টানা চতুর্থ দিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। যুদ্ধবিরতির সমঝোতা সত্ত্বেও সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সংঘাতে জড়িয়েছে দেশ দুটি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের জাম, বুশেহর ও কানগান শহর, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম, আবু মুসা ও কিশ দ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের কোনারাক ও চাবাহার শহরে হামলা হয়েছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নতুন হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১০ মিনিটে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

বাহরাইন জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশপথে চালানো হামলা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। আজ সকালে তৃতীয়বারের মতো দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠে। বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, তাঁরা বাহরাইনের আলজুফাইর ঘাঁটিতে ‘বেশ কয়েকটি অস্ত্রের গুদাম, একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র এবং মার্কিন বাহিনীর অবস্থানকারী একটি ভবন’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, হরমুজে ‘বেপরোয়া’ ট্যাঙ্কারগুলোর নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে ওমানের জলসীমা দিয়ে দক্ষিণমুখী পথে যেতে বিভ্রান্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্যাঙ্কারগুলোকে বারবার সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। পরে সেগুলোতে আঘাত হেনে অচল করে দেওয়া হয়।

ইরানকে বহুলাংশে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দিয়েছি: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানিদের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এখনও তাঁদের কিছু অবশিষ্ট আছে, কিন্তু তাঁর বেশিরভাগই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাঁদের সামরিক বাহিনীর ১৫৯টি জাহাজ ছিল; সবগুলোই এখন সমুদ্রের তলায়।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁদের ২০০টি বিমান ছিল, সব বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁদের রাডার নেই, তাঁদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, তাঁদের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা প্রায় ৮৪ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে—এবং, আপনি জানেন, তা প্রায় পুরোপুরি শেষ।

তিনি বলেন, চার মাস আগের তুলনায় তারা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশ। চার মাসে আমরা তাদের বহুলাংশে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দিয়েছি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত