তাপপ্রবাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা, ছাতা ও স্যালাইন বিতরণ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৩: ৫৭
চুয়াডাঙ্গায় গরমে রাস্তার পাশ থেকে আখের শরবত খাচ্ছেন পথচারী। সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহে পুড়ছে জনজীবন। অসহনীয় গরমে বেড়েছে মানুষের অস্বস্তি। তাপপ্রবাহের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। ঘরের বাইরে বেড়ানো দুষ্কার হয়ে পড়েছে সকল বয়সী মানুষদের। এরই মধ্যে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ছাতা বিতরণ করেছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১২টায় জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ। আগে দিন বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টায় জেলায় তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন বিকেল ৩টায় জেলায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪৭ শতাংশ।

তাপমাত্রা বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের বিভিন্ন স্থানে গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। রোদের তাপ ও গরম থেকে বাচঁতে অনেকেই ফুটপাতের বিভিন্ন দোকান থেকে লেবুর শরবত, আখের রস ও বেলের শরবত পান করছেন।

শহরে আসা এক পথচারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় প্রচণ্ড রোদের তাপ। এ রোদের মধ্যে বাইরে বেড়ানো দুষ্কার হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে অসহনীয় অবস্থা। রোদের তাপ মনে হচ্ছে গায়ে আগুনের তাপ লাগছে।’

এদিকে গরম ও দাপদাহের কবল থেকে বাঁচাতে চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জেলা শহরের বড় বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন ও ছাতা বিতরণ করেছে। এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

দুপুর ১২টার দিকে তারা ছাতা ও স্যালাইন বিতরণ করে। এই তীব্র গরমের কারণে তাদের কর্মসূচি চলবে সাত দিন।

চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরম ও রোদের তাপপ্রবাহের কারণে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গরম থেকে বাঁচাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের খাবার স্যালাইন ও পানি খাওয়ানো হচ্ছে। সেই রোদ গরম থেকে বাচঁতে একটি করে ছাতা ও হাতপাখা দেয়া হচ্ছে। গরমের মধ্যে সুস্থ্য থাকার জন্য সচেতনামুলক মাইকিং কার্যক্রম চলমান আছে।’
প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, এখন এ জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সামনে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা এখন আপাতত নেই। কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি ওপরে থাকার কারণে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন গ্রহণ করা প্রয়োজন যাতে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে আসে। প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান রইল।’

বিষয়:

সম্পর্কিত