জুলাই-যাপন
হানিফ রাশেদীন

ইতিহাস কখনও একটি দৃশ্য থেকেও জন্ম নেয়। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তটি তেমনই এক দৃশ্য। দৃশ্যটি দেখার পর সারা দেশের মানুষ যেন একদিকে হেলে পড়েছিল। নেট দুনিয়ায় কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও উন্মোচন করেছিল এক তরুণের সাহস, রাষ্ট্রীয় শোষণ ও নিপীড়নের নির্মম বাস্তবতা। সেই দৃশ্যের পর আন্দোলনের রূপ বদলে যায়। জেগে ওঠে সারা দেশের মানুষ। আবু সাঈদের মৃত্যুর পর কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকেনি। সবকিছু দ্রুত বদলে যেতে থাকে।
শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট আর বুকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লেখা নূর হোসেনকে আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখেছি। শহীদ আসাদের মৃত্যু ১৯৬৯ এবং নূর হোসেনের আত্মদান ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিল। আজ তাঁরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক অমোচনীয় স্মৃতি। আবু সাঈদের মৃত্যু দেখেছি আমাদের সময়ে। শোক, ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের ঢেউ একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। এক তরুণের রক্ত সমগ্র জাতির বিবেকের ঘুমও ভেঙে দিয়েছিল।
আবু সাঈদ নিহত হওয়ার আগে আন্দোলন ছিল মূলত কোটা সংস্কারের দাবিকে ঘিরে। তাঁর মৃত্যুতে এর চরিত্র বদলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন পৌঁছে যায় শহর, মফস্বল ও গ্রামে। চায়ের দোকান থেকে পরিবারের খাবার টেবিল, কর্মস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; সবখানে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে আবু সাঈদের মৃত্যু। মানুষ অনুভব করছিল, একটি নতুন সময় শুরু হতে যাচ্ছে।
আবু সাঈদের মৃত্যুতে ভয়ের একটি দেয়ালও ভেঙে পড়ে। অনেক মানুষ, যারা এতদিন দূর থেকে ঘটনাগুলো দেখছিলেন, তাঁরাও বুঝতে শুরু করেন এই আন্দোলন আর কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একজন তরুণের রক্ত অসংখ্য মানুষের ভেতরে জমে থাকা নীরবতাকে ভেঙে দিয়েছিল। প্রতিবাদের কণ্ঠ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। মানুষ ভাবতে শুরু করে, এভাবে আর চলতে পারে না।

সেদিন থেকে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক, ক্ষমতা ও প্রতিবাদ, ভয় ও সাহসের প্রশ্নে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো আন্দোলনের চেহারা বদলে যায়।
এক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। শহীদ আসাদ ও নূর হোসেনের সময় মানুষ ঘটনা সম্পর্কে জেনেছিল পরে—সংবাদপত্রে, রেডিওতে বা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায়। আবু সাঈদের সময় মানুষ শুধু খবর শোনেনি, একটি মৃত্যু ঘটতে দেখেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভিডিওটি সারা দেশের মানুষ দেখে ফেলে। যে ঘটনাস্থলে ছিল না, সেও সেই মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে ওঠে।
আবু সাঈদের মৃত্যু শুধু একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরিণত হয়েছিল এক প্রজন্মের নিরাপত্তাহীনতা, বঞ্চনা, ক্ষোভ ও রাষ্ট্রের প্রতি জমে থাকা প্রশ্নগুলোর প্রতীকী বহিঃপ্রকাশে। আন্দোলনের গতি যেভাবে বদলে যায়, তা কেবল রাজনৈতিক কৌশল বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ফল ছিল না। যারা দূর থেকে আন্দোলন দেখছিলেন, সেই দিনের পর তারাও এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করতে শুরু করেন। শোক ধীরে ধীরে সংহতিতে, আর সংহতি রূপ নেয় প্রতিরোধে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিতে থাকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় অভিভাবকদের উদ্বেগ, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন। আবু সাঈদের মৃত্যু জুলাই অভ্যুত্থানের গতিপথ নির্ধারণকারী একটি কেন্দ্রীয় মুহূর্ত।
বহু বছর পর ইতিহাসবিদরা হয়তো ২০২৪ সালের আন্দোলনের রাজনৈতিক পটভূমি, কৌশল, নেতৃত্ব ও ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করবেন। কিন্তু সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে থাকবে একটি দৃশ্য। একজন নিরস্ত্র তরুণ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে। তারপর গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। আর একটি আন্দোলন নতুন শক্তি নিয়ে জেগে উঠছে। দৃশ্যটি একজন মানুষের মৃত্যু, একটি জাতির বিবেকের জেগে ওঠারও মুহূর্ত। সেই গুলির শব্দের মধ্য দিয়েই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল।

ইতিহাস কখনও একটি দৃশ্য থেকেও জন্ম নেয়। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তটি তেমনই এক দৃশ্য। দৃশ্যটি দেখার পর সারা দেশের মানুষ যেন একদিকে হেলে পড়েছিল। নেট দুনিয়ায় কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও উন্মোচন করেছিল এক তরুণের সাহস, রাষ্ট্রীয় শোষণ ও নিপীড়নের নির্মম বাস্তবতা। সেই দৃশ্যের পর আন্দোলনের রূপ বদলে যায়। জেগে ওঠে সারা দেশের মানুষ। আবু সাঈদের মৃত্যুর পর কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকেনি। সবকিছু দ্রুত বদলে যেতে থাকে।
শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট আর বুকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লেখা নূর হোসেনকে আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখেছি। শহীদ আসাদের মৃত্যু ১৯৬৯ এবং নূর হোসেনের আত্মদান ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিল। আজ তাঁরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক অমোচনীয় স্মৃতি। আবু সাঈদের মৃত্যু দেখেছি আমাদের সময়ে। শোক, ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের ঢেউ একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। এক তরুণের রক্ত সমগ্র জাতির বিবেকের ঘুমও ভেঙে দিয়েছিল।
আবু সাঈদ নিহত হওয়ার আগে আন্দোলন ছিল মূলত কোটা সংস্কারের দাবিকে ঘিরে। তাঁর মৃত্যুতে এর চরিত্র বদলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন পৌঁছে যায় শহর, মফস্বল ও গ্রামে। চায়ের দোকান থেকে পরিবারের খাবার টেবিল, কর্মস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; সবখানে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে আবু সাঈদের মৃত্যু। মানুষ অনুভব করছিল, একটি নতুন সময় শুরু হতে যাচ্ছে।
আবু সাঈদের মৃত্যুতে ভয়ের একটি দেয়ালও ভেঙে পড়ে। অনেক মানুষ, যারা এতদিন দূর থেকে ঘটনাগুলো দেখছিলেন, তাঁরাও বুঝতে শুরু করেন এই আন্দোলন আর কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একজন তরুণের রক্ত অসংখ্য মানুষের ভেতরে জমে থাকা নীরবতাকে ভেঙে দিয়েছিল। প্রতিবাদের কণ্ঠ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। মানুষ ভাবতে শুরু করে, এভাবে আর চলতে পারে না।

সেদিন থেকে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক, ক্ষমতা ও প্রতিবাদ, ভয় ও সাহসের প্রশ্নে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো আন্দোলনের চেহারা বদলে যায়।
এক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। শহীদ আসাদ ও নূর হোসেনের সময় মানুষ ঘটনা সম্পর্কে জেনেছিল পরে—সংবাদপত্রে, রেডিওতে বা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায়। আবু সাঈদের সময় মানুষ শুধু খবর শোনেনি, একটি মৃত্যু ঘটতে দেখেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভিডিওটি সারা দেশের মানুষ দেখে ফেলে। যে ঘটনাস্থলে ছিল না, সেও সেই মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে ওঠে।
আবু সাঈদের মৃত্যু শুধু একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরিণত হয়েছিল এক প্রজন্মের নিরাপত্তাহীনতা, বঞ্চনা, ক্ষোভ ও রাষ্ট্রের প্রতি জমে থাকা প্রশ্নগুলোর প্রতীকী বহিঃপ্রকাশে। আন্দোলনের গতি যেভাবে বদলে যায়, তা কেবল রাজনৈতিক কৌশল বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ফল ছিল না। যারা দূর থেকে আন্দোলন দেখছিলেন, সেই দিনের পর তারাও এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করতে শুরু করেন। শোক ধীরে ধীরে সংহতিতে, আর সংহতি রূপ নেয় প্রতিরোধে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিতে থাকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় অভিভাবকদের উদ্বেগ, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন। আবু সাঈদের মৃত্যু জুলাই অভ্যুত্থানের গতিপথ নির্ধারণকারী একটি কেন্দ্রীয় মুহূর্ত।
বহু বছর পর ইতিহাসবিদরা হয়তো ২০২৪ সালের আন্দোলনের রাজনৈতিক পটভূমি, কৌশল, নেতৃত্ব ও ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করবেন। কিন্তু সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে থাকবে একটি দৃশ্য। একজন নিরস্ত্র তরুণ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে। তারপর গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। আর একটি আন্দোলন নতুন শক্তি নিয়ে জেগে উঠছে। দৃশ্যটি একজন মানুষের মৃত্যু, একটি জাতির বিবেকের জেগে ওঠারও মুহূর্ত। সেই গুলির শব্দের মধ্য দিয়েই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল।
.png)

প্রধানত ১৮৬২ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যকার ঢাকা জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার তথ্য জানায় এই লেখাটি। সেকালে বিভিন্ন সময়ে চালের দাম কীভাবে ওঠানামা করত? তখনকার জীবনযাত্রা কেমন ছিল? সাধারণ মানুষের মজুরি কিংবা একটি বাড়ি বানানোর খরচই বা কত লাগত? জমির দাম ও খাজনা কত ছিল? সমাজে কারা ছিলেন সবচেয়ে ধনী এবং কৃষ
৭ ঘণ্টা আগে
বালাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের সেই বিভীষিকা যখন শুরু হয়, তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী সব বিদেশি সাংবাদিকদের বন্দুকের মুখে ঢাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন সাংবাদিক থেকে গেলেন এই মৃত্যুপুরীতে। তিনি সায়মন ড্র
১০ ঘণ্টা আগে
অভিনেতা বুলবুল আহমেদকে বলা হয় বাংলাদেশের ‘মহানায়ক’। হয়েছেন ‘দেবদাস’, হয়েছেন ‘শ্রীকান্ত’। সত্তর ও আশির দশকে সুদর্শন নায়ক হিসেবে তিনি অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়জগতের সবাই তাঁকে ‘ভদ্রলোক’ হিসেবেই জানে। ২০১০ সালে ১৫ জুলাই বুলবুল আহমেদের মৃত্যুর পর গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিত্রনায়ক র
১৫ জুলাই ২০২৬
শেষ পর্যন্ত থাংলিয়ানা একটি স্মৃতিকথার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। পার্বত্য চট্টগ্রামের অতীতকে নতুন চোখে দেখতে চাইলে, কিংবা ইতিহাসের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতার ভাষা বুঝতে চাইলে, এই বই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
১৫ জুলাই ২০২৬