leadT1ad

৪৫ লাখ টাকার সড়ক, ঘষা দিলেই উঠছে কার্পেটিং

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নীলফামারী

নীলফামারির কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ছবি: স্ট্রিম

নীলফামারীতে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কে কার্পেটিং ঢালাইয়ের ৭ দিনের মাথায় উঠতে শুরু করেছে কার্পেটিং। জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামীণ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া এবং নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করে কাজ শেষ করায় এমন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় সদ্য নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। রাস্তার কোনো কোনো অংশে হাত বা পায়ের সামান্য ঘষাতেই পিচ উঠে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কে ফাটল এবং ভাঙনের চিহ্নও দেখা গেছে।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাগুড়া ইউনিয়নের চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্স।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনে তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করে। সড়ক নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও সমতল করা হয়নি। এছাড়া ইট, বালু ও কুচি পাথরের সঠিক স্তর না দিয়েই তড়িঘড়ি করে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ঢালাই দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে বারবার ভালোভাবে কাজ করার কথা বলেছি, কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

অপর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, এখানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলেই রাস্তার এই অবস্থা। অল্প কয়েকদিনেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগও ঠিকাদার আমলে নেননি।

মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু অভিযোগ করেন, সরকারি ছুটির দিনে কাজ করায় তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজের বিষয়ে আপত্তি তুললেও ঠিকাদার তা উপেক্ষা করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসগুল হক জানান, সেখানে কোনো নিম্নমানের কাজ করা হয়নি। আমরা বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি, কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। শুধু এই প্রকল্প নিয়েই অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত