সিএনএনের প্রতিবেদন: ইরানের ‘নেতৃত্বে ফাটল’ নাকি ট্রাম্পের ‘তেহরান বিভক্ত’ তত্ত্ব

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কয়ারে একটি বিশাল বিলবোর্ডের সামনে পথচারীরা। ছবি: এএফপি

ইরান সরকার ‘মারাত্মকভাবে বিভক্ত’ হয়ে পড়েছে — এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের মতে, যুদ্ধের চাপে ইরান বরং আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য ইরান পাকিস্তানে না আসাটাই প্রমাণ করে তাদের নেতৃত্বে গভীর ফাটল ধরেছে। কিন্তু জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরাত কামরাভা সিএনএনকে বলেন, এটি ইরানি নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে পড়া। যুদ্ধ পরিচালনা ও আলোচনায় তারা বরাবরই সংহত থেকেছে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সিও বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন গোষ্ঠী আগের চেয়ে অনেক বেশি একমত হয়ে কাজ করছে।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর দেওয়া নৌ-অবরোধ না তুললে আলোচনায় ফেরা সম্ভব নয়। আলোচনায় বিভক্তির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের উপ মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই বলেছেন, এটি ইরানের শত্রুদের পুরনো প্রচারণার কৌশল। রণক্ষেত্র, জনগণ ও কূটনীতিকদের মধ্যে এখন যে ঐক্য, তা সত্যিই অসাধারণ।

ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সামনে আনা হয়েছে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে। দীর্ঘদিনের পার্লামেন্ট স্পিকার ও সাবেক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কমান্ডার গালিবাফ ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বড় দল সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। যা স্পষ্টতই ঐক্য দেখানোর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

তবে ইরানের ভেতরেও চাপ কম নয়। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আপোসের বিরোধিতা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি খোলার ইঙ্গিত দিলে কট্টরপন্থীরা তার ওপর চড়াও হন, বাধ্য হয়ে অন্য কর্মকর্তাদের দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট করতে হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা আলী খামেনি দায়িত্ব নিলেও তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। খবর রয়েছে গুরুতর আহত। ফলে অধীনস্থ কর্মকর্তারা অনেকটা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

জার্মান ইনস্টিটিউটের গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার কাছে যতটা নিয়মিত পৌঁছানো দরকার, সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না। এতে অন্য কর্মকর্তারা নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে ট্রাম্পের নিজের আচরণও আলোচনায় বাধা তৈরি করছে বলে মনে করছেন তার প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা। তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, চলমান আলোচনার মাঝে ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাটা ক্ষতিকর হয়েছে। ইরান এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে গভীরভাবে অবিশ্বাস করে। এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য চুক্তির পথ আরও কঠিন করে তুলছে।

সম্পর্কিত