দেশে রাজনৈতিক আলোচনা এত বেশী চলছে এবং হালের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে সবাই যখন চিন্তিত তখন আমি বসলাম ঘড়ির আদ্যপান্ত নিয়ে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
কর্নেল (অব.) মো. সোহেল রানা

ছেলেদের শখ খুব অল্প। সুন্দর কেডস বা জুতা, সানগ্লাস, মানিব্যাগ বা পারফিউম ছাড়িয়ে সবার পছন্দ এক জায়গায় মেলে। তা হলো ফ্যাশনেবল হাতঘড়ি। ছেলেরা আবার এসব জিনিস উপহার পেতেই পছন্দ করে। যেমন আমার। বৈবাহিক সূত্রে যেসব ঘড়ি পেয়েছিলাম তা উচ্চমূল্যের এবং এগুলো নিজের টাকা দিয়ে কেনার সামর্থ্য ছিল না। নিজের টাকায় যেসব কিনেছি সেটা হয় চাইনিজ ঘড়ি অথবা রেপ্লিকা।
পুরুষ সমাজ আসলে ঘড়ি উপহার পেতেই পছন্দ করে। যেমন রাজনীতিবিদ ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথাই ধরুন। নেত্র নিউজের করা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে আমরা প্রথম জানতে পারলাম যে একেকটা ঘড়ির দাম নিদেনপক্ষে ৩০ বা ৪০ লাখ টাকা। তিনি একেকদিন একেক ঘড়ি পরতেন যা দেখে আমাদের সবার ভীষণ হিংসা হয়েছিল। তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে এসব উপহার পাওয়া। দোষের কিছু না। ছেলেরা উপহার পেতেই পছন্দ করে।
ওবায়দুল কাদেরই একমাত্র উদাহরণ নয়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কথাই ধরুন না। বিখ্যাত তোষাখানা মামলা-১ এর কল্যাণে সারা বিশ্ব জানতে পারল যে ইমরান খান সৌদি যুবরাজের দেওয়া বিখ্যাত নির্মাতা ‘গ্রাফ’-এর সীমিত সংস্করণের একটি ঘড়ি তিনি মাত্র তিন লাখ ডলারের কাছাকাছি দামে সরকারিভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু প্রায় ২০ লাখ ডলার মূল্যে আরেক জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এজন্য ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে প্রথমে তিন বছর, পরে ১৪ বছর এবং সর্বশেষ ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন।
মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক কোটি কোটি ডলারের বিলাসবহুল উপহার (ব্যাগ, গহনা, ঘড়ি) নিয়েছিলেন এবং দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেল খাটছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পার্ক গিউন-হিয়ে করপোরেট উপহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। পরে যদিও ক্ষমা পান। তাইওয়ানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চেন শুই-বিয়ান রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ এবং ঘড়ি ও হীরার গহনা ঘুষ নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
আমি আসলে ইদানীং ঘড়ির প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। সারাদিন ইউটিউবে ঘড়ি নিয়ে যত ভিডিও বা গবেষণা আছে তা মনোযোগ দিয়ে দেখি। ঘড়ি নির্মাণে কৌশল ও আভিজাত্য এবং এর আকাশচুম্বী ক্রয়মূল্য আমাকে আগ্রহী করে তুলেছে এটা নিয়ে কিছু লেখার।
দেশে রাজনৈতিক আলোচনা এত বেশী চলছে এবং হালের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে সবাই যখন চিন্তিত তখন আমি বসলাম ঘড়ির আদ্যপান্ত নিয়ে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
ঘড়ি পরা স্টাইল। সেটা খেলোয়াড় হোক, নায়ক-গায়ক বা রাষ্ট্রনায়ক হোক অথবা বাপের ধনীর দুলাল হোক। নিজের কথা শুরুতে একটু বলেছিলাম। কোনো এক পোস্টে নায়কের হাতে ওমেগা ঘড়ি দেখে আফসোস করেছিলাম দেখে আমার এক বন্ধু আমেরিকা থেকে অন্যকে দিয়ে একটা ঘড়ি আনিয়েছিল। এটা এখন আমার অন্যতম প্রিয় ঘড়ি। চলুন কিছু সেলিব্রেটিদের কথা জানি তারা কোন ব্রান্ডের ঘড়ি পছন্দ করেন।
বিল গেটস এর মতো বিলিয়নার Casio Duro (অ্যানালগ) ঘড়ির পড়েন, যার দাম মাত্র ৫০ - ৭০ ডলার (প্রায় ৬,০০০ - ৮,০০০ টাকা)। সবাই কিন্তু তাঁর মতো না। যেমন ধরেন, ক্রিশ্চিয়ান রোনালদো পড়েন Girard-Perregaux Planetarium Tri-Axial হীরা খচিত একটি ঘড়ি। যার দাম ২৩ কোটি টাকা। এছাড়া তাঁর সংগ্রহে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের ‘Jacob & Co’ ঘড়িও রয়েছে।
টেনিস প্লেয়ার রাফায়েল নাদাল পরেন ১৩ কোটি টাকা দামের Richard Mille RM 27-04, যা অত্যন্ত হালকা এবং শক-প্রুফ। বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার Jacob & Co.-এর ‘The Billionaire Watch’ নামের একটা ঘড়ি পড়েন, যার দাম ১৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২১১ কোটি টাকা)। এটা সম্পূর্ণ ২৬০ ক্যারেট হীরা দিয়ে মোড়ানো। সিলভেস্টার স্ট্যালোন পড়েন Patek Philippe Grandmaster Chime (বিরল কালেকশন), যার দাম প্রায় ৫.৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৩ কোটি টাকায়)।

জে-জি (Jay-Z) যে ঘড়ি পড়েন তার নাম Patek Philippe Grandmaster Chime 6300G। দাম প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫.৭ কোটি টাকা)। তাঁর সংগ্রহে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের হাবলট (Hublot) ঘড়িও আছে। ভারতীয় দুলাল অনন্ত আম্বানী’র একটা ঘড়ি দাম ৯ মিলিয়ন ডলার বা ১০৫ কোটি টাকা (Patek Philippe Grandmaster Chime)। তাঁকে নিয়ে আলাদা একটা প্যারা থাকবে কথা দিলাম।
তবে বিশ্ববিখ্যাত তারকা এবং বিলিয়নেয়ারদের শখের ঘড়ির সংগ্রহ কেবল সময় দেখার জন্য নয়, বরং এটি তাঁদের আভিজাত্য এবং বিনিয়োগের একটি অংশ। বিনিয়োগ বলছি এই কারণে যে এত পরিমাণ টাকা ব্যাংকে রাখলে ট্যাক্স দিতে হবে। যদি ঘড়ি বা তৈলচিত্র কিনে রাখেন তো এটা যেমন সংরক্ষণে সুবিধা তেমনি যত পুরোনো হয় তত এর দাম বাড়ে।
প্রিয় স্বজন,
ইতিমধ্যে অনেক ঘড়ির ব্র্যান্ড ও দাম জেনে গেছেন। এসব ব্র্যান্ডের গল্প বলার আগে জেনে নেই সবচেয়ে দামি ঘড়ি কোনটি? Graff Diamonds Hallucination হলো বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, যার মূল্য প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৬৮ কোটি টাকা)।
এটি শুধু ঘড়ি নয়, বরং এক অনন্য শিল্পকর্ম ও গহনার নিদর্শন। Graff Diamonds-এর প্রতিষ্ঠাতা Laurence Graff এই ঘড়িটি তৈরি করেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি হিসেবে, যা তাদের গহনা শিল্পে অতুলনীয় দক্ষতার প্রতীক। এতে রয়েছে গোলাপি, নীল, হলুদ, সবুজ, কমলা ইত্যাদি বিরল ও বহুরঙা ১১০ ক্যারেট হীরা। ঘড়িটি প্রথম প্রদর্শিত হয় Baselworld 2014 Watch Fair। তবে এটি বিক্রি না করে তাদের শোরুমে রাখা আছে।
এখন ছোট একটা পরীক্ষা হয়ে যাক। আচ্ছা এই গ্রাফ শব্দটা আমার লেখার কোথায় আছে? জি। ঠিক ধরেছেন। তোষাখানা মামলায় ইমরান খান যে ঘড়ির জন্য জেল খাটছেন সেটা এই গ্রাফ-এর বানানো ঘড়ি।
ঘড়ি নির্মাণ একটি শিল্প। বলা যায় কুটির শিল্প। রোলেক্স বা ওমেগার মতো ঘড়ি যেমন মেশিনে বানানো হয়, তেমনি ডজন ডজন প্রতিষ্ঠান আছে যারা বংশগতভাবে ঘরে বসে হাতে হাতে ঘড়ি বানায়। হালে ঘড়ি নির্মাণের স্কুল থেকে পাশ করা তরুণরা নিজেরাই ঘরে বসেই বানাচ্ছে নিত্যনতুন ডিজাইনের ঘড়ি। অনেক ঘড়ি ২০০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশে তৈরি হয়। বছরের পর বছর লাগে এসব বানাতে। ফলে রোলেক্স যখন বছরে ১০ লাখ ঘড়ি বানায় তখন এসব শৌখিন নির্মাতারা বছরে ১০০ বা ৫০ বা ৩, এমনকি বছরে একটা ঘড়িও বানায়।
এগুলোর দাম মিলিয়ন ডলার হলেও ক্রেতার অভাব হয় না একদম। এই লেখায় কয়েকটি কোম্পানি নিয়ে আলোচনা করছি যারা আমার পছন্দের।
ব্লঁপা (Blancpain)
১৭৩৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ভিলারেতে জেহান-জ্যাক ব্লঁপা তাঁর ওয়ার্কশপ নিবন্ধন করেন। প্রতিষ্ঠার তারিখ অনুযায়ী এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম ঘড়ি ব্র্যান্ডের মর্যাদা দেয়। ১৯৭০-এর দশকে ‘কোয়ার্টজ সংকটের’ সময় কোম্পানিটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে পুনরায় চালু হয়। ‘ফিফটি ফ্যাথমস’ (Fifty Fathoms) সম্ভবত বিশ্বের প্রথম আধুনিক ডাইভিং ঘড়ি যা নির্মাণ করেছে ব্লঁপা।
ফাভরে-লিউবা (Favre-Leuba)
ব্লঁপা প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছর পর মানে ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ফাভরে-লিউবা আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় প্রাচীনতম ঘড়ির ব্র্যান্ড। চরম প্রতিকূলতায় ব্যবহারযোগ্য টুল ঘড়ি; যেমন ‘বিভোয়াক’ (Bivouac) নামে একটি ঘড়ি তারা বানায়, যা মেকানিক্যাল ঘড়ি হিসাবে উচ্চতা (Altimetry) এবং বাতাসের চাপ মাপতে সক্ষম।
ভ্যাশেরন কনস্ট্যান্টিন (Vacheron Constantin)
এই ব্র্যান্ডটি সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে সচল থাকা ব্র্যান্ড, যেটা সংগ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানজনক। ১৭৫৫ সালে জাঁ-মার্ক ভ্যাশেরন তাঁর কর্মশালা খোলার পর থেকে এই কোম্পানি একদিনের জন্যও উৎপাদন বন্ধ করেনি। বিশ্বযুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা বা ডিজিটাল ঘড়ির উত্থান, কোনো কিছুই এর জনপ্রিয়তা কে থামাতে পারেনি।

এটা বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি ঘড়ি নির্মাতার একটি (অন্য দুটি হলো পাটেক ফিলিপ এবং অডেমার পিগে) যা ‘হলি ট্রিনিটি’ নামেও পরিচিত। ‘রেফারেন্স ৫৭২৬০’ (Reference 57260) নামে একটা ঘড়ি আছে এদের, যা এখন পর্যন্ত তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে জটিল মেকানিক্যাল ঘড়ি (এতে ৫৭টি ভিন্ন মেকানিজম বা কমপ্লিকেশন রয়েছে)। কমপ্লিকেশন নিয়ে আলাদা একটা প্যারা থাকবে এই লেখার শেষের দিকে।
ব্রেগে (Breguet)
১৭৭৫ আব্রাহাম লুই ব্রেগে কর্তৃক প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ডটির নাম মেকানিক্যাল ঘড়ি তৈরির প্রায় প্রতিটি বড় আবিষ্কারের সঙ্গে মিশে আছে। ১৮০১ সালে ব্রেগে ‘ট্যুরবিয়ন’ (Tourbillon) আবিষ্কার করেন। এটা এমন একটি মেকানিজম যা ঘড়ির নির্ভুলতার ওপর অভিকর্ষ বলের প্রভাবকে রুখে দেয়। মেরি অ্যান্টোনেট, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এবং উইনস্টন চার্চিল এই ঘড়ির অন্যতম গ্রাহক। টুরবিয়ন সম্পর্কে একটি ধারণা দেবার চেষ্টা করবো লেখার শেষের দিকে।
জিরার্ড-পেরেগো (Girard-Perregaux)
১৭৯১ সালে জাঁ-ফ্রাঁসোয়া বটের ওয়ার্কশপে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডটি উচ্চমানের ঘড়ি শিল্প-জগতের এক দানব। ব্র্যান্ডটির সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি হলো তাদের ‘Tourbillon with Three Gold Bridges’। ১৮৬৭ সালে প্যারিস ইউনিভার্সাল এক্সিবিশনে এটা প্রথম আত্মপ্রকাশ করে এবং স্বর্ণপদক জয় করে। এটি ঘড়ির মেকানিজমকে কেবল একটি যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, বরং একটি শৈল্পিক ডিজাইন হিসেবে তুলে ধরে। অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায় ঘড়ি তৈরির কারণে ঘড়ি সংগ্রাহকদের কাছে এর এক বিশেষ আবেদন রয়েছে।
পাটেক ফিলিপ (Patek Philippe)
এটা বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত এবং অভিজাত ঘড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সুইস ব্র্যান্ডটি ঘড়ির জগতের ‘রাজা’ হিসেবে পরিচিত। এদের একটি বিখ্যাত বিজ্ঞাপন স্লোগান আছে, ‘You never actually own a Patek Philippe. You merely look after it for the next generation.’ (অর্থাৎ, আপনি কখনোই একটি পাটেক ফিলিপের মালিক হন না, আপনি কেবল পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটি আগলে রাখেন।)
১৮৩৯ সালে আন্তোনি পাটেক এবং অ্যাড্রিয়েন ফিলিপ এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। পাটেক ফিলিপ জেনেভার অন্যতম প্রাচীন ঘড়ি নির্মাতা যারা ১৮৩৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একনাগাড়ে ঘড়ি তৈরি করে আসছে। পাটেক ফিলিপ শুরু থেকেই রাজা-বাদশাদের পছন্দ ছিল। রানী ভিক্টোরিয়া, পোপ নবম পিয়াস, এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো ব্যক্তিরা এই ঘড়ি ব্যবহার করতেন। বর্তমানেও বিলিয়নেয়ার এবং সফল ব্যক্তিদের প্রথম পছন্দ এটি।
পাটেক ফিলিপ তাদের ‘কমপ্লিকেশনস’ বা ঘড়ির জটিল ফিচারের জন্য বিখ্যাত। Henry Graves Supercomplication: ১৯৩৩ সালে তৈরি এই পকেট ঘড়িটি দীর্ঘ সময় বিশ্বের সব থেকে জটিল ঘড়ি ছিল। Grandmaster Chime বর্তমানের অন্যতম জটিল কবজির ঘড়ি, যাতে ২০টি ভিন্ন ফিচার আছে। অনন্ত আম্বানির কাছেও এই মডেলটির একটি সংস্করণ রয়েছে।
পাটেক ফিলিপের ঘড়ি শুধু সময় দেখার জন্য নয়, এটি একটি বিশাল বিনিয়োগ। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়িগুলোর তালিকায় এদের নাম সবার উপরে। ২০১৯ সালে একটি পাটেক ফিলিপ ‘গ্র্যান্ডমাস্টার চিম’ নিলামে প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছিল। সাধারণত পুরোনো ঘড়ির দাম কমে যায়, কিন্তু পাটেক ফিলিপের ক্ষেত্রে উল্টো। অনেক পুরোনো মডেলের দাম এখন আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

পাটেক ফিলিপ প্রতি বছর খুব কম সংখ্যক ঘড়ি তৈরি করে (প্রায় ৬০,০০০-৭০,০০০টি)। যেখানে রোলেক্স তৈরি করে ১০ লাখেরও বেশি। এদের কিছু জনপ্রিয় মডেল (যেমন: Nautilus 5711) কিনতে চাইলে আপনাকে কয়েক বছর ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হতে পারে। এমনকি অনেক সময় টাকা থাকলেও এই ঘড়ি সহজে পাওয়া যায় না। যেম্পন Nautilus (নটিলাস), Calatrava (কালাট্রাভা), Aquanaut (অ্যাকুয়ানট)। সহজ কথায়, পাটেক ফিলিপ কেনা মানে শুধু একটি ঘড়ি কেনা নয়, বরং ঘড়ির ইতিহাসের একটি অংশ নিজের কাছে রাখা।
রিচার্ড মিল (Richard Mille)
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল এবং দামি ঘড়ির ব্র্যান্ড হল রিচার্ড মিল। আপনি যদি একে ঘড়ির জগতের ‘ফেরারি’ বা ‘ফর্মুলা ওয়ান’ বলেন, তবে ভুল হবে না। ২০০১ সালে ফরাসি ব্যবসায়ী রিচার্ড মিল এবং ডমিনিক গুয়েনাট মিলে এই ব্র্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘড়িগুলো এতটাই দামি যে একে অনেক সময় সংগ্রাহকরা ‘বিলিয়নেয়ার্স হ্যান্ডশেক’ বলে ডাকেন, কারণ এগুলোর দাম সাধারণত ৮০ হাজার ডলার (প্রায় ৯৪ লাখ টাকা) থেকে শুরু হয়ে ৩-৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৫-৪৭ কোটি টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি বছর এগুলো খুব সীমিত সংখ্যায় (মাত্র ৫০০০-৫৫০০টি) তৈরি করা হয়।
এই ঘড়ি তৈরিতে টাইটানিয়াম, কার্বন টিপিটি (Carbon TPT), গ্রাফিন এবং নীলকান্তমণির (Sapphire) মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণত মহাকাশ গবেষণা বা রেসিং কারে ব্যবহৃত হয়।
রিচার্ড মিল ঘড়িগুলো ওজনে প্লাস্টিকের মতো হালকা হতে পারে (কিছু মডেলের ওজন মাত্র ১৮-২০ গ্রাম), কিন্তু এগুলো পাথরের মতো শক্ত। টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল খেলার সময় এই ঘড়ি পরে থাকেন, যা তীব্র ঝাঁকুনি বা আঘাত সহ্য করতে পারে। প্রতিটি ঘড়ি হাতে তৈরি এবং এর ভেতরের কলকব্জা (Movement) অনেকটা ফর্মুলা ওয়ান ইঞ্জিনের স্টাইলে ডিজাইন করা। রিচার্ড মিল ঘড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর টোনো আকৃতি (ব্যারেল বা পিপার মতো আকৃতি)। এছাড়া এর ডায়ালগুলো সাধারণত স্কেলেটন (Skeletonized) হয়, অর্থাৎ ঘড়ির ভেতরের গিয়ার এবং মেকানিজম বাইরে থেকেই পরিষ্কার দেখা যায়।
RM 027, RM 011, RM 52-01 ঘড়ি গুলোর ভক্ত হলো বিশ্বের বড় বড় তারকা এবং খেলোয়াড়রা। যেমন রাফায়েল নাদাল (টেনিস), নেইমার (ফুটবল), চার্লস লেক্লার্ক (F1 রেসিং), জে-জি (Jay-Z), মিশেল ইয়ো, ফ্যারেল উইলিয়ামস, এবং অ্যাড শিরান। সাকিব আল হাসানসহ দেশের অনেক শীর্ষ তারকা ও ব্যবসায়ীদের হাতেও মাঝে মাঝে এই ব্র্যান্ডের ঘড়ি দেখা যায়।
Jacob & Co. (জ্যাকব অ্যান্ড কোম্পানি)
আমার আগ্রহের আরেকটি কোম্পানি Jacob & Co. (জ্যাকব অ্যান্ড কোম্পানি) যারা আমেরিকান বিলাসবহুল ঘড়ি এবং গহনা প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড, যা তার অভিনব নকশা, জটিল কারিগরি ও চোখ ধাঁধানো জাঁকজমকের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। Jacob & Co.-এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো ১৯৬৫ সালে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি নিজের গহনা ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে Jacob & Co. নামে আত্মপ্রকাশ করে ।
২০০২ সালে তিনি তাঁর প্রথম ঘড়ি ফাইভ টাইম জোন (Five Time Zone) বাজারে আনেন, যা ছিল চারটি ভিন্ন শহরের সময় একসাথে দেখানোর মতো উদ্ভাবনী ফিচার সমৃদ্ধ একটি কোয়ার্টজ ঘড়ি। ২০০৬ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় Jacob & Co. SA প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখান থেকে তাঁর উচ্চ-প্রযুক্তির যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। তাঁর প্রথম বড় সাফল্য ছিল কোয়েন্টিন মডেল, যা ছিল বিশ্বের প্রথম উল্লম্ব ট্যুরবিয়ন এবং ৩১ দিনের পাওয়ার রিজার্ভসহ ঘড়ি। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়, Jacob & Co. শুধু চটকদার নয়, কারিগরিতেও অসাধারণ।
Jacob & Co. তাদের প্রতিটি ঘড়িতেই গল্প বলার চেষ্টা করে। নিচে তাদের কিছু বিখ্যাত ও আলোচিত মডেলের তালিকা দেওয়া হলো:
বিলিয়নেয়ার (Billionaire): জমকালো বিলাসিতার এক অনন্য উদাহরণ এই ঘড়িটি। ২০১৫ সালে প্রথম বিলিয়নেয়ার ঘড়িটি উন্মোচন করা হয়, যার দাম ছিল ১৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২১১ কোটি টাকা সমান। এটি ২৬০ ক্যারেটের বেশি হীরা দিয়ে খচিত ছিল এবং কেস ও ব্রেসলেট সম্পূর্ণ সাদা সোনার তৈরি ।
মিস্ট্রি ট্যুরবিয়ন (The Mystery Tourbillon): এটি Jacob & Co.-এর উদ্ভাবনী শক্তির আরেকটি নিদর্শন। এই ঘড়িতে ডায়ালে কোনো সময়ের নির্দেশক নেই। একটি স্বচ্ছ স্যাফায়ার ক্রিস্টাল ডিস্কের ওপর ভাসমান অবস্থায় দুটি সেন্ট্রাল ট্রিপল-অ্যাক্সিস ট্যুরবিলন বসানো আছে, যা প্রায় শূন্যে ভাসমান বলেই মনে হয়। দাম প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।
অ্যাস্ট্রোনমিয়া (Astronomia): এটা সম্ভবত Jacob & Co.-এর সবচেয়ে আইকনিক এবং জটিল ঘড়ি। ২০১৪ সালে বাজারে আসা এই ঘড়িটি সৌরজগৎ ও মহাবিশ্বের সৌন্দর্যকে হাতের মুঠোয় এনেছে। এর ডায়ালে একটি ঘূর্ণায়মান পৃথিবী, চাঁদ এবং একটি ট্রিপল-অ্যাক্সিস ট্যুরবিয়ন থাকে, যা ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে ।
বুগাটি শিরন ট্যুরবিয়ন (Bugatti Chiron Tourbillon): বিলাসবহুল হাইপারকার প্রস্তুতকারক বুগাটির সাথে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ঘড়িটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময়। এতে বুগাটি গাড়ির ডব্লিউ১৬ ইঞ্জিনের একটি মিনিয়েচার ভার্সন বসানো আছে, যার পিস্টনগুলো ঘড়ির মুভমেন্টের সাথে সাথে নড়াচড়া করে। পুরো ঘড়িটির ডিজাইন বুগাটি শিরন গাড়ির বডিওয়ার্ক থেকে অনুপ্রাণিত । দাম প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

ওপেরা গডফাদার (Opera Godfather) : ১৯৭২ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র দ্য গডফাদার-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই ঘড়িটি একটি বাদ্যযন্ত্রও বটে। এর ডায়ালে একটি মিনিয়েচার গ্র্যান্ড পিয়ানো রয়েছে, যার একটি বোতাম চাপলেই সিনেমার বিখ্যাত থিম সং বেজে ওঠে। ডায়ালে বসানো ক্ষুদ্র মূর্তিটি স্বয়ং মার্লোন ব্রান্ডো অভিনীত চরিত্র ভিটো কর্লিয়োনের। দাম প্রায় ৫.৩৫ কোটি টাকা।
ক্যাসিনো ট্যুরবিয়ন (Casino Tourbillon): যারা রুলেটের রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই ঘড়ি। ডায়ালে একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ক্ষুদ্র রুলেট হুইল বসানো আছে। সাতটার দিকে থাকা বোতাম টিপলেই সিরামিকের বলটি ঘুরতে শুরু করে। ট্যুরবিলনটি ঘড়ির পিছনের দিকে দেখা যায়। দাম প্রায় ৪.৯৩ কোটি টাকা।
আগেই বলছিলাম, ঘড়ি বানানো এক ধরনের নিখুঁত শিল্পকর্ম। সেটা আদিকালে হোক বা হালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ হোক। আদি আমলের চার এবং হালের দুই নির্মাতা নিয়ে আলোচনার করা পর দেখা যাক আর কারা কারা আছে শীর্ষ কিছু নির্মাতাদের তালিকায়।
সুইজারল্যান্ডকে বলা হয় ঘড়ি শিল্পের রাজধানী। প্রধান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ড দেওয়া হলো: Rolex, Audemars Piguet , Jaeger-LeCoultre ,Omega ,TAG Heuer ,IWC Schaffhausen
এ ছাড়া আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড হলো Zenith, Longine, Hublot, Girard-Perregaux, Piaget, Chopard, Corum, Franck Muller, Bovet, Maurice , acroix, Raymond Weil, Baume & Mercier, Rado, Tissot, Certina, Mido
এর বাইরে অন্য দেশের মধ্যে রাশিয়ায় Raketa, Vostok, Poljot, Sturmanskie, জার্মানীতে A. Lange & Söhne, Glashütte Original
আমেরিকায় Hamilton, Ball, Shinola, Weiss উন্নতমানের ঘড়ি নির্মাণ করে। জাপানের সিকো ঘড়ির কথা আমরা তো ছোটবেলা থেকেই জানি। এর বাইরে আছে Citizen, Casio, Grand Seiko এবং Orient
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট (Morgan Stanley & LuxeConsult) অনুযায়ী রোলেক্স প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকা বা ৩৩% শেয়ার, কার্টিয়ার ৪৭ হাজার কোটি টাকা, এপি ৩৫ হাজার কোটি টাকা, পাটেক ফিলিপ ৩৪ হাজার কোটি টাকা, ওমেগা ৩০ হাজার কোটি টাকা, রিচার্ড মিল ২২ হাজার কোটি টাকা, লজিঞ্জ ১৩ হাজার কোটি টাকা, ভ্যাশুরান ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে।
এই তালিকার বিশেষ কিছু দিক আছে। যেমন রোলেক্সের একাধিপত্য। রোলেক্স এককভাবে এমন পরিমাণ আয় করে যা তালিকার পরের পাঁচটি ব্র্যান্ডের (কার্টিয়ার থেকে ওমেগা) মোট আয়ের সমান। মুনাফার হার (Profit Margin)-এর দিক দিয়ে বড় চারটি ব্র্যান্ড—রোলেক্স, পাটেক ফিলিপ, অডেমার পিগে এবং রিচার্ড মিল—পুরো ঘড়ি শিল্পের মোট মুনাফার প্রায় ৭৬% নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অপারেটিং প্রফিট মার্জিন সাধারণত ৩৩% থেকে ৩৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিলাসবহুল প্রবণতা অনুযায়ী রিচার্ড মিলের মতো ব্র্যান্ডগুলো খুব কম সংখ্যায় ঘড়ি তৈরি করেও (বছরে মাত্র ৫-৬ হাজারটি) উচ্চমূল্যের কারণে মুনাফায় অনেক এগিয়ে।
ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি তাঁর বিলাসবহুল হাতঘড়ির কালেকশনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ঘড়ি সংগ্রাহকদের মতে, তাঁর সংগ্রহে এমন কিছু ঘড়ি আছে যা বিশ্বের খুব কম মানুষের কাছেই রয়েছে। এমনকি মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানও অনন্তের ঘড়ি দেখে অবাক হয়েছিলেন।
অনন্তের সংগ্রহের বেশিরভাগ ঘড়িই ‘লিমিটেড এডিশন’ বা ‘পিস ইউনিক’ (অর্থাৎ যা পৃথিবীতে একটিই আছে)। তিনি শুধু নিজে ঘড়ি পরেন না, বরং তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের (Groomsmen) প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের অডেমার পিগে (Audemars Piguet) ঘড়ি উপহার দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।
অনন্ত আম্বানির কালেকশনের সবচেয়ে আলোচিত এবং দামি কিছু ঘড়ি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত বলা হলো
১. পাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চিম (Patek Philippe Grandmaster Chime)
এটি অনন্তের সংগ্রহের সব থেকে দামি ও জটিল ঘড়িগুলোর একটি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি)। এটা তৈরি করতে প্রায় এক লাখ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এতে ২০টি ভিন্ন জটিল মেকানিজম (Complications) এবং দুটি ডায়াল রয়েছে। এটি রিভার্সিবল বা উল্টো করেও পরা যায়।
২. রিচার্ড মিল, আরএম ৫২-০৪ ব্লু সেফায়ার স্কাল (Richard Mille RM 52-04 Skull)
সম্প্রতি এই ঘড়িটি পরে তাঁকে দেখা গেছে, যা দেখে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। দাম প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০-৩১ কোটি টাকা)। এই মডেলটি পুরো পৃথিবীতে মাত্র তিনটি তৈরি করা হয়েছে। এর ডায়ালের ভেতর একটি খুলি (Skull) এবং হাড়ের নকশা রয়েছে যা নীলকান্তমণি বা ব্লু সেফায়ার দিয়ে তৈরি।

৩. রিচার্ড মিল আরএম ৫৬-০২ সেফায়ার (Richard Mille RM 56-02)
এই ঘড়িটি দেখেই মার্ক জাকারবার্গ তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। দাম প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৬ কোটি টাকা)। এই ঘড়িটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট। এর কেসটি পুরোটা নীলকান্তমণি (Sapphire) পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে ভেতরের সমস্ত কলকব্জা পরিষ্কার দেখা যায়।
৪. রিচার্ড মিল আরএম ১০ ‘কোই ফিশ’ (RM S10 Koi Fish)
অনন্ত আম্বানি পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত, আর তাঁর এই শখটি প্রতিফলিত হয়েছে এই কাস্টমাইজড ঘড়িতে। এর দাম প্রায় ১.২৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা)। এটি ১৮ ক্যারেট রোজ গোল্ড দিয়ে তৈরি এবং এর ডায়ালের ভেতর ছোট ছোট কই মাছের (Koi Fish) ত্রিমাত্রিক নকশা হাতে রঙ করে বসানো হয়েছে।
৫. পাটেক ফিলিপ নটিলাস এমারল্ড (Patek Philippe Nautilus 5990/1422G)
এর দাম প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা)। এটি হোয়াইট গোল্ডের তৈরি এবং এর পুরো বডিতে দামি পান্না (Emerald) এবং হীরা বসানো রয়েছে। এটি পাটেক ফিলিপের অত্যন্ত ভিআইপি ক্লায়েন্টদের জন্য তৈরি করা একটি বিরল মডেল।
আপনারা জেনে অবাক হবেন যে বাংলাদেশেও একটি কোম্পানি আছে যারা বিলাসবহুল এবং শৌখিন ঘড়ি বানায়। বাংলাদেশে ঘড়ি নির্মাণ শিল্প এখনো ছোট পরিসরে হলেও “Bangladeshi Watch Maker (BWM)” নামে একটি প্রতিষ্ঠান দেশের প্রথম স্থানীয় ঘড়ি নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আধুনিক কারিগরির সাথে মিশিয়ে নিজস্ব ডিজাইনের ঘড়ি তৈরি করছে।
ঘড়ির ডায়ালে তারা নকশীকাঁথা ডিজাইন ব্যবহার করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, মহিউদ্দিন জাহাংগীর ও রুহুল আমিনের নামে চারটি ঘড়ির মডেল বাজারে ছেড়েছে সীমিত সংখ্যায়, মানে ৫০ থেকে ১০০ টি। দাম এক লাখের কাছাকাছি। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর যেদিন বিমান ছিনতাই করে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, সেদিন আকাশের রঙ কেমন ছিল? আমেরিকান মহাকাশ সংস্থা নাসা থেকে জেনেছিল যে সেদিন বিকেলটা ছিল ধুসর রঙ এর। আর তাইতো তাঁর নামের ঘড়িটা ধুসর রঙের।

এবার কথা বলা যাক কমপ্লিকেশন্স ও ট্যুরবিয়ন নিয়ে। কারণ শব্দ দুটি বারবার এসেছে। সৌখিন বা আধুনিক ঘড়ির এই কারিগরি বিষয় সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি লাভবানই হবেন!
আধুনিক সব ঘড়িতে Complications (কমপ্লিকেশনস) শব্দটা ইদানীং খুব ব্যবহৃত হয়। এর মানে সাধারণ সময় দেখানোর পাশাপাশি ঘড়ির অন্যান্য অতিরিক্ত কাজ করতে পারে। সহজ ভাষায়, একটি ঘড়ি যদি শুধু ঘণ্টা, মিনিট আর সেকেন্ড দেখায়, তাহলে সেটি হলো তার মৌলিক কাজ। এর বাইরে এটি যদি আর কোনো কাজ করতে পারে, যেমন তারিখ দেখা, সপ্তাহের বার দেখা, স্টপওয়াচ হিসেবে ব্যবহার করা, বা চাঁদের অবস্থান দেখা— তাহলে এই প্রতিটি অতিরিক্ত ফিচারকে একটি করে কমপ্লিকেশন বলা হয়।
এই ফিচারগুলোকে ‘কমপ্লিকেশন’ বা ‘জটিলতা’ বলার কারণ হলো এগুলো ঘড়ির ভেতরের কাঁটার জটিল কারিগরি কাঠামোকে আরও জটিল ও সূক্ষ্মভাবে তৈরি করার প্রয়োজন হয়। যত বেশি কমপ্লিকেশন থাকবে, ঘড়ির ভেতরের যন্ত্রটা তত বেশি জটিল এবং তৈরি করতে তত বেশি সময় ও কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে দাম ও আভিজাত্য বাড়ে চড়চড়িয়ে। ঘড়ি জগতে সাধারণত বেশি কমপ্লিকেশনসমৃদ্ধ ঘড়িগুলোই সবচেয়ে দামি ও দুর্লভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিছু সাধারণ কমপ্লিকেশনের উদাহরণ
১. ক্যালেন্ডার (Date/Day/Month): সাধারণ তারিখ থেকে শুরু করে সঠিকভাবে সপ্তাহের বার ও মাস দেখানো।
২. ক্রোনোগ্রাফ (Chronograph): এটা মূলত একটি স্টপওয়াচ ফাংশন, যা দিয়ে আলাদাভাবে সময় মাপা যায়।
৩. মুন ফেজ (Moon Phase): ডায়ালের একটি ছোট অংশে চাঁদের বিভিন্ন কলা (অমাবস্যা, পূর্ণিমা ইত্যাদি) দেখানো হয়।
৪. পাওয়ার রিজার্ভ ইন্ডিকেটর (Power Reserve Indicator): ঘড়িতে কতক্ষণ শক্তি (ঘুরানোর পর বা ব্যাটারির চার্জ) অবশিষ্ট আছে, তা একটি স্কেলে দেখায়।
৫. চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার (Perpetual Calendar): এটা জটিল ক্যালেন্ডার, যা নিজে নিজেই ২৮, ৩০, ৩১ দিনের মাস এবং লিপ ইয়ার হিসাব করতে পারে এবং সাধারণত ১০০ বছর পর্যন্ত ঠিক থাকে।
৬. মিনিট রিপিটার (Minute Repeater): একটি বিশেষ বাটন চাপলে ঘড়িটি ঘন্টা, পনেরো মিনিট ও মিনিট হিসেব করে ছোট ঘণ্টার মাধ্যমে শব্দ করে সময় বলে দেয়।
৭. ট্যুরবিয়ন (Tourbillon): এটি খুবই জটিল একটি কমপ্লিকেশন। এর কাজ হলো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব থেকে ঘড়ির স্পন্দন যন্ত্রকে (escapement) রক্ষা করা, যাতে সময় আরও নির্ভুলভাবে চলে। এই নিয়ে আলাদা একটা প্যারা থাকবে।
ঘড়ির ভেতরে যে কয়েল স্প্রিং বা ছোট ছোট হুইলের মতো চাকা আছে তা বিভিন্ন দিকে অনবরত ঘুরতে থাকে। হাতে পরা বা টেবিলে রেখে দিলে এতে কোন তারতম্য হয় না। কিন্তু মানুষ বিশেষত বিজ্ঞানীদের মন বোঝা বড় দায়। তারা দেখল যে ঘড়িতে খুব সূক্ষ্ম হলেও মধ্যাকর্ষণের প্রভাব আছে।

এই ভাবনা থেকেই ফরাসী বিজ্ঞানী Abraham-Louis Breguet ১৮০১ সালে আবিষ্কার করেন ট্যুরবিয়ন, যার মানে হল ‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ‘whirlwind’। এটা অনেকটা এয়ারক্রাফটের অতিআবশ্যকীয় জাইরোস্কোপের মতো।
এই প্রযুক্তিতে ঘড়ির escapement ও balance wheel একটি ঘূর্ণায়মান খাঁচার মধ্যে বসানো হয়। এই খাঁচা আবার নিজ অক্ষে সাধারণত প্রতি মিনিটে একবার ঘোরে। এর ফলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে সৃষ্ট সময়ের ত্রুটি গড়ে সমান হয়ে যায়। যুগে যুগে বিভিন্ন আধুনিক ঘড়ি নির্মাতারা ট্যুরবিয়ন-এর বিভিন্ন রূপ সংযোযন করেছেন। যেমন Single-axis Tourbillon (মূল নকশা, এক অক্ষ বরাবর ঘোরে), Flying Tourbillon (একপাশে সাপোর্ট থাকে, ফলে ঘূর্ণন আরও স্পষ্ট দেখা যায়), Double/Triple-axis Tourbillon (একাধিক অক্ষ বরাবর ঘোরে, নির্ভুলতা আরও বাড়ায়) এবং Gyro Tourbillon (অত্যন্ত জটিল, বহু অক্ষের সমন্বয়ে তৈরি)।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্যুরবিয়ন আজকের দিনে প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মর্যাদা ও শিল্পকর্মের প্রতীক। এটা সাধারণত বিলাসবহুল ঘড়িতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে মেকানিজমটি ঘড়ির ডায়ালে খোলা অবস্থায় প্রদর্শিত হয়।

ছেলেদের শখ খুব অল্প। সুন্দর কেডস বা জুতা, সানগ্লাস, মানিব্যাগ বা পারফিউম ছাড়িয়ে সবার পছন্দ এক জায়গায় মেলে। তা হলো ফ্যাশনেবল হাতঘড়ি। ছেলেরা আবার এসব জিনিস উপহার পেতেই পছন্দ করে। যেমন আমার। বৈবাহিক সূত্রে যেসব ঘড়ি পেয়েছিলাম তা উচ্চমূল্যের এবং এগুলো নিজের টাকা দিয়ে কেনার সামর্থ্য ছিল না। নিজের টাকায় যেসব কিনেছি সেটা হয় চাইনিজ ঘড়ি অথবা রেপ্লিকা।
পুরুষ সমাজ আসলে ঘড়ি উপহার পেতেই পছন্দ করে। যেমন রাজনীতিবিদ ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথাই ধরুন। নেত্র নিউজের করা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে আমরা প্রথম জানতে পারলাম যে একেকটা ঘড়ির দাম নিদেনপক্ষে ৩০ বা ৪০ লাখ টাকা। তিনি একেকদিন একেক ঘড়ি পরতেন যা দেখে আমাদের সবার ভীষণ হিংসা হয়েছিল। তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে এসব উপহার পাওয়া। দোষের কিছু না। ছেলেরা উপহার পেতেই পছন্দ করে।
ওবায়দুল কাদেরই একমাত্র উদাহরণ নয়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কথাই ধরুন না। বিখ্যাত তোষাখানা মামলা-১ এর কল্যাণে সারা বিশ্ব জানতে পারল যে ইমরান খান সৌদি যুবরাজের দেওয়া বিখ্যাত নির্মাতা ‘গ্রাফ’-এর সীমিত সংস্করণের একটি ঘড়ি তিনি মাত্র তিন লাখ ডলারের কাছাকাছি দামে সরকারিভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু প্রায় ২০ লাখ ডলার মূল্যে আরেক জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এজন্য ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে প্রথমে তিন বছর, পরে ১৪ বছর এবং সর্বশেষ ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন।
মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক কোটি কোটি ডলারের বিলাসবহুল উপহার (ব্যাগ, গহনা, ঘড়ি) নিয়েছিলেন এবং দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেল খাটছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পার্ক গিউন-হিয়ে করপোরেট উপহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। পরে যদিও ক্ষমা পান। তাইওয়ানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চেন শুই-বিয়ান রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ এবং ঘড়ি ও হীরার গহনা ঘুষ নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
আমি আসলে ইদানীং ঘড়ির প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। সারাদিন ইউটিউবে ঘড়ি নিয়ে যত ভিডিও বা গবেষণা আছে তা মনোযোগ দিয়ে দেখি। ঘড়ি নির্মাণে কৌশল ও আভিজাত্য এবং এর আকাশচুম্বী ক্রয়মূল্য আমাকে আগ্রহী করে তুলেছে এটা নিয়ে কিছু লেখার।
দেশে রাজনৈতিক আলোচনা এত বেশী চলছে এবং হালের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে সবাই যখন চিন্তিত তখন আমি বসলাম ঘড়ির আদ্যপান্ত নিয়ে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
ঘড়ি পরা স্টাইল। সেটা খেলোয়াড় হোক, নায়ক-গায়ক বা রাষ্ট্রনায়ক হোক অথবা বাপের ধনীর দুলাল হোক। নিজের কথা শুরুতে একটু বলেছিলাম। কোনো এক পোস্টে নায়কের হাতে ওমেগা ঘড়ি দেখে আফসোস করেছিলাম দেখে আমার এক বন্ধু আমেরিকা থেকে অন্যকে দিয়ে একটা ঘড়ি আনিয়েছিল। এটা এখন আমার অন্যতম প্রিয় ঘড়ি। চলুন কিছু সেলিব্রেটিদের কথা জানি তারা কোন ব্রান্ডের ঘড়ি পছন্দ করেন।
বিল গেটস এর মতো বিলিয়নার Casio Duro (অ্যানালগ) ঘড়ির পড়েন, যার দাম মাত্র ৫০ - ৭০ ডলার (প্রায় ৬,০০০ - ৮,০০০ টাকা)। সবাই কিন্তু তাঁর মতো না। যেমন ধরেন, ক্রিশ্চিয়ান রোনালদো পড়েন Girard-Perregaux Planetarium Tri-Axial হীরা খচিত একটি ঘড়ি। যার দাম ২৩ কোটি টাকা। এছাড়া তাঁর সংগ্রহে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের ‘Jacob & Co’ ঘড়িও রয়েছে।
টেনিস প্লেয়ার রাফায়েল নাদাল পরেন ১৩ কোটি টাকা দামের Richard Mille RM 27-04, যা অত্যন্ত হালকা এবং শক-প্রুফ। বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার Jacob & Co.-এর ‘The Billionaire Watch’ নামের একটা ঘড়ি পড়েন, যার দাম ১৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২১১ কোটি টাকা)। এটা সম্পূর্ণ ২৬০ ক্যারেট হীরা দিয়ে মোড়ানো। সিলভেস্টার স্ট্যালোন পড়েন Patek Philippe Grandmaster Chime (বিরল কালেকশন), যার দাম প্রায় ৫.৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৩ কোটি টাকায়)।

জে-জি (Jay-Z) যে ঘড়ি পড়েন তার নাম Patek Philippe Grandmaster Chime 6300G। দাম প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫.৭ কোটি টাকা)। তাঁর সংগ্রহে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের হাবলট (Hublot) ঘড়িও আছে। ভারতীয় দুলাল অনন্ত আম্বানী’র একটা ঘড়ি দাম ৯ মিলিয়ন ডলার বা ১০৫ কোটি টাকা (Patek Philippe Grandmaster Chime)। তাঁকে নিয়ে আলাদা একটা প্যারা থাকবে কথা দিলাম।
তবে বিশ্ববিখ্যাত তারকা এবং বিলিয়নেয়ারদের শখের ঘড়ির সংগ্রহ কেবল সময় দেখার জন্য নয়, বরং এটি তাঁদের আভিজাত্য এবং বিনিয়োগের একটি অংশ। বিনিয়োগ বলছি এই কারণে যে এত পরিমাণ টাকা ব্যাংকে রাখলে ট্যাক্স দিতে হবে। যদি ঘড়ি বা তৈলচিত্র কিনে রাখেন তো এটা যেমন সংরক্ষণে সুবিধা তেমনি যত পুরোনো হয় তত এর দাম বাড়ে।
প্রিয় স্বজন,
ইতিমধ্যে অনেক ঘড়ির ব্র্যান্ড ও দাম জেনে গেছেন। এসব ব্র্যান্ডের গল্প বলার আগে জেনে নেই সবচেয়ে দামি ঘড়ি কোনটি? Graff Diamonds Hallucination হলো বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, যার মূল্য প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৬৮ কোটি টাকা)।
এটি শুধু ঘড়ি নয়, বরং এক অনন্য শিল্পকর্ম ও গহনার নিদর্শন। Graff Diamonds-এর প্রতিষ্ঠাতা Laurence Graff এই ঘড়িটি তৈরি করেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি হিসেবে, যা তাদের গহনা শিল্পে অতুলনীয় দক্ষতার প্রতীক। এতে রয়েছে গোলাপি, নীল, হলুদ, সবুজ, কমলা ইত্যাদি বিরল ও বহুরঙা ১১০ ক্যারেট হীরা। ঘড়িটি প্রথম প্রদর্শিত হয় Baselworld 2014 Watch Fair। তবে এটি বিক্রি না করে তাদের শোরুমে রাখা আছে।
এখন ছোট একটা পরীক্ষা হয়ে যাক। আচ্ছা এই গ্রাফ শব্দটা আমার লেখার কোথায় আছে? জি। ঠিক ধরেছেন। তোষাখানা মামলায় ইমরান খান যে ঘড়ির জন্য জেল খাটছেন সেটা এই গ্রাফ-এর বানানো ঘড়ি।
ঘড়ি নির্মাণ একটি শিল্প। বলা যায় কুটির শিল্প। রোলেক্স বা ওমেগার মতো ঘড়ি যেমন মেশিনে বানানো হয়, তেমনি ডজন ডজন প্রতিষ্ঠান আছে যারা বংশগতভাবে ঘরে বসে হাতে হাতে ঘড়ি বানায়। হালে ঘড়ি নির্মাণের স্কুল থেকে পাশ করা তরুণরা নিজেরাই ঘরে বসেই বানাচ্ছে নিত্যনতুন ডিজাইনের ঘড়ি। অনেক ঘড়ি ২০০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশে তৈরি হয়। বছরের পর বছর লাগে এসব বানাতে। ফলে রোলেক্স যখন বছরে ১০ লাখ ঘড়ি বানায় তখন এসব শৌখিন নির্মাতারা বছরে ১০০ বা ৫০ বা ৩, এমনকি বছরে একটা ঘড়িও বানায়।
এগুলোর দাম মিলিয়ন ডলার হলেও ক্রেতার অভাব হয় না একদম। এই লেখায় কয়েকটি কোম্পানি নিয়ে আলোচনা করছি যারা আমার পছন্দের।
ব্লঁপা (Blancpain)
১৭৩৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ভিলারেতে জেহান-জ্যাক ব্লঁপা তাঁর ওয়ার্কশপ নিবন্ধন করেন। প্রতিষ্ঠার তারিখ অনুযায়ী এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম ঘড়ি ব্র্যান্ডের মর্যাদা দেয়। ১৯৭০-এর দশকে ‘কোয়ার্টজ সংকটের’ সময় কোম্পানিটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে পুনরায় চালু হয়। ‘ফিফটি ফ্যাথমস’ (Fifty Fathoms) সম্ভবত বিশ্বের প্রথম আধুনিক ডাইভিং ঘড়ি যা নির্মাণ করেছে ব্লঁপা।
ফাভরে-লিউবা (Favre-Leuba)
ব্লঁপা প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছর পর মানে ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ফাভরে-লিউবা আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় প্রাচীনতম ঘড়ির ব্র্যান্ড। চরম প্রতিকূলতায় ব্যবহারযোগ্য টুল ঘড়ি; যেমন ‘বিভোয়াক’ (Bivouac) নামে একটি ঘড়ি তারা বানায়, যা মেকানিক্যাল ঘড়ি হিসাবে উচ্চতা (Altimetry) এবং বাতাসের চাপ মাপতে সক্ষম।
ভ্যাশেরন কনস্ট্যান্টিন (Vacheron Constantin)
এই ব্র্যান্ডটি সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে সচল থাকা ব্র্যান্ড, যেটা সংগ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানজনক। ১৭৫৫ সালে জাঁ-মার্ক ভ্যাশেরন তাঁর কর্মশালা খোলার পর থেকে এই কোম্পানি একদিনের জন্যও উৎপাদন বন্ধ করেনি। বিশ্বযুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা বা ডিজিটাল ঘড়ির উত্থান, কোনো কিছুই এর জনপ্রিয়তা কে থামাতে পারেনি।

এটা বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি ঘড়ি নির্মাতার একটি (অন্য দুটি হলো পাটেক ফিলিপ এবং অডেমার পিগে) যা ‘হলি ট্রিনিটি’ নামেও পরিচিত। ‘রেফারেন্স ৫৭২৬০’ (Reference 57260) নামে একটা ঘড়ি আছে এদের, যা এখন পর্যন্ত তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে জটিল মেকানিক্যাল ঘড়ি (এতে ৫৭টি ভিন্ন মেকানিজম বা কমপ্লিকেশন রয়েছে)। কমপ্লিকেশন নিয়ে আলাদা একটা প্যারা থাকবে এই লেখার শেষের দিকে।
ব্রেগে (Breguet)
১৭৭৫ আব্রাহাম লুই ব্রেগে কর্তৃক প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ডটির নাম মেকানিক্যাল ঘড়ি তৈরির প্রায় প্রতিটি বড় আবিষ্কারের সঙ্গে মিশে আছে। ১৮০১ সালে ব্রেগে ‘ট্যুরবিয়ন’ (Tourbillon) আবিষ্কার করেন। এটা এমন একটি মেকানিজম যা ঘড়ির নির্ভুলতার ওপর অভিকর্ষ বলের প্রভাবকে রুখে দেয়। মেরি অ্যান্টোনেট, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এবং উইনস্টন চার্চিল এই ঘড়ির অন্যতম গ্রাহক। টুরবিয়ন সম্পর্কে একটি ধারণা দেবার চেষ্টা করবো লেখার শেষের দিকে।
জিরার্ড-পেরেগো (Girard-Perregaux)
১৭৯১ সালে জাঁ-ফ্রাঁসোয়া বটের ওয়ার্কশপে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডটি উচ্চমানের ঘড়ি শিল্প-জগতের এক দানব। ব্র্যান্ডটির সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি হলো তাদের ‘Tourbillon with Three Gold Bridges’। ১৮৬৭ সালে প্যারিস ইউনিভার্সাল এক্সিবিশনে এটা প্রথম আত্মপ্রকাশ করে এবং স্বর্ণপদক জয় করে। এটি ঘড়ির মেকানিজমকে কেবল একটি যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, বরং একটি শৈল্পিক ডিজাইন হিসেবে তুলে ধরে। অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায় ঘড়ি তৈরির কারণে ঘড়ি সংগ্রাহকদের কাছে এর এক বিশেষ আবেদন রয়েছে।
পাটেক ফিলিপ (Patek Philippe)
এটা বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত এবং অভিজাত ঘড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সুইস ব্র্যান্ডটি ঘড়ির জগতের ‘রাজা’ হিসেবে পরিচিত। এদের একটি বিখ্যাত বিজ্ঞাপন স্লোগান আছে, ‘You never actually own a Patek Philippe. You merely look after it for the next generation.’ (অর্থাৎ, আপনি কখনোই একটি পাটেক ফিলিপের মালিক হন না, আপনি কেবল পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটি আগলে রাখেন।)
১৮৩৯ সালে আন্তোনি পাটেক এবং অ্যাড্রিয়েন ফিলিপ এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। পাটেক ফিলিপ জেনেভার অন্যতম প্রাচীন ঘড়ি নির্মাতা যারা ১৮৩৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একনাগাড়ে ঘড়ি তৈরি করে আসছে। পাটেক ফিলিপ শুরু থেকেই রাজা-বাদশাদের পছন্দ ছিল। রানী ভিক্টোরিয়া, পোপ নবম পিয়াস, এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো ব্যক্তিরা এই ঘড়ি ব্যবহার করতেন। বর্তমানেও বিলিয়নেয়ার এবং সফল ব্যক্তিদের প্রথম পছন্দ এটি।
পাটেক ফিলিপ তাদের ‘কমপ্লিকেশনস’ বা ঘড়ির জটিল ফিচারের জন্য বিখ্যাত। Henry Graves Supercomplication: ১৯৩৩ সালে তৈরি এই পকেট ঘড়িটি দীর্ঘ সময় বিশ্বের সব থেকে জটিল ঘড়ি ছিল। Grandmaster Chime বর্তমানের অন্যতম জটিল কবজির ঘড়ি, যাতে ২০টি ভিন্ন ফিচার আছে। অনন্ত আম্বানির কাছেও এই মডেলটির একটি সংস্করণ রয়েছে।
পাটেক ফিলিপের ঘড়ি শুধু সময় দেখার জন্য নয়, এটি একটি বিশাল বিনিয়োগ। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়িগুলোর তালিকায় এদের নাম সবার উপরে। ২০১৯ সালে একটি পাটেক ফিলিপ ‘গ্র্যান্ডমাস্টার চিম’ নিলামে প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছিল। সাধারণত পুরোনো ঘড়ির দাম কমে যায়, কিন্তু পাটেক ফিলিপের ক্ষেত্রে উল্টো। অনেক পুরোনো মডেলের দাম এখন আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

পাটেক ফিলিপ প্রতি বছর খুব কম সংখ্যক ঘড়ি তৈরি করে (প্রায় ৬০,০০০-৭০,০০০টি)। যেখানে রোলেক্স তৈরি করে ১০ লাখেরও বেশি। এদের কিছু জনপ্রিয় মডেল (যেমন: Nautilus 5711) কিনতে চাইলে আপনাকে কয়েক বছর ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হতে পারে। এমনকি অনেক সময় টাকা থাকলেও এই ঘড়ি সহজে পাওয়া যায় না। যেম্পন Nautilus (নটিলাস), Calatrava (কালাট্রাভা), Aquanaut (অ্যাকুয়ানট)। সহজ কথায়, পাটেক ফিলিপ কেনা মানে শুধু একটি ঘড়ি কেনা নয়, বরং ঘড়ির ইতিহাসের একটি অংশ নিজের কাছে রাখা।
রিচার্ড মিল (Richard Mille)
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল এবং দামি ঘড়ির ব্র্যান্ড হল রিচার্ড মিল। আপনি যদি একে ঘড়ির জগতের ‘ফেরারি’ বা ‘ফর্মুলা ওয়ান’ বলেন, তবে ভুল হবে না। ২০০১ সালে ফরাসি ব্যবসায়ী রিচার্ড মিল এবং ডমিনিক গুয়েনাট মিলে এই ব্র্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘড়িগুলো এতটাই দামি যে একে অনেক সময় সংগ্রাহকরা ‘বিলিয়নেয়ার্স হ্যান্ডশেক’ বলে ডাকেন, কারণ এগুলোর দাম সাধারণত ৮০ হাজার ডলার (প্রায় ৯৪ লাখ টাকা) থেকে শুরু হয়ে ৩-৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৫-৪৭ কোটি টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি বছর এগুলো খুব সীমিত সংখ্যায় (মাত্র ৫০০০-৫৫০০টি) তৈরি করা হয়।
এই ঘড়ি তৈরিতে টাইটানিয়াম, কার্বন টিপিটি (Carbon TPT), গ্রাফিন এবং নীলকান্তমণির (Sapphire) মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণত মহাকাশ গবেষণা বা রেসিং কারে ব্যবহৃত হয়।
রিচার্ড মিল ঘড়িগুলো ওজনে প্লাস্টিকের মতো হালকা হতে পারে (কিছু মডেলের ওজন মাত্র ১৮-২০ গ্রাম), কিন্তু এগুলো পাথরের মতো শক্ত। টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল খেলার সময় এই ঘড়ি পরে থাকেন, যা তীব্র ঝাঁকুনি বা আঘাত সহ্য করতে পারে। প্রতিটি ঘড়ি হাতে তৈরি এবং এর ভেতরের কলকব্জা (Movement) অনেকটা ফর্মুলা ওয়ান ইঞ্জিনের স্টাইলে ডিজাইন করা। রিচার্ড মিল ঘড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর টোনো আকৃতি (ব্যারেল বা পিপার মতো আকৃতি)। এছাড়া এর ডায়ালগুলো সাধারণত স্কেলেটন (Skeletonized) হয়, অর্থাৎ ঘড়ির ভেতরের গিয়ার এবং মেকানিজম বাইরে থেকেই পরিষ্কার দেখা যায়।
RM 027, RM 011, RM 52-01 ঘড়ি গুলোর ভক্ত হলো বিশ্বের বড় বড় তারকা এবং খেলোয়াড়রা। যেমন রাফায়েল নাদাল (টেনিস), নেইমার (ফুটবল), চার্লস লেক্লার্ক (F1 রেসিং), জে-জি (Jay-Z), মিশেল ইয়ো, ফ্যারেল উইলিয়ামস, এবং অ্যাড শিরান। সাকিব আল হাসানসহ দেশের অনেক শীর্ষ তারকা ও ব্যবসায়ীদের হাতেও মাঝে মাঝে এই ব্র্যান্ডের ঘড়ি দেখা যায়।
Jacob & Co. (জ্যাকব অ্যান্ড কোম্পানি)
আমার আগ্রহের আরেকটি কোম্পানি Jacob & Co. (জ্যাকব অ্যান্ড কোম্পানি) যারা আমেরিকান বিলাসবহুল ঘড়ি এবং গহনা প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড, যা তার অভিনব নকশা, জটিল কারিগরি ও চোখ ধাঁধানো জাঁকজমকের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। Jacob & Co.-এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো ১৯৬৫ সালে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি নিজের গহনা ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে Jacob & Co. নামে আত্মপ্রকাশ করে ।
২০০২ সালে তিনি তাঁর প্রথম ঘড়ি ফাইভ টাইম জোন (Five Time Zone) বাজারে আনেন, যা ছিল চারটি ভিন্ন শহরের সময় একসাথে দেখানোর মতো উদ্ভাবনী ফিচার সমৃদ্ধ একটি কোয়ার্টজ ঘড়ি। ২০০৬ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় Jacob & Co. SA প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখান থেকে তাঁর উচ্চ-প্রযুক্তির যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। তাঁর প্রথম বড় সাফল্য ছিল কোয়েন্টিন মডেল, যা ছিল বিশ্বের প্রথম উল্লম্ব ট্যুরবিয়ন এবং ৩১ দিনের পাওয়ার রিজার্ভসহ ঘড়ি। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়, Jacob & Co. শুধু চটকদার নয়, কারিগরিতেও অসাধারণ।
Jacob & Co. তাদের প্রতিটি ঘড়িতেই গল্প বলার চেষ্টা করে। নিচে তাদের কিছু বিখ্যাত ও আলোচিত মডেলের তালিকা দেওয়া হলো:
বিলিয়নেয়ার (Billionaire): জমকালো বিলাসিতার এক অনন্য উদাহরণ এই ঘড়িটি। ২০১৫ সালে প্রথম বিলিয়নেয়ার ঘড়িটি উন্মোচন করা হয়, যার দাম ছিল ১৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২১১ কোটি টাকা সমান। এটি ২৬০ ক্যারেটের বেশি হীরা দিয়ে খচিত ছিল এবং কেস ও ব্রেসলেট সম্পূর্ণ সাদা সোনার তৈরি ।
মিস্ট্রি ট্যুরবিয়ন (The Mystery Tourbillon): এটি Jacob & Co.-এর উদ্ভাবনী শক্তির আরেকটি নিদর্শন। এই ঘড়িতে ডায়ালে কোনো সময়ের নির্দেশক নেই। একটি স্বচ্ছ স্যাফায়ার ক্রিস্টাল ডিস্কের ওপর ভাসমান অবস্থায় দুটি সেন্ট্রাল ট্রিপল-অ্যাক্সিস ট্যুরবিলন বসানো আছে, যা প্রায় শূন্যে ভাসমান বলেই মনে হয়। দাম প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।
অ্যাস্ট্রোনমিয়া (Astronomia): এটা সম্ভবত Jacob & Co.-এর সবচেয়ে আইকনিক এবং জটিল ঘড়ি। ২০১৪ সালে বাজারে আসা এই ঘড়িটি সৌরজগৎ ও মহাবিশ্বের সৌন্দর্যকে হাতের মুঠোয় এনেছে। এর ডায়ালে একটি ঘূর্ণায়মান পৃথিবী, চাঁদ এবং একটি ট্রিপল-অ্যাক্সিস ট্যুরবিয়ন থাকে, যা ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে ।
বুগাটি শিরন ট্যুরবিয়ন (Bugatti Chiron Tourbillon): বিলাসবহুল হাইপারকার প্রস্তুতকারক বুগাটির সাথে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ঘড়িটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময়। এতে বুগাটি গাড়ির ডব্লিউ১৬ ইঞ্জিনের একটি মিনিয়েচার ভার্সন বসানো আছে, যার পিস্টনগুলো ঘড়ির মুভমেন্টের সাথে সাথে নড়াচড়া করে। পুরো ঘড়িটির ডিজাইন বুগাটি শিরন গাড়ির বডিওয়ার্ক থেকে অনুপ্রাণিত । দাম প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

ওপেরা গডফাদার (Opera Godfather) : ১৯৭২ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র দ্য গডফাদার-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই ঘড়িটি একটি বাদ্যযন্ত্রও বটে। এর ডায়ালে একটি মিনিয়েচার গ্র্যান্ড পিয়ানো রয়েছে, যার একটি বোতাম চাপলেই সিনেমার বিখ্যাত থিম সং বেজে ওঠে। ডায়ালে বসানো ক্ষুদ্র মূর্তিটি স্বয়ং মার্লোন ব্রান্ডো অভিনীত চরিত্র ভিটো কর্লিয়োনের। দাম প্রায় ৫.৩৫ কোটি টাকা।
ক্যাসিনো ট্যুরবিয়ন (Casino Tourbillon): যারা রুলেটের রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই ঘড়ি। ডায়ালে একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ক্ষুদ্র রুলেট হুইল বসানো আছে। সাতটার দিকে থাকা বোতাম টিপলেই সিরামিকের বলটি ঘুরতে শুরু করে। ট্যুরবিলনটি ঘড়ির পিছনের দিকে দেখা যায়। দাম প্রায় ৪.৯৩ কোটি টাকা।
আগেই বলছিলাম, ঘড়ি বানানো এক ধরনের নিখুঁত শিল্পকর্ম। সেটা আদিকালে হোক বা হালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ হোক। আদি আমলের চার এবং হালের দুই নির্মাতা নিয়ে আলোচনার করা পর দেখা যাক আর কারা কারা আছে শীর্ষ কিছু নির্মাতাদের তালিকায়।
সুইজারল্যান্ডকে বলা হয় ঘড়ি শিল্পের রাজধানী। প্রধান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ড দেওয়া হলো: Rolex, Audemars Piguet , Jaeger-LeCoultre ,Omega ,TAG Heuer ,IWC Schaffhausen
এ ছাড়া আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড হলো Zenith, Longine, Hublot, Girard-Perregaux, Piaget, Chopard, Corum, Franck Muller, Bovet, Maurice , acroix, Raymond Weil, Baume & Mercier, Rado, Tissot, Certina, Mido
এর বাইরে অন্য দেশের মধ্যে রাশিয়ায় Raketa, Vostok, Poljot, Sturmanskie, জার্মানীতে A. Lange & Söhne, Glashütte Original
আমেরিকায় Hamilton, Ball, Shinola, Weiss উন্নতমানের ঘড়ি নির্মাণ করে। জাপানের সিকো ঘড়ির কথা আমরা তো ছোটবেলা থেকেই জানি। এর বাইরে আছে Citizen, Casio, Grand Seiko এবং Orient
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট (Morgan Stanley & LuxeConsult) অনুযায়ী রোলেক্স প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকা বা ৩৩% শেয়ার, কার্টিয়ার ৪৭ হাজার কোটি টাকা, এপি ৩৫ হাজার কোটি টাকা, পাটেক ফিলিপ ৩৪ হাজার কোটি টাকা, ওমেগা ৩০ হাজার কোটি টাকা, রিচার্ড মিল ২২ হাজার কোটি টাকা, লজিঞ্জ ১৩ হাজার কোটি টাকা, ভ্যাশুরান ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে।
এই তালিকার বিশেষ কিছু দিক আছে। যেমন রোলেক্সের একাধিপত্য। রোলেক্স এককভাবে এমন পরিমাণ আয় করে যা তালিকার পরের পাঁচটি ব্র্যান্ডের (কার্টিয়ার থেকে ওমেগা) মোট আয়ের সমান। মুনাফার হার (Profit Margin)-এর দিক দিয়ে বড় চারটি ব্র্যান্ড—রোলেক্স, পাটেক ফিলিপ, অডেমার পিগে এবং রিচার্ড মিল—পুরো ঘড়ি শিল্পের মোট মুনাফার প্রায় ৭৬% নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অপারেটিং প্রফিট মার্জিন সাধারণত ৩৩% থেকে ৩৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিলাসবহুল প্রবণতা অনুযায়ী রিচার্ড মিলের মতো ব্র্যান্ডগুলো খুব কম সংখ্যায় ঘড়ি তৈরি করেও (বছরে মাত্র ৫-৬ হাজারটি) উচ্চমূল্যের কারণে মুনাফায় অনেক এগিয়ে।
ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি তাঁর বিলাসবহুল হাতঘড়ির কালেকশনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ঘড়ি সংগ্রাহকদের মতে, তাঁর সংগ্রহে এমন কিছু ঘড়ি আছে যা বিশ্বের খুব কম মানুষের কাছেই রয়েছে। এমনকি মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানও অনন্তের ঘড়ি দেখে অবাক হয়েছিলেন।
অনন্তের সংগ্রহের বেশিরভাগ ঘড়িই ‘লিমিটেড এডিশন’ বা ‘পিস ইউনিক’ (অর্থাৎ যা পৃথিবীতে একটিই আছে)। তিনি শুধু নিজে ঘড়ি পরেন না, বরং তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের (Groomsmen) প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের অডেমার পিগে (Audemars Piguet) ঘড়ি উপহার দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।
অনন্ত আম্বানির কালেকশনের সবচেয়ে আলোচিত এবং দামি কিছু ঘড়ি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত বলা হলো
১. পাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চিম (Patek Philippe Grandmaster Chime)
এটি অনন্তের সংগ্রহের সব থেকে দামি ও জটিল ঘড়িগুলোর একটি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি)। এটা তৈরি করতে প্রায় এক লাখ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এতে ২০টি ভিন্ন জটিল মেকানিজম (Complications) এবং দুটি ডায়াল রয়েছে। এটি রিভার্সিবল বা উল্টো করেও পরা যায়।
২. রিচার্ড মিল, আরএম ৫২-০৪ ব্লু সেফায়ার স্কাল (Richard Mille RM 52-04 Skull)
সম্প্রতি এই ঘড়িটি পরে তাঁকে দেখা গেছে, যা দেখে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। দাম প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০-৩১ কোটি টাকা)। এই মডেলটি পুরো পৃথিবীতে মাত্র তিনটি তৈরি করা হয়েছে। এর ডায়ালের ভেতর একটি খুলি (Skull) এবং হাড়ের নকশা রয়েছে যা নীলকান্তমণি বা ব্লু সেফায়ার দিয়ে তৈরি।

