জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সংরক্ষিত আসন পেতে তিন দলের দ্বারস্থ মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদের একটি সংরক্ষিত আসন পেতে তিনটি দলের সমর্থন চাইছে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই দলটি জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থন চাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হিসেবে নির্বাচন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচনে এককভাবে জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬ ও খেলাফত মজলিস একটিতে জয় পেয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন পেয়েছে একটি আসন। ফলে জামায়াত-এনসিপি ছাড়া এই দলগুলোর কোনোটিই এককভাবে সংরক্ষিত নারী আসন পাবে না। তবে নিজের ঝুলিতে থাকা দুটি আসন থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই দলগুলোর প্রতীকে নির্বাচিত চার এমপির মনোনয়ন নিতে পারলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।

একাধিক সূত্র স্ট্রিমকে জানিয়েছে, তিনটি দলের কাছেই সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। মাওলানা মামুনুল হক নিজে তাদের কাছে যাবেন। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সমর্থন আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, জামায়াত ৬৬ নির্বাচিত এমপির বিপরীতে ১১টি সংরক্ষিত আসন পাবে। তাদের হাতে থেকে যাবে আরও দুজন নির্বাচিত এমপি। জামায়াতের এই দুই এমপির সমর্থন চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

জোটের আরেক শরিক খেলাফত মজলিস (দেয়াল ঘড়ি) থেকে নির্বাচিত এক এমপির সমর্থন পেলে মোট ৫ জনের সমর্থন পেয়ে যাবে মামুনুল হকের দল। প্রয়োজনে চরমোনাই পীরের নির্বাচিত এমপির সমর্থনও চাওয়া হবে।

জামায়াতের এমপিদের সমর্থন চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি স্ট্রিমকে জানান, জামায়াতের সমর্থন চাওয়ার কথা তারা ভাবছেন। ইতোমধ্যে এ নিয়ে নিজেদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক হয়েছে।

দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, শনিবারের বৈঠকে আলোচনার পরে সমর্থন আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। তিনিই দল তিনটির সমর্থন আদায় করে একটি সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী।

এ ব্যাপারে মামুনুল হকের মোবাইল নম্বরে কল দিলে রিসিভ হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ১৪ মার্চ ওমরা পালনে সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে আমিরের। এর আগেই তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন।

সংসদে একটি নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরা সংরক্ষিত আসন পাওয়ার আশা করছেন না। মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষ থেকে এখনো তাদের সমর্থন দেওয়ার কোনো প্রস্তাব আসেনি। প্রস্তাব এলে তারা ভেবে দেখবেন।

১১-দলীয় জোটের বাইরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তাদের আন্তরিক সুসম্পর্ক রয়েছে। নিজেদের যেহেতু সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই মামুনুল হক প্রস্তাব দিলে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে মামুনুল হকের স্মরণকালের সবচেয়ে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কয়েক নেতা বলেছেন, আমিরে মজলিসের প্রস্তাব জামায়াত ফেলতে পারবে না।। প্রায় একই ধরনের মনোভাব জামায়াত নেতাদের মধ্যেও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের দুই নেতা স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, তারা মনে করেন, প্রস্তাব দিলে জামায়াত দুই এমপির সমর্থন মামুনুল হকের দলকে দিয়ে দিতে পারে।

কোন দল কত সংরক্ষিত আসন পাবে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮ আসনে জয় পেয়েছে। প্রতি ছয় সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হয়। এই অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মধ্যে জামায়াত পাবে ১১টি। কোনো কারণে বণ্টন আসনসংখ্যা মোট আসনের চেয়ে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতের মহিলা বিভাগ ১২ সদস্যের তালিকা দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কাছে দিয়েছে। পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি এই তালিকা চূড়ান্ত করবেন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় নিয়ে পাবে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। ছয় আসনে জয়ী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে একটি। বাকি তিন আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।

নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বাইরে ৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে এই সাত জনের সবাই ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী। তাদের সম্মিলিত সমর্থনে ৬ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত আসন থাকবে। জামায়াত-এনসিপি জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস মিলে পেয়েছে তিনটি আসন। আর বিএনপি জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে একটি করে মোট তিন আসন। আর ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছে একটি আসন।

সম্পর্কিত