leadT1ad

নাটোরে জিয়া পরিষদের কর্মীকে গলা কেটে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে বৃদ্ধা নিহত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ১৩
নিহত রেজাউল করিম (সংগৃহীত ছবি), ওহাবের বাড়িতে আগুন

নাটোর জেলা জিয়া পরিষদ সদস্য রেজাউল করিমকে (৫৩) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন নিহতের বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। এতে ঘর থেকে বের হতে না পেরে দগ্ধ হয়ে সাবিহা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত থেকেই ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় জেলার সিংড়া উপজেলায় কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে রেজাউল করিমের গলা কেটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি সিংড়ার বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপনের চাচা।

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলমের কুমারপাড়ায় রেজাউলের বাড়ির অদূরে ধ্বস্তাধ্বস্তি ও চিৎকারের শব্দ শুনে তারা এগিয়ে আসেন। এসময় রাস্তার পাশে গলা কাটা অবস্থায় রেজাউল করিমকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কলম ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে হামলা করে নিহতের রেজাউলের স্বজন ও সমর্থকরা। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওহাব নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় বাড়ির অন্য সদস্যরা দ্রুত বের হয়ে গেলেও বের হতে পারেননি ওহাবের মা সাবিহা বেগম। তিনি ঘরের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান।

মুন্নুজান নামে ওহাবের এক প্রতিবেশী জানান, মধ্যরাতে তাদের চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙে। বেরিয়ে এসে দেখেন প্রতিবেশী ওহাবের বাড়িঘরে আগুন জ্বলছে। একটি ঘরের ভেতর থেকে মায়ের চিৎকারের আওয়াজ আসতে থাকে। আগুন নেভার পর তাঁর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, নিহত রেজাউল করিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে আলাউদ্দিন মুন্সী ও ওহাবের পরিবারের সদস্যরা পলাতক হয়েছেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ স ম আব্দুন নুর জানান, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে পূর্ব বিরোধ থেকে রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ওহাবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার তাঁর মা নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। যারা এ দুই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

এদিকে, রেজাউল করিমকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত