মাইক্রোসফটের তৈরি এক্সেলের বয়স এখন ৪০ বছর। এখন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এক্সেল এখন অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কারো মতে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে এক্সেল যে এখনও কতটা জনপ্রিয়, তা বোঝা যায় পরিসংখ্যানেই।
স্ট্রিম ডেস্ক

নব্বইয়ের দশকে কিছু কম্পিউটার গেমে ‘বস কি’ নামে একটি বাটন থাকত। অফিসে বসে গেম খেলতে খেলতে হঠাৎ বস চলে এলে, ওই বাটন চাপলেই গেমের জায়গায় খুলে যেত একটি এক্সেল শিট। দেখলে মনে হতো, কর্মী খুব মন দিয়ে অফিসের কাজ করছেন।
কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। আজকাল অফিসে কাউকে দীর্ঘ সময় ধরে এক্সেলে কাজ করতে দেখলে, অনেক বসই আর আগের মতো খুশি হন না। বরং বিরক্তও হতে পারেন।
মাইক্রোসফটের তৈরি এক্সেলের বয়স এখন ৪০ বছর। এখন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এক্সেল এখন অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কারো মতে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আবার কারো কাছে এক্সেল এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা, যেখানে ছোট ভুল বা সময়ের চাপ বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবে এক্সেল যে এখনও কতটা জনপ্রিয়, তা বোঝা যায় পরিসংখ্যানেই। অ্যাকুইটি ট্রেনিংয়ের গবেষণা বলছে, অফিসে কাজ করা মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার হলেও এক্সেল ব্যবহার করেন। অনেকে এক্সেল ছাড়া অফিসের কাজ কল্পনাই করতে পারেন না। ডাটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রতিষ্ঠান গ্রাফানার প্রযুক্তি প্রধান টম উইলকির মতে, ‘এক্সেল এখনও দারুণ কার্যকর একটি টুল। ছোট ডেটাসেট দেখা, কোনো আইডিয়া দ্রুত পরীক্ষা করা, কিংবা প্রেজেন্টেশনের জন্য তাড়াতাড়ি একটি চার্ট বানাতে চাইলে এক্সেলের তুলনা নেই।’

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ ডেটা বিশ্লেষণ আর ডেটা প্রক্রিয়াজাত করার পার্থক্য ভুলে যায়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণবিদ্যার অধ্যাপক মার্ক হোয়াইটহর্ন বলছেন, অনেক ছোট ছোট ক্যাটাগরিতে ডেটা আসে, ঢোকে এক্সেলে, ম্যাক্রো দিয়ে ঘুরে ফিরে বেরিয়ে যায়। ম্যাক্রো বলতে বোঝায় এক ধরনের শর্টকাট। একবার সেটা সেট করে দিলে বারবার একই কাজ এক ক্লিকেই করা যায়। শুনতে সুবিধাজনক লাগলেও, এই ব্যবস্থাই অনেক সময় বিপদের কারণ হয়।
হোয়াইটহর্নের ভাষায়, এসব স্প্রেডশিট প্রায়ই ঠিকমতো নথিভুক্ত করা হয় না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও হয় না। যিনি ম্যাক্রো লিখেছিলেন, তিনি হয়তো চাকরি ছেড়ে গেছেন। এখন যারা আছেন, তাঁরা জানেনই না কীভাবে ফাইলটি চালাতে হয়। এর ফল হলো, এক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ছড়িয়ে থাকে নানা এক্সেল ফাইলে, কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এতে ডেটা নিরাপদ রাখা কঠিন হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া জটিল হয়ে পড়ে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা বড় বিশ্লেষণের জন্য ডেটা ব্যবহার করাও হয়ে যায় কঠিন।
এর ফল যে কত ভয়াবহ হতে পারে, তার উদাহরণ আছে। গত বছর জানা যায়, হেলথ নিউজল্যান্ড তাদের আর্থিক কার্যক্রম বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি হিসেবে একটি এক্সেল ফাইল ব্যবহার করছিল। এতে ডেটা সংগ্রহ ও একত্র করা কঠিন হচ্ছিল, ভুল হচ্ছিল, আর রিয়েল-টাইম অবস্থার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাচ্ছিল না।
যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালে অ্যানেসথেটিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যায় স্প্রেডশিটের গণ্ডগোলের কারণে। এমনকি আফগান ডেটা কেলেঙ্কারিতেও একটি এক্সেল ফাইল শেয়ার করার ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তাহলে সমাধান কী? সমস্যা হলো, এক্সেল বাদ দেওয়া সহজ নয়। কানাডার টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলাস-এর পরিচালক মাউতি ওয়ালি জানান, তারা শত শত কর্মীকে এক্সেল থেকে সরিয়ে একটি কাস্টমাইজড সিস্টেমে নিতে চেয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল ডেটা ব্যবস্থাপনা সহজ করা, অটোমেশন বাড়ানো, আর এআই যুক্ত করা। কিন্তু কর্মীরা চাইছিলেন, নতুন সিস্টেম থাকুক, পাশাপাশি পুরোনো এক্সেলও চলুক। ওয়ালি তখন কড়া সিদ্ধান্ত নেন, দুটি একসঙ্গে চলবে না। নতুন সিস্টেম ব্যবহার করতে হলে এক্সেল ছাড়তেই হবে।
মাইক্রোসফট অবশ্য তাদের সফটওয়্যারের পক্ষে কথা বলছে। তাদের দাবি, চার দশকে এক্সেল একটি সাধারণ স্প্রেডশিট থেকে বহুমুখী প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। গত ছয় বছরে এর মাসিক ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, আর বিভিন্ন শিল্পে ডেটা বিশ্লেষণ ও রিপোর্টিংয়ের জন্য এটি এখনও প্রথম পছন্দ।
শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, ছোট ব্যবসাও এক্সেলের সীমাবদ্ধতা টের পাচ্ছে। লন্ডনের বাইক ফিটিং ব্যবসায়ী কেট কর্ডেন এক্সেলে দক্ষ হলেও বুঝেছেন, ডেটা হারানো বা বদলে যাওয়া খুব সহজ। তাই তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চলে গেছেন। একইভাবে, এক স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ জুলিয়ান ট্যানার এক্সেল ছেড়ে অনলাইন অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বছরে ছয় হাজার পাউন্ডের বেশি সাশ্রয় করেছেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, এক্সেল পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়তো বাস্তবসম্মত নয়।

নব্বইয়ের দশকে কিছু কম্পিউটার গেমে ‘বস কি’ নামে একটি বাটন থাকত। অফিসে বসে গেম খেলতে খেলতে হঠাৎ বস চলে এলে, ওই বাটন চাপলেই গেমের জায়গায় খুলে যেত একটি এক্সেল শিট। দেখলে মনে হতো, কর্মী খুব মন দিয়ে অফিসের কাজ করছেন।
কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। আজকাল অফিসে কাউকে দীর্ঘ সময় ধরে এক্সেলে কাজ করতে দেখলে, অনেক বসই আর আগের মতো খুশি হন না। বরং বিরক্তও হতে পারেন।
মাইক্রোসফটের তৈরি এক্সেলের বয়স এখন ৪০ বছর। এখন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এক্সেল এখন অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কারো মতে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আবার কারো কাছে এক্সেল এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা, যেখানে ছোট ভুল বা সময়ের চাপ বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবে এক্সেল যে এখনও কতটা জনপ্রিয়, তা বোঝা যায় পরিসংখ্যানেই। অ্যাকুইটি ট্রেনিংয়ের গবেষণা বলছে, অফিসে কাজ করা মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার হলেও এক্সেল ব্যবহার করেন। অনেকে এক্সেল ছাড়া অফিসের কাজ কল্পনাই করতে পারেন না। ডাটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রতিষ্ঠান গ্রাফানার প্রযুক্তি প্রধান টম উইলকির মতে, ‘এক্সেল এখনও দারুণ কার্যকর একটি টুল। ছোট ডেটাসেট দেখা, কোনো আইডিয়া দ্রুত পরীক্ষা করা, কিংবা প্রেজেন্টেশনের জন্য তাড়াতাড়ি একটি চার্ট বানাতে চাইলে এক্সেলের তুলনা নেই।’

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ ডেটা বিশ্লেষণ আর ডেটা প্রক্রিয়াজাত করার পার্থক্য ভুলে যায়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণবিদ্যার অধ্যাপক মার্ক হোয়াইটহর্ন বলছেন, অনেক ছোট ছোট ক্যাটাগরিতে ডেটা আসে, ঢোকে এক্সেলে, ম্যাক্রো দিয়ে ঘুরে ফিরে বেরিয়ে যায়। ম্যাক্রো বলতে বোঝায় এক ধরনের শর্টকাট। একবার সেটা সেট করে দিলে বারবার একই কাজ এক ক্লিকেই করা যায়। শুনতে সুবিধাজনক লাগলেও, এই ব্যবস্থাই অনেক সময় বিপদের কারণ হয়।
হোয়াইটহর্নের ভাষায়, এসব স্প্রেডশিট প্রায়ই ঠিকমতো নথিভুক্ত করা হয় না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও হয় না। যিনি ম্যাক্রো লিখেছিলেন, তিনি হয়তো চাকরি ছেড়ে গেছেন। এখন যারা আছেন, তাঁরা জানেনই না কীভাবে ফাইলটি চালাতে হয়। এর ফল হলো, এক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ছড়িয়ে থাকে নানা এক্সেল ফাইলে, কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এতে ডেটা নিরাপদ রাখা কঠিন হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া জটিল হয়ে পড়ে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা বড় বিশ্লেষণের জন্য ডেটা ব্যবহার করাও হয়ে যায় কঠিন।
এর ফল যে কত ভয়াবহ হতে পারে, তার উদাহরণ আছে। গত বছর জানা যায়, হেলথ নিউজল্যান্ড তাদের আর্থিক কার্যক্রম বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি হিসেবে একটি এক্সেল ফাইল ব্যবহার করছিল। এতে ডেটা সংগ্রহ ও একত্র করা কঠিন হচ্ছিল, ভুল হচ্ছিল, আর রিয়েল-টাইম অবস্থার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাচ্ছিল না।
যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালে অ্যানেসথেটিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যায় স্প্রেডশিটের গণ্ডগোলের কারণে। এমনকি আফগান ডেটা কেলেঙ্কারিতেও একটি এক্সেল ফাইল শেয়ার করার ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তাহলে সমাধান কী? সমস্যা হলো, এক্সেল বাদ দেওয়া সহজ নয়। কানাডার টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলাস-এর পরিচালক মাউতি ওয়ালি জানান, তারা শত শত কর্মীকে এক্সেল থেকে সরিয়ে একটি কাস্টমাইজড সিস্টেমে নিতে চেয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল ডেটা ব্যবস্থাপনা সহজ করা, অটোমেশন বাড়ানো, আর এআই যুক্ত করা। কিন্তু কর্মীরা চাইছিলেন, নতুন সিস্টেম থাকুক, পাশাপাশি পুরোনো এক্সেলও চলুক। ওয়ালি তখন কড়া সিদ্ধান্ত নেন, দুটি একসঙ্গে চলবে না। নতুন সিস্টেম ব্যবহার করতে হলে এক্সেল ছাড়তেই হবে।
মাইক্রোসফট অবশ্য তাদের সফটওয়্যারের পক্ষে কথা বলছে। তাদের দাবি, চার দশকে এক্সেল একটি সাধারণ স্প্রেডশিট থেকে বহুমুখী প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। গত ছয় বছরে এর মাসিক ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, আর বিভিন্ন শিল্পে ডেটা বিশ্লেষণ ও রিপোর্টিংয়ের জন্য এটি এখনও প্রথম পছন্দ।
শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, ছোট ব্যবসাও এক্সেলের সীমাবদ্ধতা টের পাচ্ছে। লন্ডনের বাইক ফিটিং ব্যবসায়ী কেট কর্ডেন এক্সেলে দক্ষ হলেও বুঝেছেন, ডেটা হারানো বা বদলে যাওয়া খুব সহজ। তাই তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চলে গেছেন। একইভাবে, এক স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ জুলিয়ান ট্যানার এক্সেল ছেড়ে অনলাইন অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বছরে ছয় হাজার পাউন্ডের বেশি সাশ্রয় করেছেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, এক্সেল পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়তো বাস্তবসম্মত নয়।

কয়েক মিনিটের কাজ। অথচ দেখা যায়, ঘড়ির কাঁটা একের পর এক ঘর পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাজটা আর করা হয়ে উঠছে না। জানি কী করতে হবে, জানি সময়ও লাগবে না। তবু কাজটা পড়ে থাকে। এই ‘পরে করব সিনড্রোম’ কি কোনো রোগ? কেন কয়েক মিনিটের কাজও আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখি?
২ ঘণ্টা আগে
ফিল্টার তৈরি করে এক ধরনের পারফেক্ট জীবনের ভ্রম, ফোমো মানসিক চাপ ও তুলনার জন্ম দেয়, আর ফিউশন বিভিন্ন দেশ–সংস্কৃতিকে মিশিয়ে নতুন হাইব্রিড কালচার তৈরি করে। এই তিনটি মিলেই সোশ্যাল মিডিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাবকে গড়ে তুলছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ভালো ছবি মানেই শুধু দামি ক্যামেরা বা স্মার্টফোন নয়। ছবিতে কোথায় কী রাখবেন, কী বাদ দেবেন, আলো–ছায়া আর ফ্রেম কীভাবে কাজ করবে, এই সিদ্ধান্তগুলোর নামই কম্পোজিশন। একটু ভাবনা আর কিছু সহজ নিয়ম জানলে সাধারণ দৃশ্যও হয়ে উঠতে পারে চোখে পড়ার মতো ছবি। এই লেখায় থাকছে ফটোগ্রাফি কম্পোজিশনের সহজ কৌশল।
১ দিন আগে
আজ ১২ জানুয়ারি ‘গরম চা দিবস’ বা ‘হট টি ডে’। পানির পর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ যে পানীয়টি পান করে, সেটি চা। কেন গরম চা দিবস পালিত হয়? যেভাবে উদযাপন করতে পারেন গরম চা দিবস?
১ দিন আগে