ফ্রেডি মার্কারি হওয়ার আগে তিনি ছিলেন ফাররুখ বুলসারা। মহারাষ্ট্রের পাঞ্চগানির আবাসিক স্কুলে কেমন ছিল তাঁর দিনগুলো? ১২ বছর বয়সেই কীভাবে চার বন্ধুকে নিয়ে গড়ে উঠেছিল ‘দ্য হেকটিক্স’? কী গান শুনতেন তখন? কীভাবে সেই ফাররুখ একদিন হয়ে উঠলেন ফ্রেডি মার্কারি?

বিখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড কুইন’-এর ভোকাল ফ্রেডি মার্কারি। রক মিউজিকের ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা। তাঁর গান, কথা-সুর ও মঞ্চ পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে কোটি কোটি মানুষকে। অথচ তাঁর সংগীতজীবনের শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ভারতে, মুম্বাইয়ের কাছের একটি আবাসিক স্কুলে। বিশ্বখ্যাতির আড়ালে তাঁর জীবনের এই অধ্যায়টি অনেকটাই অনুচ্চারিত।
ফ্রেডি মার্কারি হওয়ার আগে তাঁর নাম ছিল ফাররুখ বুলসারা। মহারাষ্ট্রের পাঞ্চগানির সেন্ট পিটার’স স্কুলে পড়ার সময় মাত্র ১২ বছর বয়সে চার বন্ধুকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্কুল ব্যান্ড ‘দ্য হেকটিক্স’।
তখন ফাররুখ ছিলেন আর দশজন কিশোরের মতোই। কিছুটা লাজুক, ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন, খেলাধুলা করতেন এবং ডাকটিকিট সংগ্রহ করতেন। তবে সংগীতে তাঁর প্রতিভা আলাদা করে চোখে পড়ত। পুরোনো পিয়ানোর সামনে বসে তিনি অন্যদের গান তুলে ফেলতে পারতেন। ‘দ্য হেকটিক্স’-এর সঙ্গে গানবাজনার সেই সময়টিই হয়ে উঠেছিল তাঁর সংগীতচর্চার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
ফ্রেডি মার্কারি জন্মেছিলেন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, পূর্ব আফ্রিকার জানজিবারে। জন্মনাম ফাররুখ বুলসারা। বাবা বোমি বুলসারা জানজিবারে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দপ্তরে কাজ করতেন। পরিবারটি ছিল পারসি, অর্থাৎ জরথুস্ত্রীয় ধর্মাবলম্বী। তাঁদের পারিবারিক শিকড় ছিল ভারতের গুজরাটের বুলসার বা ভলসাড অঞ্চলে।

ছোটবেলায় পড়াশোনার জন্য ফাররুখকে ভারতে পাঠানো হয়। আট বছর বয়সে ভর্তি হন মহারাষ্ট্রের পাঞ্চগানির সেন্ট পিটার’স স্কুলে। পাহাড়ি এই শহর তখন আবাসিক স্কুলগুলোর জন্য পরিচিত। ফাররুখ থাকতেন স্কুলের হোস্টেলে।
সহপাঠীদের স্মৃতিতে জানা যায়, ফাররুখ ছিলেন কিছুটা লাজুক, আবার নানা বিষয়ে আগ্রহী কিশোর। খেলাধুলাতেও আগ্রহ ছিল। ক্রিকেট, হকি, অ্যাথলেটিকস, এমনকি বক্সিংয়েও অংশ নিতেন। ট্রফির সামনে বসে আছেন, এমন ছবিও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ১২ বছর বয়সে স্কুলের সেরা অলরাউন্ডারের পুরস্কার পেয়েছিলেন। একবার তাঁকে এক ক্লাস এগিয়েও দেওয়া হয়েছিল। পরে পড়াশোনায় সেই সাফল্য অবশ্য ধরে রাখতে পারেননি।
সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহও স্কুলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংগীতশিক্ষকেরা তাঁর কণ্ঠ ও সংগীতবোধ খেয়াল করেছিলেন। তাঁকে সংগীতের বিশেষ ক্লাসে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিয়ানো শিক্ষক মিসেস ও’শিয়াও তাঁকে বেশ উৎসাহ দিতেন। তবে পিয়ানোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় তারও আগে; সাত বছর বয়সেই তিনি পিয়ানো শেখা শুরু করেন।
ফাররুখের সংগীতের জগৎ শুধু পিয়ানো বা স্কুলে শেখানো শাস্ত্রীয় সংগীতে আটকে ছিল না। সে সময়ের পশ্চিমা রক অ্যান্ড রোল তাঁকে প্রবলভাবে টানত। এলভিস প্রিসলি, লিটল রিচার্ড, ফ্যাটস ডমিনো, রিকি নেলসন ও ক্লিফ রিচার্ডদের গান ছিল তাঁর পছন্দের। দ্য হেকটিক্সের সদস্যদের স্মৃতিতে এসব শিল্পীর গান শোনার কথা এসেছে।
