জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদে পুলিশের একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ২২: ১২
বাংলাদেশ পুলিশ। সংগৃহীত ছবি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। সড়ক, রেল ও নৌপথের যাত্রী এবং চালকদের প্রতি নিরাপত্তা দির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঈদের ভ্রমণ পরিকল্পনার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ বলেছে, ভ্রমণকালে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখুন। চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দেবেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাসের ছাদে কিংবা ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাড়ি বেপরোয়া গতিতে না চালানোর অনুরোধ করা হয়। এ ছাড়া অপরিচিত কোন ব্যক্তির নিকট থেকে খাবার-পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে।

বাসচালকদের ওভার স্পিডে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ক্লান্তি, অবসাদ বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালাতেও মানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব সময় সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

লঞ্চ, স্টিমার, স্পিডবোটের যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ওঠা ও নৌযানের ছাদে যাত্রী হয়ে ভ্রমণ না করার কথাও বলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যাত্রাপথে ঝড় দেখা দিলে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি না করে নিজের জায়গায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্পিডবোটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট পরতে বলা হয়েছে।

নৌযান মালিকদের নির্ধারিতসংখ্যক গ্রেডের মাস্টার এবং ড্রাইভার দিয়ে যান পরিচালনা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচল বন্ধ রাখা এবং নৌযানের মাস্টার ব্রিজে যাত্রীদের অবাধ চলাচল বন্ধের জন্য দুই পাশ অস্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা ও লঞ্চে পর্যাপ্ত বয়া রাখার অনুরোধ ক্রা হয়েছে।

নৌযান চালকদের বলা হয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে বন্দর ত্যাগ করুন, ডেকের ওপর যাত্রীদের বসার স্থানে মালামাল পরিবহন থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্তসংখ্যক বয়া-লাইফ জ্যাকেট রাখা ও যাত্রাপথে ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে নৌযানকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। নৌযানে মোবাইল ফোন ও রেডিও রাখুন এবং নিয়মিত আবহাওয়ার বুলেটিন জানা, প্রয়োজনে আবহাওয়া-সংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সব ফায়ার পাম্প ও অগ্নিনিরোধক যন্ত্রপাতির সঠিকতা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা কবলিত নৌযান সনাক্তকরণের লক্ষ্যে নৌযানে ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়ি সম্বলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।

ট্রেন যাত্রীদের ছাদে, বাফারে, পাদানিতে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং ট্রেনে ভ্রমণের সময় মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখা ও বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ঈদের ছুটিতে বিশেষ নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

ঈদঘিরে ৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে সারা দেশ। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছেড়ে যান। কাছাকাছি সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে পুলিশ। এবারও তাঁর ব্যত্যয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে পারে ঈদুল ফিতর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী ঘিরে ঈদের আগে ও পরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হবে বলেও জানা গেছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রতি ঈদেই ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়। আর ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে পুলিশ। এবারও এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।’

তালেবুর রহমান আরও বলেন, ‘ঈদের আগে এবং ঈদের পরে বিশেষ নিরপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি। সে অনুযায়ী বাসাবাড়ি, আবাসিক এলাকা, শপিং মল ও রাস্তাঘাটে তল্লাশি পরিচালনা করবে পুলিশ। মানুষ যেন নিরাপদে ঈদ উৎযাপন করতে পারে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মিটিং করেছে পুলিশ। ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে পুলিশ। বাসা কাউন্টার, শপিং মল, আবাসিক এলাকার পাশপাশি অনলাইনেও থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। যেন কেউ কোনো ফেক নিউজ ছড়াতে না পারে।’

প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোল রুমে ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ০১৩২০১৮২৫৯৮, রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ০১৩২০১৭৭৫৯৮, নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ০১৩২০১৬৯৫৯৮, র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ০১৭৭৭৭২০০২৯ নম্বরে এবং জেলা পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত