি ও পুনর্জন্মের ধারণা প্রকাশ করে। শিল্পবোদ্ধারা একে আলো ও জীবনের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

মুঙ্খের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সিরিজ হলো ‘ম্যাডোনা’ (১৮৯৪-৯৫)। এই চিত্রকর্মে এক নারীর রহস্যময় ও আবেগপূর্ণ ভঙ্গি দেখা যায়। এটি প্রচলিত ধর্মীয় ম্যাডোনা নয়, বরং ভালোবাসা, জীবন ও মৃত্যুর প্রতীকী রূপ। ছবির চারপাশের লাল আভা আবেগ ও বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

মুঙ্খের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি চিত্রকর্মের সিরিজ ‘দ্য সিক চাইল্ড’ (১৮৮৫-৮৬)। তাঁর বোনের অসুস্থতা ও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা থেকে এগুলো আঁকা। এতে দুঃখ, শোক ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে—এ রকম বর্ণনা পাওয়া যায় গ্যালারি ক্যাটালগে।

মুঙ্খ মিউজিয়াম মূলত আধুনিক স্থাপনা। এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম একক শিল্পীভিত্তিক মিউজিয়ামগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৩ তলাবিশিষ্ট এই মিউজিয়ামের ভেতরে বিভিন্ন তলায় ভিন্ন ভিন্ন থিম অনুযায়ী শিল্পকর্ম সাজানো হয়েছে। নিচের দিকের তলাগুলোতে সাধারণত অস্থায়ী প্রদর্শনী এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের কাজ প্রদর্শন করা হয়েছে। তৃতীয় তলায় সমসাময়িক শিল্পের প্রদর্শনী দেখা যায়, যেখানে বিভিন্ন আধুনিক নরওয়েজিয়ান শিল্পীর কাজও উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রলফ স্টেনারসেন, আমালডুস নিলসেন, লুডভিগ ও. রেভেনসবার্গ প্রমুখ।

মিউজিয়ামের চতুর্থ তলাটি ‘মুঙ্খ ইনফিনিটি’ নামে পরিচিত। এখানে এডভার্ড মুঙ্খের বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর সংগ্রহ রয়েছে। তাঁর বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম ‘দ্য স্ক্রিম’ ও ‘ম্যাডোনা’-এর বিভিন্ন সংস্করণ এই তলাতেই দেখা যাবে। এটি মূলত দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ।

ষষ্ঠ তলায় ‘মুঙ্খ মনুমেন্টাল’ নামে গ্যালারি রয়েছে। সেখানে শিল্পীর বিশাল আকারের চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এই তলায় শিল্পীর বড় বড় ক্যানভাসে আঁকা শিল্পকর্মগুলো দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

এডভার্ট মুঙ্খের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘টুওয়ার্ডস দ্য লাইট’ (১৯১৪-১৬)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
এডভার্ট মুঙ্খের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘টুওয়ার্ডস দ্য লাইট’ (১৯১৪-১৬)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

সপ্তম তলায় ‘মুঙ্খ স্যাডোজ’ এবং ‘আপ ক্লোজ’ অংশে শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা এবং তাঁর কাজের গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

নবম ও দশম তলায় অস্থায়ী প্রদর্শনী এবং স্কেচ বা ড্রয়িংয়ের সংগ্রহ। এখানে দর্শনার্থীরা শিল্পীর কাজের প্রাথমিক ধাপ এবং তাঁর সৃজনশীল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

১১ তলায় ‘মুঙ্খ হরিজনস’ অংশে তাঁর সমসাময়িক ইউরোপীয় শিল্পীদের সঙ্গে তুলনামূলক প্রদর্শনী রয়েছে, যা শিল্প ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এত বড় জাদুঘর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ঘুরে দেখা সহজ নয়। সব ফ্লোর ঘুরে যখন এগারো তলায় পৌঁছালাম, নিচে নামতে গিয়ে দেখি লিফট মেরামতের জন্য বন্ধ। হতাশ হওয়ার আগেই বন্ধু বলল, ‘চলো, এস্কালেটর দিয়ে নামি।’ আমি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। তা-ও ভালো, হেঁটে নামার চেয়ে।

যদিও বন্ধু এর আগে ডেকে নিয়ে গেল একেবারে উপরের তলায়। সেখানে অবজারভেশন ডেক এবং রুফটপ রেস্তোরাঁ থেকে অসলো বন্দর, অসলো ফিয়র্ড এবং পুরো শহরের ৩৬০-ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়। সব ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই উবে গেল। বিকেলের অসলো শহর যেন শিল্পের মতো মায়া ছড়াচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা নামবে, সঙ্গে কনকনে উত্তরের তুষার-ঠান্ডা হাওয়া। কে জানে, হয়তো ঝিরি ঝিরি তুষারপাতও থাকবে তার সঙ্গে—শীতকাল নরওয়েতে এমনই।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত