পরঞ্জয়ই প্রথম ভারতীয় সাংবাদিক, যিনি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দিল্লির রোহিণী আদালত আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে জারি করা একটি এক্স-পার্টে নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদনের রায় বহাল রেখেছেন। তবে দিল্লির আদালত রায়টি বহাল রাখার সময় আদালত ও পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতার আইনজীবীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবীর বেশ নাটকীয় তর্ক হয়। পরঞ্জয়ই প্রথম ভারতীয় সাংবাদিক, যিনি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
৬ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই আদেশে সাংবাদিক ও সামজকর্মীদের আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি নতুন কোনো লেখা প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
পরঞ্জয় গুহঠাকুরতার পক্ষে আইনজীবী ত্রিদীপ পাইস বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলার কোনো পক্ষ নয়। ফলে তথ্য মন্ত্রণালয় মিডিয়া হাউস ও ইউটিউব চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে? এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয় কি, উঠেছে এই প্রশ্নও। মানহানির আইনি সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরঞ্জয়ের আইনজীবী।
আদানি গোষ্ঠী দাবি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফলে এনার্জি সেক্টরে ভারতের সমূহ ক্ষতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পরঞ্জয়ের আইনজীবীর প্রশ্ন তুলেছেন, 'আদানি মানে কি ভারত? আদালত বুঝিয়ে বলেনি, ঠিক কী কারণে এই প্রতিবেদনগুলো মানহানিকর। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, আদানি গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু এর মানে কি তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ মানহানিকর? এ ক্ষেত্রে বাদী পক্ষের পায়ে বিচারকের জুতো পরানো হয়েছে। তাকেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।'
আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবী আদালতে আবেদন জানান, যাতে রায়ের আগে পর্যন্ত সব প্রতিবেদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। বিচারপতি সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে এমন আদেশ দেওয়া অসম্ভব।
আদালতে যেভাবে নাটকীয়তা
আদানি গোষ্ঠীর পক্ষে এই মামলা লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অনুরাগ আলুয়ালিয়া। এদিন আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, পরঞ্জয়ের লেখার কোন অংশটি আপত্তিকর?
জবাবে আলুথিয়া বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্যে আইন বদলেছে, এই অংশটা।’
এর পর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘তো আপকো ইসমে ধিক্কত কেয়া হো রহি হ্যায়?’
আলুয়ালিয়া বলেন, ‘এসব প্রতিবেদনে পক্ষান্তরে বলতে চাওয়া হচ্ছে, মোদি সরকার আদানি গোষ্ঠীকেই সুবিধা পাইয়ে দিতে আইন বদলে দিয়েছে। ওরা গতকাল আদালতে বলতেই শুরু করে, মোদি সরকার আমাদের পকেটে।’
এর জবাবে বিচারপতি বলেন, ‘আপনিও কারও পকেটে থাকতে পারেন, কী এসে যায়?’
এসময় আরেকটি প্রতিবেদন দেখিয়ে আলুয়ালিয়া বলেন, ‘এখানে আমাদের কাজকে স্ক্যাম বলা হয়েছে, এখানেই থামেনি, বারবার এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে...। ওরা ঘরে বসে গল্প বানাচ্ছে। আমরা কী বসে বসে দেখব যে আমাদের শেয়ার তলানিতে গিয়ে ঠেকছে? আমরা জানতে চাইব না এর পেছনে চীনের স্বার্থ আছে কিনা?’
তখন আদানি গোষ্ঠীর কৌসুলী বিজয় আগারওয়াল মনে করিয়ে দেন, পরঞ্জয়কে এনআইএ (ন্যাশানাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাল্টা বিবৃতি দেন পরঞ্জয়ের আইনজীবী। আদালত জানতে চায় পরঞ্জয়ের প্রতিবেদনের তথ্যের উৎস। আইনজীবী দেখিয়ে দেন, প্রতিবেদনের তথ্য পাবলিক ডোমেন অর্থাৎ জনগণের জন্য সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার থেকেই পাওয়া।
এরপর আদালত রায় দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর রোহিনী আদালতের সিভিল জজ অনুজ সিং এক রায়ে দেন। যেখানে বলে হয়, আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে লেখা প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলতে হবে। নতুন করে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না।
পরঞ্জয়ের আবেদনে বলা হয়, কোন প্রতিবেদন কেন মানহানিকর, তা বলা হয়নি। সাংবাদিকদের দায়ের করা আরেকটি আবেদনে বলা হয়, প্রতিবেদনগুলোতে আদানি গোষ্ঠী বা গৌতম আদানির নাম বলা হলেও আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নাম নেওয়া হয়নি।
আদানি গ্রুপের করা এই মামলায় জড়ানো হয়েছে ভারতের একাধিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী সাংবাদিককে। সেই তালিকায় রয়েছেন ধ্রুব রাঠী, আকাশ ব্যানার্জিদের নাম। ফলে অভিযোগ উঠছে, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করার কথা ভাবছে।
উল্লেখ্য, স্ট্রিমের ভারতীয় সহযোগী ইনস্ক্রিপ্টের নিয়মিত কন্ট্রিউবিউটর পরঞ্জয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদানি গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত সাতটি মানহানির মামলা করেছে।

দিল্লির রোহিণী আদালত আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে জারি করা একটি এক্স-পার্টে নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদনের রায় বহাল রেখেছেন। তবে দিল্লির আদালত রায়টি বহাল রাখার সময় আদালত ও পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতার আইনজীবীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবীর বেশ নাটকীয় তর্ক হয়। পরঞ্জয়ই প্রথম ভারতীয় সাংবাদিক, যিনি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
৬ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই আদেশে সাংবাদিক ও সামজকর্মীদের আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি নতুন কোনো লেখা প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
পরঞ্জয় গুহঠাকুরতার পক্ষে আইনজীবী ত্রিদীপ পাইস বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলার কোনো পক্ষ নয়। ফলে তথ্য মন্ত্রণালয় মিডিয়া হাউস ও ইউটিউব চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে? এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয় কি, উঠেছে এই প্রশ্নও। মানহানির আইনি সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরঞ্জয়ের আইনজীবী।
আদানি গোষ্ঠী দাবি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফলে এনার্জি সেক্টরে ভারতের সমূহ ক্ষতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পরঞ্জয়ের আইনজীবীর প্রশ্ন তুলেছেন, 'আদানি মানে কি ভারত? আদালত বুঝিয়ে বলেনি, ঠিক কী কারণে এই প্রতিবেদনগুলো মানহানিকর। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, আদানি গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু এর মানে কি তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ মানহানিকর? এ ক্ষেত্রে বাদী পক্ষের পায়ে বিচারকের জুতো পরানো হয়েছে। তাকেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।'
আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবী আদালতে আবেদন জানান, যাতে রায়ের আগে পর্যন্ত সব প্রতিবেদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। বিচারপতি সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে এমন আদেশ দেওয়া অসম্ভব।
আদালতে যেভাবে নাটকীয়তা
আদানি গোষ্ঠীর পক্ষে এই মামলা লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অনুরাগ আলুয়ালিয়া। এদিন আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, পরঞ্জয়ের লেখার কোন অংশটি আপত্তিকর?
জবাবে আলুথিয়া বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্যে আইন বদলেছে, এই অংশটা।’
এর পর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘তো আপকো ইসমে ধিক্কত কেয়া হো রহি হ্যায়?’
আলুয়ালিয়া বলেন, ‘এসব প্রতিবেদনে পক্ষান্তরে বলতে চাওয়া হচ্ছে, মোদি সরকার আদানি গোষ্ঠীকেই সুবিধা পাইয়ে দিতে আইন বদলে দিয়েছে। ওরা গতকাল আদালতে বলতেই শুরু করে, মোদি সরকার আমাদের পকেটে।’
এর জবাবে বিচারপতি বলেন, ‘আপনিও কারও পকেটে থাকতে পারেন, কী এসে যায়?’
এসময় আরেকটি প্রতিবেদন দেখিয়ে আলুয়ালিয়া বলেন, ‘এখানে আমাদের কাজকে স্ক্যাম বলা হয়েছে, এখানেই থামেনি, বারবার এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে...। ওরা ঘরে বসে গল্প বানাচ্ছে। আমরা কী বসে বসে দেখব যে আমাদের শেয়ার তলানিতে গিয়ে ঠেকছে? আমরা জানতে চাইব না এর পেছনে চীনের স্বার্থ আছে কিনা?’
তখন আদানি গোষ্ঠীর কৌসুলী বিজয় আগারওয়াল মনে করিয়ে দেন, পরঞ্জয়কে এনআইএ (ন্যাশানাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাল্টা বিবৃতি দেন পরঞ্জয়ের আইনজীবী। আদালত জানতে চায় পরঞ্জয়ের প্রতিবেদনের তথ্যের উৎস। আইনজীবী দেখিয়ে দেন, প্রতিবেদনের তথ্য পাবলিক ডোমেন অর্থাৎ জনগণের জন্য সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার থেকেই পাওয়া।
এরপর আদালত রায় দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর রোহিনী আদালতের সিভিল জজ অনুজ সিং এক রায়ে দেন। যেখানে বলে হয়, আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে লেখা প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলতে হবে। নতুন করে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না।
পরঞ্জয়ের আবেদনে বলা হয়, কোন প্রতিবেদন কেন মানহানিকর, তা বলা হয়নি। সাংবাদিকদের দায়ের করা আরেকটি আবেদনে বলা হয়, প্রতিবেদনগুলোতে আদানি গোষ্ঠী বা গৌতম আদানির নাম বলা হলেও আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নাম নেওয়া হয়নি।
আদানি গ্রুপের করা এই মামলায় জড়ানো হয়েছে ভারতের একাধিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী সাংবাদিককে। সেই তালিকায় রয়েছেন ধ্রুব রাঠী, আকাশ ব্যানার্জিদের নাম। ফলে অভিযোগ উঠছে, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করার কথা ভাবছে।
উল্লেখ্য, স্ট্রিমের ভারতীয় সহযোগী ইনস্ক্রিপ্টের নিয়মিত কন্ট্রিউবিউটর পরঞ্জয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদানি গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত সাতটি মানহানির মামলা করেছে।

স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানকে হারানো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
৪৩ মিনিট আগে
কক্সবাজারের রামুতে এক ইজিবাইক চালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে ইউনিয়নের দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
১ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সন্ত্রাসী হামলায় ১০ থেকে ১২ জন সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকার শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতি। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে সংগঠনটি।
১ ঘণ্টা আগে
দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সুতা আমদানিতে বিদ্যমান অসম সুবিধা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
২ ঘণ্টা আগে