চার মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১৯: ৫৪
চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। সংগৃহীত ছবি

দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে, আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়, লাইসেন্স ফি, রাজস্ব ভাগাভাগি, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) এবং বিভিন্ন অডিট আপত্তিজনিত দাবির কারণে মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে সরকারের এ বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত দাবির কারণে এ পাওনা সৃষ্টি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি এবং অন্যান্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ বকেয়া রয়েছে।

বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা ৬১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অডিট আপত্তিজনিত দাবি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়েও আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা ৪৭৩ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির কারণে এ অর্থ বকেয়া রয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বড় অঙ্কের কয়েকটি দাবি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিশেষ করে অডিট আপত্তি ও রাজস্ব ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আটকে রয়েছে।

সরকার এসব বকেয়া আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলেও সংসদে জানানো হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত