এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিতে ৫ দফা প্রস্তাব রাশেদ তিতুমীরের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সংগৃহীত ছবি

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়ন নিশ্চিতে ৫ দফা প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) হাই-লেভেল সেগমেন্টের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব দেন তিনি।

রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথ থেকে ছিটকে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কেবল ২০৩০ সালের এজেন্ডা বাস্তবায়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং ২০৩১ সালের মধ্যে টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিত করার দোহা কর্মসূচির লক্ষ্যকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে যাদের নিয়মিত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও বাহ্যিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ এবং নেপাল তাদের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আরও বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। উত্তরণ প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) কার্যকর করা এবং নীতিগত সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য এই অতিরিক্ত সময় কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়।

দোহা কর্মসূচির কাঠামোবদ্ধ সংস্কার এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী বছর দোহায় মিড-টার্ম রিভিউ বৈঠককে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি এলডিসিগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার এজেন্ডা পেশ করেন।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, ঋণঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার মতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের তাগিদ দিয়ে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনা করে সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি, ঋণ স্থগিতকরণ এবং টেকসই ঋণ সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে জলবায়ু অর্থায়নকে সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোজন, জ্বালানি রূপান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে’র সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থ প্রস্তাবে এলডিসিগুলোর বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, শুল্ক সুরক্ষার প্রবণতা বিপরীতমুখী করা এবং সহজ নিয়মের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেষ প্রস্তাবে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে জোর দেন তিতুমীর।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত