গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০: ০২
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বর্তমান সরকার তৎপর রয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি দল গঠন করেছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী জানান, চীনের সঙ্গে কারিগরি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এই চুক্তি নবায়নে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি ফারাক্কার পানির হিসাব নিয়ে ভারতের বিহার রাজ্য সরকারের নতুন দাবি এবং কেন্দ্রের ইতিবাচক আশ্বাস চুক্তি নবায়ন আলোচনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

গত ২১ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জেডি(ইউ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বৈঠকে বিহারের নেতারা দাবি করেন, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার মূল পানির জোগান বিহারের অববাহিকা থেকে গেলেও গত তিন দশক ধরে রাজ্যটি সেচ, পানীয় জল ও শিল্পের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বৈঠকের পর বিহারের পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের এসব দাবি ও উদ্বেগ বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

জেডি(ইউ) নেতা সঞ্জয় ঝা অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের চুক্তির কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে পানি দিতে গিয়ে বিহারের অভ্যন্তরীণ নদীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ফারাক্কার কারণে উজানে পলি জমে বন্যা তীব্র হচ্ছে। তাঁরা ২০৫০ সালের জনসংখ্যা ও চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে চুক্তির শর্ত ও বণ্টন সূত্র পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ৫৪ নদীর মধ্যে কেবল গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর গঙ্গা চুক্তি নবায়নে বিহারের অবস্থান ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কায় গঙ্গার পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ হয়। চুক্তির প্রথম সংযোজনী অনুযায়ী, ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে ভারত ও বাংলাদেশ সমান ভাগে পানি পায়।

প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পায় ৩৫ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পায় ভারত। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি পায় এবং অবশিষ্ট পানি বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ থাকে। এ ছাড়া মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত পালাক্রমে দুই দেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি দেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত