এবারের বিশ্বকাপে কার ভরল পকেট, কার হাতে হারিকেন

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২২: ১২
কারও জন্য এবারের বিশ্বকাপ হয়েছে ‘মানি মেশিন’। স্ট্রিম গ্রাফিক

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। আগে যেখানে ৩২ দেশ অংশ নিত, এবার সেখানে খেলেছে ৪৮ দেশ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দর্শকের সংখ্যাও।

কোটি কোটি দর্শক যখন গ্যালারিতে বা টিভির সামনে বসে টানটান উত্তেজনায় বল আর গোলপোস্টের দিকে তাকিয়ে আছেন, তখন মাঠের বাইরে কিন্তু চলছে টাকার এলাহি কারবার। সেখানে কোনো বল বা গোলপোস্ট নেই, কেবল আছে ডলারের ঝনঝনানি! তবে এই টাকার খেলায় সবাই কিন্তু সমানভাবে লাভবান হতে পারছেনা। কারও জন্য এবারের বিশ্বকাপ হয়েছে ‘মানি মেশিন’, আবার কারও হাতে উঠেছে হারিকেন!

‘বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিজয়ী নিঃসন্দেহে ফিফা’

বিশ্বকাপ যত বিশাল কলেবরে হচ্ছে, ততই বাড়ছে ফিফার আয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রেকর্ড ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেই রেকর্ড ভেঙে যাবে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যারিয়ন লাবোরের হিসাব অনুযায়ী, চার বছরের বিশ্বকাপ চক্রে ফিফার মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আর্থিক বিজয়ী নিঃসন্দেহে ফিফা।’

সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, লাইসেন্সিং, আতিথেয়তা সেবা এবং টিকিট বিক্রি—প্রতিটি খাত থেকেই ফিফার পকেটে যায় বিপুল পরিমাণ অর্থ। এবার সেই আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিফার অফিসিয়াল টিকিট রিসেল মার্কেটপ্লেস। এক্ষেত্রে টিকিট পুনরায় বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নেওয়া হয়েছে।

‘শখের তোলা আশি টাকা’

মাঠে বসে নিজের প্রিয় দলের বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা অনেকের আজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেক দর্শককে গুনতে হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

বিশ্বকাপজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল টিকিটের দাম। ফিফার ডাইনামিক প্রাইসিং নীতির কারণে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের মূল্যও বেড়েছে। এমন চড়া মূল্য দেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছিলেন, ‘নিজের দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিট যদি এক হাজার ডলার হয়, তাহলে তিনি সেই দামে টিকিট কিনতেন না।’

বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি আয়োজক শহরে লাখো লাখো ফুটবল ভক্তের সমাগম হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি আয়োজক শহরে লাখো লাখো ফুটবল ভক্তের সমাগম হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের সরকারি টিকিটের দাম ছিল ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। আর রিসেল মার্কেটে কিছু টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলারেরও বেশি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে খরচের তালিকা শুধু টিকিটেই শেষ হয়নি। বিমান ভাড়া, হোটেল, খাবার, স্থানীয় পরিবহন ভাড়া সবকিছুর দামই বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বেড়ে যায়।

এর উদাহরণ হিসেবে নিউ জার্সি ট্রানজিটের ট্রেন ভাড়ার কথা বলা যায়। আগে যেখানে যাওয়া-আসার ভাড়া ছিল মাত্র ১২ দশমিক ৯০ ডলার, সেখানে বিশ্বকাপ চলাকালে একই পথে ৩০ মিনিটের যাত্রার জন্য গুনতে হয়েছে ১৫০ ডলার। ব্যাপক সমালোচনার পর ভাড়া কিছুটা কমানো হলেও, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

‘হাইড্রেশন ব্রেক’ থেকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে

এবারের বিশ্বকাপে ফিফা খেলোয়াড়দের জন্য ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ চালু করে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এটিকে শুধুই খেলাধুলার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই বিরতি থেকে ফিফার অতিরিক্ত কোনো আয় হয় না।

তবে বাস্তবে এই ৯০ সেকেন্ডের বিরতিই সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসরদের ব্যবসা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে ফক্স স্পোর্টস। তারা এই বিরতিকে ‘একটি ব্র্যান্ডের’ নামে ‘স্পনসর্ড বাই’ হিসেবে সম্প্রচার করেছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ফক্সে বিশ্বকাপের ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের দাম সাধারণত ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ কিংবা নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় সেই মূল্য বেড়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই হাইড্রেশন ব্রেক ঘিরে বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের কর্মকর্তা ম্যারিয়ন লাবোরের মতে, এই বিরতি এখন কার্যত নতুন ‘বিজ্ঞাপনী সম্পদে’ পরিণত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকেও এটি বাদ পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এবারের বিশ্বকাপে ফিফা খেলোয়াড়দের জন্য ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ চালু করে। সংগৃহীত ছবি
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা খেলোয়াড়দের জন্য ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ চালু করে। সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের অফিসিয়াল স্পনসররাও এই আসর থেকে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে। অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা, ভিসাসহ বড় বড় ব্র্যান্ডের লোগো পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দৃশ্যমান। আর এটিই তাদের বিনিয়োগকে আরও লাভজনক করছে।

মাঠের বাইরে খেলছেন এবং জিতছেন ডেভিড বেকহাম

বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিজ্ঞাপন ছিল অ্যাডিডাসের ‘ব্যাকইয়ার্ড লেজেন্ডস’ প্রচারণা। লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহ্যাম ও লিওনেল মেসির পাশাপাশি সেখানে দেখা গেছে ডেভিড বেকহ্যামের ‘এআই’ দিয়ে তৈরি সংস্করণও। ধারণা করা হয়, ব্যস্ততার কারণে তাঁকে শুটিংয়ে উপস্থিত না হয়েও তাঁকে বিজ্ঞাপনের অংশ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারির ভিআইপি কক্ষে বসে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। হোম ডিপো থেকে ব্যাংক অব আমেরিকা এমন অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি।

কারণ খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বেকহামের আবেদন এতটুকুও কমেনি। যুক্তরাজ্যের হয়ে একসময় খেলার মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কিন্তু তিনিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ইন্টার মায়ামি ক্লাবটির সহ-মালিকানায় রয়েছেন তিনি। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বকাপ শেষ তো চাকরিও ‘নট’!

বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি আয়োজক শহরে লাখো লাখো ফুটবল ভক্তের সমাগম হয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার কিংবা স্থানীয় ব্যবসায় কিছু সময়ের জন্য এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লাভ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক।

ফিফার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই ১৭ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হবে। এর পাশাপাশি ১ লাখ ৮৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে আতিথেয়তা ও আবাসন খাতে।

একই অভিজ্ঞতা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল খাতেও। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএলএ) অভিযোগ করেছে, ফিফা নিজেদের ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক হোটেল কক্ষ আগেই বুকিং করেছিল। কারণ এতে মনে হবে, হোটেল কক্ষের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তবে ফিফা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে অক্সফোর্ড গ্লোবাল প্রজেক্টসের প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার বাডজিয়ারের মতে, ‘অনেকেই মনে করেন, বড় ক্রীড়া আসর আয়োজন করলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি লাভবান হয়। তবে বাস্তবে এমনটা খুব কমই ঘটে। এ ধরনের আসরের দীর্ঘমেয়াদি লাভ তখনই হয়, যখন সেটিকে ঘিরে নতুন অবকাঠামো বা নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের পর স্ট্র্যাটফোর্ড এলাকার পুনর্গঠন তার উদাহরণ।’

কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে তৈরি স্টেডিয়াম, হোটেল, অনুশীলন কেন্দ্র এবং পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমেন অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগও সীমিত বলে মনে করছেন তিনি।

হোটেল ব্যবসায় ‘লাল বাত্তি’

বিশ্বকাপ এলেই সাধারণত আয়োজক শহরগুলোর হোটেল ব্যবসা জমে ওঠে। সমর্থক আর পর্যটকের ভিড়ে হোটেলকক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে—এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেই হিসাব মেলেনি।

কিন্তু আয়োজক শহরগুলোতে এ বছর হোটেল বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত হিসাব এখনও প্রকাশ না হলেও জুন ও জুলাই মাসে বুকিং আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেকখানি পিছিয়ে ছিল। কানাডায় অনুষ্ঠিত সাতটি ম্যাচের আয়োজক ছিল ভ্যাঙ্কুভার।

সংস্থাটির মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট মানেই টানা কয়েক সপ্তাহ সব হোটেল পূর্ণ থাকবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং নির্দিষ্ট কয়েকটি ম্যাচের আগে ও পরে চাহিদা বেড়ে যায়, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সেই চাপ থাকে না।

বিশ্বকাপ এলেই সাধারণত আয়োজক শহরগুলোর হোটেল ব্যবসা জমে ওঠে। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ এলেই সাধারণত আয়োজক শহরগুলোর হোটেল ব্যবসা জমে ওঠে। সংগৃহীত ছবি

একই অভিজ্ঞতা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল খাতেও। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএলএ) অভিযোগ করেছে, ফিফা নিজেদের ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক হোটেল কক্ষ আগেই বুকিং করেছিল। কারণ এতে মনে হবে, হোটেল কক্ষের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তবে ফিফা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় তখনও হোটেল ব্যবসায় লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হয়।

তাই অনেকেই এই বিশ্বকাপকে ব্যবসার দিক থেকে ‘নন-ইভেন্ট’, অর্থাৎ প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ একটি আয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন।

‘বাজি’র বাজারে বাজিমাত

মাঠের পাশাপাশি বেটিং মার্কেটেও বিশ্বকাপকে ঘিরে চলে কোটি কোটি ডলারের খেলা। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্পোর্টস বেটিং ইভেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছে।

আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারির হিসাবে, এই বিশ্বকাপে মোট প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হতে পারে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাজি লাগানো হচ্ছে।

এত বড় অঙ্কের পেছনে মূল কারণ এবারের আসরে ম্যাচের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি। ২০২২ সালের ৬৪ ম্যাচের পরিবর্তে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ। ফলে বাজি ধরার সুযোগও বেড়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে স্পোর্টস বেটিং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণেও বেটিং মার্কেটে প্রভাব পড়েছে।

ম্যাককোয়ারির বিশ্লেষক চ্যাড বেইননের মতে, বেটিংয়ের ধরনও বদলে গেছে। আগে মানুষ ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই বাজি ধরত। এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লাইভ বা ইন-প্লে বেটিং, যেখানে ম্যাচ চলাকালীন মাঠের পরিস্থিতি দেখে মুহূর্তেই নতুন করে বাজি ধরা যায়।

বেইননের ভাষায়, এখন দর্শক শুধু খেলা দেখেন না, খেলার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সিদ্ধান্তও বদলান। ফলে পুরো ম্যাচজুড়েই বেটিং বাজার সক্রিয় থাকে।

বিশ্বকাপের উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই ফুলে-ফেঁপে উঠছে এই বেটিং বাজার। ফলে মাঠে কে চ্যাম্পিয়ন হবে তা এখনও অজানা থাকলেও অর্থের খেলায় বেটিং কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন!

  • বিবিসি অবলম্বনে
Ad 300x250

সম্পর্কিত