‘দ্য হেকটিক্স’ গড়ে ওঠে স্কুলে পড়ার সময়। দলের সদস্য ছিলেন ফাররুখ বুলসারা, ডেরিক ব্রাঞ্চ, ব্রুস মারে, ভিক্টরি রানা ও ফারাং ইরানি। ফাররুখ বাজাতেন পিয়ানো। ব্রুস ছিলেন মূল ভোকাল ও গিটারিস্ট। ডেরিকও গিটার বাজাতেন, ভিক্টরি ড্রাম এবং ফারাং বেস বাজাতেন।
ব্যান্ডটি গড়ে তোলার উদ্যোগ কার ছিল, সে বিষয়ে ব্যান্ডের সদস্যদের স্মৃতিতে কিছুটা পার্থক্য আছে। ভিক্টরি রানার মতে, মানুষ অনেক সময় ধরে নেন ফাররুখই ব্যান্ডটি তৈরি করেছিলেন। আসলে ধারণাটি এসেছিল ব্রুস মারের কাছ থেকে।

সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা তখন তাঁদের কারও মাথায় ছিল না। বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থাও ছিল সাদামাটা। ব্রুসের গিটারটি তাঁর মা কিনে দিয়েছিলেন। স্কুলের সহায়তায় ড্রাম জোগাড় হয়েছিল। আর বেস গিটারের বদলে ব্যবহার করা হতো কাঠের বাক্স, তাতে একটি তার টানা থাকত। সেটিকে অবশ্য ঠিক বেস গিটার বলা যায় না। আর ফাররুখ বাজাতেন স্কুলের পুরোনো পিয়ানো।
তবে কেন ব্যান্ড করেছিলেন তাঁরা? এক সাক্ষাৎকারে ব্রুস মজা করে বলেছিলেন, মূলত মেয়েদের আকর্ষণ করতেই তাঁরা ব্যান্ড করেছিলেন। পাঞ্চগানিতে দ্রুতই তাঁদের পরিচিতি বাড়তে থাকে। স্কুলের অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁরা গান করতেন। সহপাঠীদের স্মৃতিতে, তাঁদের অনুষ্ঠান ঘিরে মেয়েদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
তাঁদের সাজপোশাকও ছিল সময়ের জনপ্রিয় রক তারকাদের মতো। টাইট প্যান্ট, চিকন টাই, পয়েন্টেড জুতা আর ব্রিলক্রিম দিয়ে পেছনে আঁচড়ানো চুল। এলভিসসহ সে সময়ের রক অ্যান্ড রোল শিল্পীদের প্রভাব ছিল তাঁদের সাজপোশাক ও মিউজিক—দুই জায়গাতেই।
স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য শুরুতে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। রক অ্যান্ড রোল শিক্ষকদের পছন্দ ছিল না। মজা করে হেকটিক্সকে ‘হারেটিক্স’ বলেও ডাকত কেউ কেউ। স্কুলে পপ মিউজিকও শোনার সুযোগও ছিল সীমিত। ছেলেরা গোপনে শিক্ষকদের কমনরুমে গিয়ে রেডিও সিলোন শুনত।
সময় গড়ানোর সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। স্কুলের অনুষ্ঠানগুলোতে হেকটিক্স জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের অনুষ্ঠান থেকে টাকাও আসত। ফলে কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য হয়। সহপাঠীদের স্মৃতিতে, ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের তুলনায় সংগীতে ফাররুখের দক্ষতা ছিল বেশি। স্কুলের সীমিত সুযোগের মধ্যেই তিনি পিয়ানো বাজাতেন এবং অন্যদের সঙ্গে জ্যামিং করতেন।
ফাররুখকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ফিরে আসে একটি বৈপরীত্যের কথা। বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন কিছুটা অন্তর্মুখী ও লাজুক। কিন্তু গান শুরু হলে তাঁর আচরণ বদলে যেত।
ভিক্টরি রানা মনে করেন, স্কুলজীবনে ফাররুখকে পরবর্তী জীবনের ফ্রেডি মার্কারির মতো ‘শোম্যান’ বলা যাবে না। তিনি বরং চুপচাপ থাকতে পছন্দ করতেন। কিন্তু পিয়ানোর সামনে বসলে তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যেত।

অন্য সহপাঠীদের স্মৃতিতেও এই দুই স্বভাব পাশাপাশি আছে। কেউ তাঁকে লাজুক বলেছেন, আবার কেউ মনে করেন, তাঁর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মঞ্চে নিজেকে প্রকাশ করার প্রবণতা ছিল। তাঁর চেহারা নিয়েও বন্ধুরা ঠাট্টা করত। সামনের দিকে বেরিয়ে থাকা দাঁতের কারণে স্কুলে তাঁর ডাকনাম হয়েছিল ‘বাকি’ বা ‘বাক্সি’। ফারাং ইরানির স্মৃতিতে, ফাররুখ দাঁত নিয়ে সচেতন ছিলেন এবং হাসার সময় কখনো কখনো মুখ ঢাকতেন। পরবর্তী জীবনে তাঁর গোঁফ রাখার সঙ্গে দাঁত ঢাকার বিষয়টি যুক্ত করা হলেও এটি মূলত বন্ধুদের স্মৃতিনির্ভর ব্যাখ্যা।
সংগীতের বাইরে তাঁর আগ্রহও ছিল অনেক। ছবি আঁকায় তিনি ভালো ছিলেন এবং আর্ট-শিক্ষকের প্রিয় ছিলেন। পরে ইংল্যান্ডে আর্ট স্কুলে পড়ার সময় তাঁর আঁকা ছবি দেখে বন্ধুরা মুগ্ধ হয়েছিলেন। সহপাঠীদের কেউ কেউ মনে করতেন, সংগীতশিল্পী না হলেও তিনি সফল শিল্পী বা ফ্যাশন ডিজাইনার হতে পারতেন।
ফাররুখের সংগীতের প্রভাব নিয়েও সহপাঠীদের স্মৃতিতে ভিন্নতা আছে। ভিক্টরি রানা মনে করেন, তাঁর প্রধান প্রভাব ছিল পশ্চিমা পপ ও রক; লতা মঙ্গেশকর বা বলিউডের গান থেকে বড় ধরনের প্রভাবের কথা তিনি মানতে চাননি। আবার অন্য এক সহপাঠীর স্মৃতিতে এসেছে, ফাররুখ লতা মঙ্গেশকর ও কিশোর কুমারের গানও গাইতেন, যেগুলো তাঁরা রেডিওতে শুনতেন। ফলে তাঁর শৈশবের সংগীতরুচি ঠিক কতটা ভারতীয় আর কতটা পশ্চিমা ছিল, তা নিয়ে একক কোনো স্মৃতিকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়া কঠিন।

তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—সংগীতের প্রতি তাঁর সহজাত দক্ষতা ছিল অসাধারণ। ভিক্টরি রানার মতে, ফাররুখ রক অ্যান্ড রোল থেকে শাস্ত্রীয় সংগীত পর্যন্ত গাইতে পারতেন। স্কুলে পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি দলে তিনজন ছেলে তিনটি আলাদা স্বরে গান গাইতেন; ফাররুখও সেখানে ছিলেন। পরবর্তী জীবনে তাঁর সংগীতে নানা ধরনের ঘরানার যে মিশ্রণ দেখা যায়, তার সঙ্গে কেউ কেউ শৈশবের এই সংগীতচর্চার যোগ খুঁজে পান।
১৯৬২ সালে সেন্ট পিটার’স স্কুলের পড়া শেষ করেন ফাররুখ। এরপর তিনি কিছুদিন মুম্বাইয়ের সেন্ট মেরিজ স্কুলে পড়েন। ১৯৬৪ সালে তাঁরা পরিবারসহ ইংল্যান্ডে চলে যান। বসতি গড়েন লন্ডনে। সেখানেই তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
ইংল্যান্ডে তিনি আইলওয়ার্থ পলিটেকনিক এবং পরে ইলিং কলেজ অব আর্টে গ্রাফিক ডিজাইন পড়েন। তখন তাঁর ইচ্ছা ছিল ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করার। তবে একই সময়ে সংগীতের প্রতিও তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। ১৯৬৯ সালে তিনি ‘ইবেক্স’ ব্যান্ডে গান গাওয়া শুরু করেন। ব্যান্ডটির নাম পরে ‘রেকেজ’ হয়। এরপর তিনি ‘সাওয়ার মিল্ক সি’ ব্যান্ডেও কিছুদিন গানবাজনা করেন।
ধীরে ধীরে মঞ্চে তাঁর নিজস্ব ধরন তৈরি হতে থাকে। তবে এই ব্যান্ডগুলো খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। ১৯৭০ সালের শুরুতে তিনি ব্রায়ান মে ও রজার টেলরের ব্যান্ড ‘স্মাইল’-এ যোগ দেন। স্মাইলের প্রধান ভোকাল টিম স্ট্যাফেল ব্যান্ড ছেড়ে দিলে ব্রায়ান মে ও রজার টেলরের সঙ্গে ফাররুখ নতুন ব্যান্ড গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ফাররুখ বুলসারা তখন আর জন্মনামে থাকলেন না। নাম নিলেন ফ্রেডি মার্কারি। ‘ফ্রেডি’ নামটি অবশ্য স্কুলজীবন থেকেই তাঁর পরিচিত ছিল। ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে এটিই মূল পরিচয় হয়ে ওঠে। ‘মার্কারি’ নামটি কেন বেছে নিয়েছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা আছে। সবচেয়ে বেশি বলা হয়, তাঁর নিজের লেখা ‘My Fairy King’ গানটির সঙ্গে নামটির সম্পর্ক ছিল। গানটিতে ‘Mother Mercury’ কথাটি ছিল। ব্রায়ান মে-র স্মৃতিতেও এই গানের সঙ্গে ‘Mercury’ নাম বেছে নেওয়ার বিষয়টির যোগ পাওয়া যায়।
১৯৭০ সালেই নতুন ব্যান্ডের নাম হয় ‘কুইন’। ফাররুখ তথা ফ্রেডিই নামটি প্রস্তাব করেছিলেন। এরপর ‘কুইন’-এর সঙ্গে তিনি যে পথে এগোলেন, তা শেষ পর্যন্ত তাঁকে রক সংগীতের ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত মিউজিশিয়ানে পরিণত করে। ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’, ‘সামবডি টু লাভ’, ‘উই উইল রক ইউ’, ‘উই আর দ্য চ্যাম্পিয়নস’—একটির পর একটি গান তাঁকে আলাদা পরিচয় দেয়।
দ্য হেকটিক্সের পাঁচ সদস্যের জীবন এরপর পাঁচ দিকে চলে যায়। ডেরিক ব্রাঞ্চ ইংল্যান্ডে গিয়ে অভিনেতা হন। ব্রুস মারে মিউজিকে যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যবসা শুরু করেন। ভিক্টরি রানা নেপালের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে মেজর জেনারেল হন। পরে কূটনীতিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আর ফারাং ইরানি যুক্ত ছিলেন পারিবারিক রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে।
ভিক্টরি রানা পরে বলেছিলেন, ফাররুখ একদিন বিশ্বের এত বড় তারকা হয়ে উঠবেন, স্কুলে তাঁদের কারও পক্ষেই তা কল্পনা করা সম্ভব ছিল না। সত্যিই, সেই সময়কার ফাররুখকে দেখে ভবিষ্যতের ফ্রেডি মার্কারিকে চিনে নেওয়া কঠিন।
১৯৯১ সালের ২৪ নভেম্বর, মাত্র ৪৫ বছর বয়সে মারা যান ফ্রেডি মার্কারি। তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর গান ও মঞ্চপরিবেশনা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে। যে কিশোর একদিন পাঞ্চগানির একটি স্কুলের পুরোনো পিয়ানোর সামনে বসে গান তুলে নিতেন, তাঁর কণ্ঠ পরে পৌঁছে যায় পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কাছে। এখন পাঞ্চগানির সেন্ট পিটার’স স্কুলও তাঁর ভক্তদের কাছে এক ধরনের স্মৃতিস্থানে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্ক্রলে দ্য হেকটিক্সের সদস্যদের সাক্ষাৎকার, ফ্রেডির সহপাঠীদের সাক্ষাৎকার
.png)

আজকের পর্বে ফুকোর তিনটি কেন্দ্রীয় ধারণা—ডিসকোর্স, এপিস্টিম ও জিনিওলোজি—দিয়ে বোঝার চেষ্টা করব, সত্য কীভাবে ‘উৎপাদিত’ হয়, আর এই বোঝাপড়া একাডেমিক লেখকের জন্যে কী অর্থ বহন করে।
৫ ঘণ্টা আগে
শার্ল বোদলেয়ারের ‘লে ফ্লোর দ্যু ম্যাল’-এ সভ্যতার যে ক্লেদ সাধারণ চোখ এড়িয়ে যায়, কবির চোখ সেখানে আবিষ্কার করেছে সত্য ও সুন্দর। বাংলা সাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখাতেও এমন পঙ্কে কুসুম ফোটার প্রবণতা দৃশ্যমান।
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেটাই যথার্থ কবিতা, যা যে ভাষায় আমাদের সবার চৈতন্যকে করে বাঙ্ময়, অবচেতনকে জ্যোতির্ময়, মন্ত্রে পরিণত করে মানবিক প্রত্যয় ও শপথ। কেননা আজ, বিবেকী কবির অনুভব—‘শীতের মতই রক্ত মিশে আছে কবিতায়/ মৃত্যুর মতই রক্ত মিশে আছে কবিতায়।’ —বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইতিহাসের প্রতি আমার এক ধরনের টান আছে। ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগে প্রথমবার ঢাকায় এসেছিলাম। ব্যস্ত এই মহানগরীতে প্রথম যে জায়গা দেখতে গিয়েছিলাম সেটি ছিল জাতীয় জাদুঘর। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ব্রিসবেন। আর এই শহরের প্রাণকেন্দ্র কুইন স্ট্রিট।
৩১ আগস্ট ২০২৬