সম্মান দেখালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব: আরাগচি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত

চাপ প্রয়োগ বন্ধ করে ইরানকে সম্মান দেখালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরা অসম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে যে চাপ প্রয়োগে কোনো ফল আসবে না। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা, শ্রদ্ধাশীল ভাষায় কথা বলা, আমাদের অধিকার স্বীকার করে নেওয়া এবং তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।’

অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট শুক্রবার এক্সে দাবি করেন, নৌ-অবরোধ ও ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেবে।

তিনি জানান, গত ১৪ দিনে উপসাগরীয় পথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ কোটি (১৩০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল নিরাপদে বের করতে পারলেও ইরান এক ব্যারেলও রপ্তানি করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট ফক্স নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত না হবেন যে ইরান অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, ততক্ষণ কোনো আলোচনা হবে না।’

তিনি আরও জানান, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করতে আগে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানো হয়েছে। এবার তাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও দেশটির সরকার খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রেখেছে। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলেই প্রধান খাতগুলোতে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়নি।

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা এক্সে বলেন, ইরান আঞ্চলিক ‘শক্তির সমীকরণ’ বদলে দিয়েছে। আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার দিন যে শেষ, তা প্রমাণ করেছে। তিনি শত্রুপক্ষকে ইরানের হাজার বছরের ইতিহাস পড়ে শ্রদ্ধাশীল ভাষায় কথা বলার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে মার্কিন সেনেটর মার্ক কেলি এবিসি নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না এবং জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে আমেরিকানরা এর মাশুল গুনছে। নৌবাহিনীর সাবেক এই বৈমানিক বলেন, ‘এটি ট্রাম্পের নিজের তৈরি করা সংকট।’

আল জাজিরার প্রতিবেদক আলী হাশেম এক বিশ্লেষণে জানান, সংঘাতের শুরুতে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রধান থাকলেও এখন পুরো বিশ্বের মনোযোগ গিয়ে ঠেকেছে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখায়।

তিনি বলেন, ইরান হরমুজকে দরকষাকষির মূল হাতিয়ার বানিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক একে দেশটির ‘ভৌগোলিক পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা এবং সিএনএন

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত