স্ট্রিম সংবাদদাতা

এইচএসসি পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে আসেন রাজশাহীর পুঠিয়ার এক পরীক্ষার্থী। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে পরীক্ষক তাঁকে বাসায় ডেকে নেন। টাকার বিনিময়ে তাঁকে আবার লেখার সুযোগ করে দেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এভাবে আবার ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান নগরীর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিকের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। পরীক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একাধিক অডিও স্ট্রিমের হাতে এসেছে।
মেহেদী জানান, তাঁর সঙ্গে পরীক্ষকের মোবাইলে কথা হয় বৃহস্পতিবার রাতে। তিনি টাকা নিয়ে আসতে বলেন এবং বিষয়টি যেন অভিভাবকেরা না জানেন। আলাপের একপর্যায়ে পরীক্ষক বলেন, ‘একজন ভিক্ষুকের কাছেও দুই-দশ-বিশ হাজার টাকা থাকে।’ জবাবে মেহেদী বলেন, আমি বেকার, কাছে এত টাকা থাকা কঠিন।
এরপর পরীক্ষক মেহেদীকে আরও পরীক্ষার্থীকে সঙ্গে আনতে বলেন। মেহেদী তখন বলেন, তাঁরা এখন যত টাকা পারেন, আসবেন। আরও প্রয়োজন হলে ফল প্রকাশের পর দেবেন।
মেহেদীর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে পরীক্ষকের সঙ্গে কথা হওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তিনি রাজশাহী নগরীর বিনোদপুরে যান। ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ, সামিসহ মোট আট পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাঁরা বিনোদপুর বাজারে অপেক্ষায় ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন পরীক্ষক। তিনি শুধু মেহেদী ও রুহুলকে মোটরসাইকেলে তুলে বাসায় নিয়ে যান। ১০-১৫ মিনিট পর তাঁরা টিনশেড বাড়িতে পৌঁছান।
মেহেদীর দাবি, সেখানে পরীক্ষক ইংরেজি বিষয়ের খাতা দেন। তাঁর খাতায় মোবাইল নম্বর লেখা থাকায়, তা সহজেই খুঁজে পান। তবে রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। দুজনের মোবাইল ফোনে এয়ারপ্লেন মোড রাখতে বাধ্য করেন পরীক্ষক। লেখা শেষ হলে নিজের মোবাইল নম্বর মেহেদীর ফোন থেকে মুছে দেন এবং আবার দুজনকে বিনোদপুরে পৌঁছে দেন তিনি।
দীর্ঘ সময় সহপাঠীরা মেহেদী ও রুহুলকে ফোনে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। এরপর পরীক্ষকের বাড়িতে গিয়ে খাতা লেখার বিষয়টি জানাজানি হয়।
মেহেদী স্ট্রিমকে জানান, তাঁর খাতায় প্রথমে ২৫ নম্বর ছিল। পরীক্ষককে দুই হাজার টাকা দিলে, তিনি আবার খাতায় লেখার সুযোগ দেন। ভুলগুলো ঠিক করেন। যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি, সেগুলো ফাঁকা অংশে লিখেন। এবার ৫০-এর বেশি নম্বর পাবেন বলে জানান মেহেদী।
তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানেন না মেহেদী ও তাঁর সহপাঠীরা। মেহেদীর সহপাঠী ইমন আলী বলেন, পরীক্ষকের নাম-পরিচয় জানেন না। তবে দেখলে চিনতে পারবেন। তিনি বলেন, পরীক্ষক মেহেদীর ফোন থেকে নিজের নম্বর মুছে দিয়েছেন। তবে আরও কয়েক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করবেন না। তাদের খাতা দেখানোর জন্য পরীক্ষক মেহেদীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
পরীক্ষকের বাসা থেকে বের হয়ে মেহেদী ও রুহুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজুর কাছে যান। তাঁকে পুরো ঘটনা জানান। সাজু বলেন, ‘একটি পাবলিক পরীক্ষার খাতা নিয়ে এমন ছেলেখেলা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ জানান, এই ধরনের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। পরীক্ষার্থীদের নাম জানানোর পরে তিনি বলেন, ফরম পূরণের তালিকা দেখলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী বলেন, ‘চাকরিজীবনে আমি এমন ঘটনার কথা শুনিনি। এটি সত্যি হলে খুবই ভয়াবহ। আমরা এটি কোনোভাবেই বরদাশত করব না। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, গত ৮ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালেই খাতা পরীক্ষকদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছিল। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন যেকোনো জেলার পরীক্ষকের কাছে খাতা যেতে পারে। কোন খাতা কোন পরীক্ষকের কাছে গেছে, তা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানেন না।

এইচএসসি পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে আসেন রাজশাহীর পুঠিয়ার এক পরীক্ষার্থী। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে পরীক্ষক তাঁকে বাসায় ডেকে নেন। টাকার বিনিময়ে তাঁকে আবার লেখার সুযোগ করে দেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এভাবে আবার ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান নগরীর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিকের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। পরীক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একাধিক অডিও স্ট্রিমের হাতে এসেছে।
মেহেদী জানান, তাঁর সঙ্গে পরীক্ষকের মোবাইলে কথা হয় বৃহস্পতিবার রাতে। তিনি টাকা নিয়ে আসতে বলেন এবং বিষয়টি যেন অভিভাবকেরা না জানেন। আলাপের একপর্যায়ে পরীক্ষক বলেন, ‘একজন ভিক্ষুকের কাছেও দুই-দশ-বিশ হাজার টাকা থাকে।’ জবাবে মেহেদী বলেন, আমি বেকার, কাছে এত টাকা থাকা কঠিন।
এরপর পরীক্ষক মেহেদীকে আরও পরীক্ষার্থীকে সঙ্গে আনতে বলেন। মেহেদী তখন বলেন, তাঁরা এখন যত টাকা পারেন, আসবেন। আরও প্রয়োজন হলে ফল প্রকাশের পর দেবেন।
মেহেদীর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে পরীক্ষকের সঙ্গে কথা হওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তিনি রাজশাহী নগরীর বিনোদপুরে যান। ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ, সামিসহ মোট আট পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাঁরা বিনোদপুর বাজারে অপেক্ষায় ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন পরীক্ষক। তিনি শুধু মেহেদী ও রুহুলকে মোটরসাইকেলে তুলে বাসায় নিয়ে যান। ১০-১৫ মিনিট পর তাঁরা টিনশেড বাড়িতে পৌঁছান।
মেহেদীর দাবি, সেখানে পরীক্ষক ইংরেজি বিষয়ের খাতা দেন। তাঁর খাতায় মোবাইল নম্বর লেখা থাকায়, তা সহজেই খুঁজে পান। তবে রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। দুজনের মোবাইল ফোনে এয়ারপ্লেন মোড রাখতে বাধ্য করেন পরীক্ষক। লেখা শেষ হলে নিজের মোবাইল নম্বর মেহেদীর ফোন থেকে মুছে দেন এবং আবার দুজনকে বিনোদপুরে পৌঁছে দেন তিনি।
দীর্ঘ সময় সহপাঠীরা মেহেদী ও রুহুলকে ফোনে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। এরপর পরীক্ষকের বাড়িতে গিয়ে খাতা লেখার বিষয়টি জানাজানি হয়।
মেহেদী স্ট্রিমকে জানান, তাঁর খাতায় প্রথমে ২৫ নম্বর ছিল। পরীক্ষককে দুই হাজার টাকা দিলে, তিনি আবার খাতায় লেখার সুযোগ দেন। ভুলগুলো ঠিক করেন। যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি, সেগুলো ফাঁকা অংশে লিখেন। এবার ৫০-এর বেশি নম্বর পাবেন বলে জানান মেহেদী।
তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানেন না মেহেদী ও তাঁর সহপাঠীরা। মেহেদীর সহপাঠী ইমন আলী বলেন, পরীক্ষকের নাম-পরিচয় জানেন না। তবে দেখলে চিনতে পারবেন। তিনি বলেন, পরীক্ষক মেহেদীর ফোন থেকে নিজের নম্বর মুছে দিয়েছেন। তবে আরও কয়েক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করবেন না। তাদের খাতা দেখানোর জন্য পরীক্ষক মেহেদীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
পরীক্ষকের বাসা থেকে বের হয়ে মেহেদী ও রুহুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজুর কাছে যান। তাঁকে পুরো ঘটনা জানান। সাজু বলেন, ‘একটি পাবলিক পরীক্ষার খাতা নিয়ে এমন ছেলেখেলা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ জানান, এই ধরনের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। পরীক্ষার্থীদের নাম জানানোর পরে তিনি বলেন, ফরম পূরণের তালিকা দেখলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী বলেন, ‘চাকরিজীবনে আমি এমন ঘটনার কথা শুনিনি। এটি সত্যি হলে খুবই ভয়াবহ। আমরা এটি কোনোভাবেই বরদাশত করব না। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, গত ৮ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালেই খাতা পরীক্ষকদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছিল। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন যেকোনো জেলার পরীক্ষকের কাছে খাতা যেতে পারে। কোন খাতা কোন পরীক্ষকের কাছে গেছে, তা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানেন না।
.png)
-869f32.jpeg)
মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝোলানো বোমাসদৃশ তিনটি বক্স উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে এগুলো ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ সেগুলো নামিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পায় সাউন্ড বক্স। স্থানীয়রা জানান, শহরের পার্কের সামনে ঝোলানো বক্স থেকে সকাল সোয়া ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু শ
৮ মিনিট আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
সাধারণত রাত ১২টার পর বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ (সর্বোচ্চ চাহিদা) শেষ হয়। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট কমে আসে। কিন্তু এখন উল্টো এই সময়ে চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। মধ্যরাতে বিদ্যুতের এই চাহিদার উল্লম্ফনের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের চার্জ দেওয়াকে দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। সম্প্
১ ঘণ্টা আগে
নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফেরেনি। তবে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। মাছের দাম চড়ছেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমের ডজন ১৪০ টাকা, আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।
১ ঘণ্টা আগে-869f32.jpeg)