‘আমার বাপেরে কোপাইছে, আমি কোপাইছি’—আটক হত্যাকারীর দম্ভোক্তি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৯
র‍্যাবের হাতে আটক আবদুল খালেক। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় র‍্যাবের হাতে আটক এক ব্যক্তি দায় স্বীকার করে দম্ভোক্তি করেছেন। আটক আবদুল খালেক (২৭) বলেন, তার বাবাকে কোপানোর জেরে তিনি মোহাম্মদ রাব্বি (২৫) নামের ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে র‍্যাব-১৪ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেষে ছবি তোলার সময় আবদুল খালেক এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কী কথা আছিল, এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুজজুইন না? সন্ত্রাসী মারছি। আমার বাপেরে কোপাইছে, আমি কোপাইছি।’

রাব্বিকে হত্যার ব্যাপারে আবদুল খালেক আরও বলেন, ‘আমরা মারছি দুই ভাইয়ে। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা কোপাইছি ওরে।’

র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন আবদুল খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে আবদুল খালেক দাবি করেছেন। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে আবদুল খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় আকারের একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

সামসুজ্জামান আরও জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও ৮-১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিশ চাঁদাবাজিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে আটক করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত