ad

বিশ্বকাপে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ফিফার, উয়েফা-এএফসির বিরোধিতা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২১: ১৬
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : গোল ডট কম

২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৩২টি দল। ২০২৬ আসরে এক লাফে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ, ম্যাচ বেড়ে হয়েছে ১০৪টি। প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়েছে সমানে সমান। মিসর, প্যারাগুয়েও ফেবারিটদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে প্রমাণ করেছে, দল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মন্দ ছিল না।

বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা যখন ৪৮ দলের বিশ্বকাপেই মানিয়ে নিচ্ছে, তখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ভাবছেন আরও বড় কিছু। পুরুষদের বিশ্বকাপ ৪৮ থেকে ৬৪ দলে উন্নীত করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর প্রশ্নে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বিশ্বকাপের পর খতিয়ে দেখব।’ এ প্রসঙ্গে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটি বিশ্বকাপ যখন আয়োজন করা হয়, তখন সেটি ইউরোপ, আফ্রিকার জন্য আয়োজন না করে পুরো বিশ্বের জন্য আয়োজন করলে বিষয়টি কার্যকর হবে।’

ছোট দেশগুলোকে বৈশ্বিক মঞ্চে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আপনি যদি ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেন, তাহলে তাদের প্রতিনিয়ত উন্নতি করার সেই তাড়না বা অনুপ্রেরণাটাই হারিয়ে যাবে।’ চলতি বিশ্বকাপে আফ্রিকার ১০ দলের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে ওঠায় উচ্ছ্বসিত ইনফান্তিনো বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে মাত্র ৫টি দল অংশ নিয়েছিল। এটিই প্রমাণ করে দল বাড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

তবে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে উয়েফা ও এএফসি। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন প্রস্তাবটিকে সরাসরি ‘বাজে ধারণা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি টুর্নামেন্টের মান ও বাছাইপর্বের জৌলুস নষ্ট করবে।’

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা বলেন, ‘দল আরও বাড়ালে ফুটবলীয় সূচিতে কেবল বিশৃঙ্খলাই তৈরি হবে।’ কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্টালিয়ানিও মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।

বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক ডেল জনসনের মতে, দল বাড়ানোর এই তাগিদের পেছনে মূল কারণ সদস্য দেশগুলোর ভোট এবং স্পন্সরশিপ বাণিজ্য। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ মানে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মূল পর্বের টিকিট পাবে, যা ইনফান্তিনোর ভোটব্যাংক আজীবন সুরক্ষিত রাখবে। পাশাপাশি দল বাড়লে স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফিফার কোষাগারে যোগ হবে নতুন কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত