বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শুরু হয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘সংলাপের চেতনা’ বা ‘এ স্পিরিট অব ডায়ালগ’।
পাঁচ দিনব্যাপী এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা ও নাগরিক সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। তবে এবারের সম্মেলনের আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি এবং তাঁকে ঘিরে সৃষ্ট সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা।
স্থান ও সময়সূচি
সুইজারল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় আল্পস পর্বতমালার গ্রাউবন্ডেন ক্যান্টনে অবস্থিত দাভোস শহর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৫০০ মিটার (৫,০০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। স্কি রিসোর্টের জন্য বিখ্যাত ও মাত্র ১০ হাজার মানুষের বসবাস এই শহরে। ১৯৭১ সাল থেকে প্রতি বছর জানুয়ারিতে দাভোসেই ডব্লিউইএফ ফোরামের আসর বসে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনের মূল অধিবেশনগুলো চলবে আগামী ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত।
আলোচ্য বিষয় ও প্রেক্ষাপট
এবারের সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্ব বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো এবারে আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। জেনেভাচালিত থিংক-ট্যাংক হিসেবে পরিচিত ডব্লিউইএফ ১৯৭১ সালে মূলত ব্যবসায়িক নির্বাহীদের সমাবেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি বেড়েছে এবং এখন এটি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইউরোপীয় নেতাদের বহুপাক্ষিকতার ধারণার মধ্যে সংঘাত এবারের সম্মেলনের সুরে প্রভাব ফেলবে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর অবস্থানের মুখে ট্রাম্প কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
ট্রাম্পের উপস্থিতি ও গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সম্মেলনে ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্ষিক এই সমাবেশের ফাঁকে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠকও করতে চান ট্রাম্প। তবে তাঁর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্ক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ‘কিনে নেওয়া’ বা ‘দখল করার’ বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ইউরোপীয় মিত্রদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের দাভোস সফর পশ্চিমা জোটের ফাটল আরও দৃশ্যমান করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।