৩. রিচার্ড মিল আরএম ৫৬-০২ সেফায়ার (Richard Mille RM 56-02)
এই ঘড়িটি দেখেই মার্ক জাকারবার্গ তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। দাম প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৬ কোটি টাকা)। এই ঘড়িটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট। এর কেসটি পুরোটা নীলকান্তমণি (Sapphire) পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে ভেতরের সমস্ত কলকব্জা পরিষ্কার দেখা যায়।
৪. রিচার্ড মিল আরএম ১০ ‘কোই ফিশ’ (RM S10 Koi Fish)
অনন্ত আম্বানি পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত, আর তাঁর এই শখটি প্রতিফলিত হয়েছে এই কাস্টমাইজড ঘড়িতে। এর দাম প্রায় ১.২৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা)। এটি ১৮ ক্যারেট রোজ গোল্ড দিয়ে তৈরি এবং এর ডায়ালের ভেতর ছোট ছোট কই মাছের (Koi Fish) ত্রিমাত্রিক নকশা হাতে রঙ করে বসানো হয়েছে।
৫. পাটেক ফিলিপ নটিলাস এমারল্ড (Patek Philippe Nautilus 5990/1422G)
এর দাম প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা)। এটি হোয়াইট গোল্ডের তৈরি এবং এর পুরো বডিতে দামি পান্না (Emerald) এবং হীরা বসানো রয়েছে। এটি পাটেক ফিলিপের অত্যন্ত ভিআইপি ক্লায়েন্টদের জন্য তৈরি করা একটি বিরল মডেল।
আপনারা জেনে অবাক হবেন যে বাংলাদেশেও একটি কোম্পানি আছে যারা বিলাসবহুল এবং শৌখিন ঘড়ি বানায়। বাংলাদেশে ঘড়ি নির্মাণ শিল্প এখনো ছোট পরিসরে হলেও “Bangladeshi Watch Maker (BWM)” নামে একটি প্রতিষ্ঠান দেশের প্রথম স্থানীয় ঘড়ি নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আধুনিক কারিগরির সাথে মিশিয়ে নিজস্ব ডিজাইনের ঘড়ি তৈরি করছে।
ঘড়ির ডায়ালে তারা নকশীকাঁথা ডিজাইন ব্যবহার করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, মহিউদ্দিন জাহাংগীর ও রুহুল আমিনের নামে চারটি ঘড়ির মডেল বাজারে ছেড়েছে সীমিত সংখ্যায়, মানে ৫০ থেকে ১০০ টি। দাম এক লাখের কাছাকাছি। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর যেদিন বিমান ছিনতাই করে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, সেদিন আকাশের রঙ কেমন ছিল? আমেরিকান মহাকাশ সংস্থা নাসা থেকে জেনেছিল যে সেদিন বিকেলটা ছিল ধুসর রঙ এর। আর তাইতো তাঁর নামের ঘড়িটা ধুসর রঙের।

এবার কথা বলা যাক কমপ্লিকেশন্স ও ট্যুরবিয়ন নিয়ে। কারণ শব্দ দুটি বারবার এসেছে। সৌখিন বা আধুনিক ঘড়ির এই কারিগরি বিষয় সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি লাভবানই হবেন!
আধুনিক সব ঘড়িতে Complications (কমপ্লিকেশনস) শব্দটা ইদানীং খুব ব্যবহৃত হয়। এর মানে সাধারণ সময় দেখানোর পাশাপাশি ঘড়ির অন্যান্য অতিরিক্ত কাজ করতে পারে। সহজ ভাষায়, একটি ঘড়ি যদি শুধু ঘণ্টা, মিনিট আর সেকেন্ড দেখায়, তাহলে সেটি হলো তার মৌলিক কাজ। এর বাইরে এটি যদি আর কোনো কাজ করতে পারে, যেমন তারিখ দেখা, সপ্তাহের বার দেখা, স্টপওয়াচ হিসেবে ব্যবহার করা, বা চাঁদের অবস্থান দেখা— তাহলে এই প্রতিটি অতিরিক্ত ফিচারকে একটি করে কমপ্লিকেশন বলা হয়।
এই ফিচারগুলোকে ‘কমপ্লিকেশন’ বা ‘জটিলতা’ বলার কারণ হলো এগুলো ঘড়ির ভেতরের কাঁটার জটিল কারিগরি কাঠামোকে আরও জটিল ও সূক্ষ্মভাবে তৈরি করার প্রয়োজন হয়। যত বেশি কমপ্লিকেশন থাকবে, ঘড়ির ভেতরের যন্ত্রটা তত বেশি জটিল এবং তৈরি করতে তত বেশি সময় ও কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে দাম ও আভিজাত্য বাড়ে চড়চড়িয়ে। ঘড়ি জগতে সাধারণত বেশি কমপ্লিকেশনসমৃদ্ধ ঘড়িগুলোই সবচেয়ে দামি ও দুর্লভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিছু সাধারণ কমপ্লিকেশনের উদাহরণ
১. ক্যালেন্ডার (Date/Day/Month): সাধারণ তারিখ থেকে শুরু করে সঠিকভাবে সপ্তাহের বার ও মাস দেখানো।
২. ক্রোনোগ্রাফ (Chronograph): এটা মূলত একটি স্টপওয়াচ ফাংশন, যা দিয়ে আলাদাভাবে সময় মাপা যায়।
৩. মুন ফেজ (Moon Phase): ডায়ালের একটি ছোট অংশে চাঁদের বিভিন্ন কলা (অমাবস্যা, পূর্ণিমা ইত্যাদি) দেখানো হয়।
৪. পাওয়ার রিজার্ভ ইন্ডিকেটর (Power Reserve Indicator): ঘড়িতে কতক্ষণ শক্তি (ঘুরানোর পর বা ব্যাটারির চার্জ) অবশিষ্ট আছে, তা একটি স্কেলে দেখায়।
৫. চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার (Perpetual Calendar): এটা জটিল ক্যালেন্ডার, যা নিজে নিজেই ২৮, ৩০, ৩১ দিনের মাস এবং লিপ ইয়ার হিসাব করতে পারে এবং সাধারণত ১০০ বছর পর্যন্ত ঠিক থাকে।
৬. মিনিট রিপিটার (Minute Repeater): একটি বিশেষ বাটন চাপলে ঘড়িটি ঘন্টা, পনেরো মিনিট ও মিনিট হিসেব করে ছোট ঘণ্টার মাধ্যমে শব্দ করে সময় বলে দেয়।
৭. ট্যুরবিয়ন (Tourbillon): এটি খুবই জটিল একটি কমপ্লিকেশন। এর কাজ হলো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব থেকে ঘড়ির স্পন্দন যন্ত্রকে (escapement) রক্ষা করা, যাতে সময় আরও নির্ভুলভাবে চলে। এই নিয়ে আলাদা একটা প্যারা থাকবে।
ঘড়ির ভেতরে যে কয়েল স্প্রিং বা ছোট ছোট হুইলের মতো চাকা আছে তা বিভিন্ন দিকে অনবরত ঘুরতে থাকে। হাতে পরা বা টেবিলে রেখে দিলে এতে কোন তারতম্য হয় না। কিন্তু মানুষ বিশেষত বিজ্ঞানীদের মন বোঝা বড় দায়। তারা দেখল যে ঘড়িতে খুব সূক্ষ্ম হলেও মধ্যাকর্ষণের প্রভাব আছে।

এই ভাবনা থেকেই ফরাসী বিজ্ঞানী Abraham-Louis Breguet ১৮০১ সালে আবিষ্কার করেন ট্যুরবিয়ন, যার মানে হল ‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ‘whirlwind’। এটা অনেকটা এয়ারক্রাফটের অতিআবশ্যকীয় জাইরোস্কোপের মতো।
এই প্রযুক্তিতে ঘড়ির escapement ও balance wheel একটি ঘূর্ণায়মান খাঁচার মধ্যে বসানো হয়। এই খাঁচা আবার নিজ অক্ষে সাধারণত প্রতি মিনিটে একবার ঘোরে। এর ফলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে সৃষ্ট সময়ের ত্রুটি গড়ে সমান হয়ে যায়। যুগে যুগে বিভিন্ন আধুনিক ঘড়ি নির্মাতারা ট্যুরবিয়ন-এর বিভিন্ন রূপ সংযোযন করেছেন। যেমন Single-axis Tourbillon (মূল নকশা, এক অক্ষ বরাবর ঘোরে), Flying Tourbillon (একপাশে সাপোর্ট থাকে, ফলে ঘূর্ণন আরও স্পষ্ট দেখা যায়), Double/Triple-axis Tourbillon (একাধিক অক্ষ বরাবর ঘোরে, নির্ভুলতা আরও বাড়ায়) এবং Gyro Tourbillon (অত্যন্ত জটিল, বহু অক্ষের সমন্বয়ে তৈরি)।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্যুরবিয়ন আজকের দিনে প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মর্যাদা ও শিল্পকর্মের প্রতীক। এটা সাধারণত বিলাসবহুল ঘড়িতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে মেকানিজমটি ঘড়ির ডায়ালে খোলা অবস্থায় প্রদর্শিত হয়।
ব্রিটেনের গণতন্ত্রের ইতিহাস যেখানে কয়েক শতাব্দীর, সেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে আমাদের যাত্রা তো কেবল শুরু। ১৯৫৬ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ৭০ বছর তাই সংসদীয় গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থার বিবর্তন নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংবিধানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার একটি দীর্ঘ ইতিহাস।
১৭ ঘণ্টা আগে
দুনিয়ার এত এত ভাষায় কবিতাচর্চা হচ্ছে। কিন্তু আমরা ঘুরেফিরে চেনাপরিচিত কয়েকটি ভাষার কবিতার সঙ্গেই তুলনামূলক আলোচনা করে বিশ্বসাহিত্য বিষয়ক বোধের ঢেঁকুর তুলি। একদেড়শো বছর আগেকার বিশ্বকবিতার সমান্তরালে আমরা বাংলা কবিতাকে প্রায়শই তুলনা করি এবং সিদ্ধান্তে আসি।
১ দিন আগে
কোথাও কি সত্যিই এসিড বৃষ্টি হচ্ছে না? আমাদের বিবেকের ওপর যে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো পড়ছে, সেগুলো কি অ্যাসিডের চেয়েও বেশি দাহ্য নয়? গানের সেই মরা রাজহাঁসটি আসলে আমরাই, যারা ডানা হারিয়ে আদিম রক্তের জলোচ্ছ্বাসে নিজেদের অজান্তেই ভেসে যাচ্ছি।
১ দিন আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর অষ্টম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
১ দিন আগে