বাংলাদেশে এলএনজি: কী কেন কীভাবে

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৪৮
পারস্য উপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজের প্রতীকী ছবি। রয়টার্সের সৌজন্যে
পারস্য উপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজের প্রতীকী ছবি। রয়টার্সের সৌজন্যে

গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনে ধস, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার অপচয় আর বাসাবাড়িতে নিভু নিভু চুলা—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরও উদ্বেগের কারণ।

এটি সত্য, গ্যাসের সমস্যা নতুন নয়। তবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে ঠিকমতো সরবরাহ না পাওয়ায় হালে সংকট বেড়েছে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ইতিহাস দীর্ঘ নয়। দেশীয় গ্যাসের মজুত কমে আসায় চাহিদা সামলাতে এটা শুরু করা হয়। অল্প সময়েই আমদানি করা এই গ্যাস নাগরিক জীবন ও অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন যে, এর সরবরাহ ব্যাহত হলেই দেশ স্থবির হয়ে পড়ছে।

এলএনজি কীভাবে আমাদের চুলা পর্যন্ত পৌঁছায়, এটি ক্রয়ের প্রক্রিয়া এবং চলমান সংকটের ভেতরকার চিত্র খোঁজা হয়েছে এই এক্সপ্লেইনারে।

এলএনজি কী, টার্মিনাল কেন

এলএনজি হলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। খনি থেকে পাওয়া গ্যাস পরিবহনের সুবিধার্থে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা করে তরল করা হয়। ফলে এর আয়তন ৬০০ গুণ কমে যায়। আর সাগরে ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কিংবা ল্যান্ড বেইজড টার্মিনালের কাজ হলো রূপান্তর কেন্দ্রের মতো। টার্মিনালে ওই গ্যাস সাগরের পানির উত্তাপ ব্যবহার করে পুনরায় ব্যবহারোপযোগী গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর তা পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। দুটিই কক্সবাজারের মহেশখালীতে। এর একটি পরিচালনা করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। টার্মিনালটি ২০১৮ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। আরেকটি পরিচালনা করছে সামিট। এটি কার্যক্রমে আসে ২০১৯ সালের এপ্রিলে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিগত কয়েক বছরের চিত্র হলো, দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশই আসছে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে।

এলএনজি আমদানি করে কারা, গ্রিডে আসে কীভাবে

অনেকে ভেবে থাকতে পারেন, টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই বুঝি এলএনজি আমদানি করে। কিন্তু গ্যাস কেনার দায়িত্ব মূলত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান আছে, যেটি পেট্রোবাংলার অধীন। গ্যাস কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া, চুক্তি সই ও আমদানি বিল মেটানোর দায়িত্ব পেট্রোবাংলার। মাঠপর্যায়ে আমদানির পুরো কার্যক্রম তদারকি করে আরপিজিসিএল।

বিদেশ থেকে এলএনজিবাহী জাহাজগুলো মহেশখালীতে থাকা টার্মিনালে ঠিক কবে আসবে এবং কখন খালাস হবে, তার পুরো সময়সূচি তৈরির কাজটিও করে আরপিজিসিএল। স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান এবং তা মূল্যায়ন করে পেট্রোবাংলার কাছে সুপারিশ করার দায়িত্বও এই প্রতিষ্ঠানের।

এক্সিলারেট বা সামিটের মতো টার্মিনালের কাজ কেবল পেট্রোবাংলার কিনে আনা এলএনজি খালাস করা, সংরক্ষণ এবং পুনরায় ব্যবহারোপযোগী গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে দেওয়া। এর বিপরীতে টার্মিনাল সচল থাকুক কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অলস থাকুক—চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট ভাড়া বা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হয়।

এলএনজি আসে কীভাবে

বাংলাদেশ মূলত ‘ডেলিভারি এক্স-শিপ’ ভিত্তিতে এলএনজি কেনে। এর অর্থ, বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এলএনজিবাহী জাহাজের মাধ্যমে মহেশখালীতে থাকা দুটি টার্মিনালে গ্যাস পৌঁছে দেয়। জাহাজ মহেশখালী আসার পর গ্রিডে গ্যাস পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

এলএনজিবাহী জাহাজটি সাগরে নোঙর করা ভাসমান টার্মিনালের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ পাইপের মাধ্যমে জাহাজের তরল এলএনজি টার্মিনালের স্টোরেজ ট্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর টার্মিনালের ভেতরে থাকা বিশেষ ভেপোরাইজারের সাহায্যে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ব্যবহার করে তরল এলএনজিকে পুনরায় স্বাভাবিক গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এই গ্যাসকে বলা হয় আরএলএনজি।

রিগ্যাসিফিকেশনের পর কাস্টডি ট্রান্সফার মিটারিং স্টেশনে গ্যাসের গুণগত মান ও চাপ মেপে তা সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলের পাইপলাইনে পাঠানো হয়। মহেশখালী থেকে প্রথমে ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩০ ইঞ্চি এবং পরবর্তীতে ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪২ ইঞ্চির সমান্তরাল পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সেখান থেকে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত গ্যাস ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ আনোয়ারা-ফৌজদারহাট এবং ফৌজদারহাট-ফেনী-বাখরাবাদ পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্রিডে যুক্ত হয়ে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে যায়।

কোথা থেকে কেনা হয় এলএনজি

বাংলাদেশ মূলত দু’ভাবে এলএনজি আমদানি করে। একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি; অন্যটি স্পট মার্কেট। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলো সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি হয়। যেমন কাতারের সঙ্গে ১৫ বছর এবং ওমানের সাথে ১০ বছরের চুক্তি রয়েছে। এই ব্যবস্থায় দাম নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) তিন মাসের গড় মূল্যের সাথে একটি নির্দিষ্ট হার যোগ করে।

এর সুবিধা হলো সরবরাহের নিশ্চয়তা ও দামের স্থিতিশীলতা। বৈশ্বিক যে কোনো সংকটেও চুক্তির কারণে তুলনামূলক কম দামে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাওয়া যায়।

অন্যদিকে স্পট মার্কেট হলো খোলাবাজার, যেখানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিষয় নেই। যখন প্রয়োজন, তখন সেই বাজার থেকে এলএনজি আনতে এক বা একাধিক জাহাজের জন্য দরপত্র ডাকা হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক দাম ঠিক হয়। এর সুবিধা হলো বাজারদর কম থাকলে চুক্তি ছাড়াই সস্তায় গ্যাস কেনা যায়; আবার গ্যাসের চাহিদা না থাকলে আমদানি না করার স্বাধীনতাও থাকে।

এর ঝুঁকি হলো, যেকোনো সংকটে খোলাবাজারে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়তে পারে, যা ডলার সংকটে থাকা দেশের জন্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। স্পট মার্কেট থেকে কেনার জন্য পেট্রোবাংলা মূলত সরবরাহকারীদের সাথে একটি ‘মাস্টার এগ্রিমেন্ট’ সই করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দরপত্র ডেকে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে।

দেশীয় গ্যাসের মজুত কমতে থাকায় ২০১৬-১৭ সালের দিকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানির দিকে নজর দেয়। ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কাতারের রাসগ্যাসের (বর্তমানে কাতারএনার্জি) সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হয়। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথম পরীক্ষামূলক এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছায়। ওই বছরের ১৯ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়, যাকে দেশে এলএনজি যুগের আনুষ্ঠানিক সূচনা বলা যায়।

ওমানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেডের সঙ্গেও পেট্রোবাংলার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। ২০১৮ সালের মে মাসে ওমানের সঙ্গে প্রথম ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি সই হয়, যার আওতায় ২০১৯ সালের শুরু থেকে ওমান নিয়মিতভাবে এলএনজি সরবরাহ করছে। ২০২৩ সালের জুনে দু’দেশের সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আরেকটি চুক্তি হয়। চুক্তিটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর আওতায় চলতি বছর ওমান থেকে চার কার্গো এলএনজি আসবে। ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়বে।

এখনকার সংকট কেন

বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর এলএনজি টার্মিনাল দুটি এখন সচল থাকলেও গ্রিডে সরবরাহ তুলনামূলক কম।

পেট্রোবাংলার জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য বলছে, গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল ২৪১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৬২ এবং আরএলএনজি থেকে ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুট মিলেছে।

দুটি এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চললে ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করা যায়। গত কয়েক মাস যাবৎ দুই টার্মিনাল থেকে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি নতুন দেশীয় উৎস যুক্ত না হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমার কারণ কার্গো সংকট। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে কাতারএনার্জি চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহে অপারগতা জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণ দেখিয়ে কাতারএনার্জি ‘ফোর্স মাজেউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করে সরবরাহ কমিয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির তুলনামূলক সস্তা গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে সরকারকে ‘স্পট মার্কেট’ থেকে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে।

গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি -- কখনো কার্গো থাকছে; কিন্তু টার্মিনালে ত্রুটি। আবার কখনো টার্মিনাল সচল থাকলেও কার্গো বা কাঁচামাল থাকছে না।

বিকল্পের অভাবে এই দুই টার্মিনাল সচল না থাকলে কিংবা সেখান থেকে গ্রিডে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশজুড়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়া অনিবার্য। বর্তমানে সেটিই হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটিতে টার্মিনাল বন্ধসহ এলএনজি ঘাটতির কারণে গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে সংকট তীব্র হয়েছে।

পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি এনে এই ঝক্কি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সময়মতো কার্গো না পৌঁছানোয় কম আরএলএনজি সরবরাহ করে টার্মিনাল চালু রাখা হচ্ছে।

এছাড়া গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে টার্মিনালটি কার্যক্রমে ফেরে। বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জি পূর্ণ সক্ষমতায় চললেও কার্গো সংকটে সামিটের টার্মিনাল অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে।

এর আগে, ২০২২ সালে যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন স্পট এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ওই সময় বাংলাদেশ সাময়িকভাবে স্পট থেকে গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয়। তবে সেই সংকটে কাতার ও ওমানের সঙ্গে থাকা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সুফল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি তার উল্টো।

সরকারের পরিকল্পনা কী

২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব জলসীমা পায় বাংলাদেশ। তবে এক দশকেরও বেশি পার হলেও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা যায়নি। অথচ মিয়ানমার ও ভারত এক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষেই অনুসন্ধান চালিয়ে গ্যাস পেয়েছে মিয়ানমার এবং তারা নিয়মিত উত্তোলন করছে। ভারতও বঙ্গোপসাগরের কৃষ্ণা-গোদাবরী বেসিনসহ বিভিন্ন ব্লক থেকে তেল ও গ্যাস আহরণ করছে।

বাংলাদেশের বিগত সরকার অনুসন্ধান শুরু করতে পারেনি। তবে গত ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা। এর আওতায় ১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লকসহ মোট ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে আগ্রহী করতে শর্তে নানা ছাড় দিয়ে আহ্বান করা দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ৩০ নভেম্বর।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার জ্বালানি সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগহীনতার কথাও বলছেন অনেকে। এ অবস্থায় গ্যাস আমদানির বিকল্প খোঁজার পাশাপাশি দেশীয় উৎসে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। এজন্য তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণসহ শতাধিক কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত