জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ দরকার: প্যারিসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ২০: ০৬
প্যারিসে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পনা না করে সরাসরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, অনেক পরিকল্পনা ও আলোচনা হয়েছে। এখন আর কথা শোনার সময় নেই। মানুষকে বাঁচাতে আমাদের এখন কাজ দেখাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি কৌশলগত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্ত্যমন্ত্রী। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ (এটাচ) সভার যৌথ আয়োজক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। এসব দেশে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ফর হেলথ’ নামে বিশেষ স্বাস্থ্য তহবিল গঠনের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কক্সবাজার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চারপাশের পানি লবণাক্ত ও দূষিত হয়ে পড়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতির প্রতি বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।

বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো অনেক দেশে এখনো পুরোনো প্রযুক্তির ইটভাটায় কয়লা পোড়ানো হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে এবং ‘স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৬–৩০’ প্রণয়ন করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় ডেঙ্গুসহ ভেক্টরবাহিত রোগ, পানিবাহিত রোগ, তাপপ্রবাহ ও বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপুষ্টি, খাদ্যনিরাপত্তা, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের সামাজিক প্রভাবও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল অনিতা ভ্যান ডে আন্দে এবং ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ড. গ্লোরিয়া জে. বালবোয়া উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিসেফের আমন্ত্রণে গত ২১ জুন ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আমন্ত্রণে ২৪ জুন প্যারিসে যান তিনি। আগামী ২৭ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত