ইমরান হোসাইন

রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা—সর্বত্রই এখন নির্বাচনী আলোচনার রেশ। তবে এবারের আলোচনা কেবল হার-জিতের সমীকরণে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটাররা খুঁজছেন দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, জবাবদিহি এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ। কেউ বলছেন শতভাগ পরিবর্তনের কথা, আবার কারো কণ্ঠে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আস্থাহীনতার কথা। কেউবা কেবল নাগরিক দায়িত্ব পালন করে দায়মুক্ত হতে চান।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে নানা ভাবনা, শঙ্কা আর প্রত্যাশার চিত্র। শেষ মুহূর্তের এই জনমত যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, ভোটাররা কেবল একটি মার্কায় সিল মারতে চান না; তাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান।
শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী পরিবেশ
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকার পরিবেশ আপাতদৃষ্টিতে শান্ত। পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর কিংবা শাহবাগ—কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর নেই। তবে ভোটারদের মনে একটি প্রচ্ছন্ন শঙ্কা কাজ করছে। ঢাকা-৭ আসনের ভোটার মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। আশেপাশের মানুষও ভোট দিতে উৎসাহী। কোনো হুমকি বা উত্তেজনা তৈরি হয়নি।”
পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকার ভোটার মোহাম্মদ আরিফ এবং চকবাজারের জসিম উদ্দিন ওয়াসিও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা জানিয়েছেন। শাহবাগের ফুল বিক্রেতা আসমা আক্তার বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত এবং সুন্দর দেখছি।”
তবে ঢাকা-৮ আসনের এক ভোটার প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নীতি, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিয়ে। একই আসনের ভোটার রুহুল আমিন বাবুল বলেন, “প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে দায়িত্বে থাকার যৌক্তিকতা কী? আমাদের দেশে ব্যর্থ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সংস্কৃতি নেই।”
এছাড়া নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটার মেরেজা বেগম বলেন, “এখন পর্যন্ত ঝামেলা নেই, কিন্তু দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে গণ্ডগোল হতে পারে।”
নির্বাচন ও ভোটারদের আস্থা
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি নিয়ে কারও মনে প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকা-১০ আসনের ভোটার ফিরোজা বেগম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন ভালোই হচ্ছে। আশা করছি ভালো পরিবেশে ভোট দিতে পারব।”
১৭ বছর পর সুস্থ পরিবেশে ভোট দিতে পারার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মোহাম্মদ আরিফ। ঢাকা-৪ আসনের তরুণ ভোটার আরাফাত হোসেন কোনো সহিংসতার আশঙ্কা দেখছেন না। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে পছন্দের প্রতীক বিজয়ী হবে।
কলাবাগানের ব্যবসায়ী মাজহার বিশ্বাস করেন, ফলাফল যদি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করে, তবে সারা দেশের ফলাফল সুষ্ঠুভাবে পাওয়া যাবে।
তবে আব্দুল মান্নান মনে করেন, একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন হওয়ায় কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়।
ভোটে সাধারণ মানুষের আগ্রহ
শঙ্কা থাকলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে ভোটারদের আগ্রহ প্রবল। ঢাকা-৮ আসনের ভোটার বাবুল বলেন, “কাউকে না কাউকে তো ভোট দিতেই হবে, এটা নাগরিক দায়িত্ব।”
শাহবাগ এলাকার ভোটার ঝর্ণা নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার। তিনি বলেন, “যেই আসুক, আমাদের যেন কাজের সুযোগ দেয়। অধিকার না দিলে আমরা তা আদায় করে নেব।”
ঢাকা-৭ এর ভোটার মাইজুদ্দিন জানান, নারীরাও এবার ভোটে বেশ আগ্রহী। পুরান ঢাকার ভোটার আমিনা বেগম তো ভোট দেওয়ার জন্য স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি এসেছেন।
গণভোট: সম্মতি ও বিভ্রান্তি
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পরিবর্তন ও কর্মসংস্থানের আশায় মোহাম্মদ ইয়াকুব, ঝর্ণা, মেরেজা বেগম এবং নাসিরুল্লাহ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরাফাত হোসেন মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রতিনিধিত্ব করায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া উচিত।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। আব্দুল মান্নান ও জসিম উদ্দিন ওয়াসি ‘না’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। চাম্পাতলী এলাকার রোকেয়া বেগম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মানে নির্দিষ্ট দলের সমর্থন। এছাড়া গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে অনেকের মধ্যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি দেখা গেছে। ঢাকা-৮ এর এক ভোটার জানান, গণভোটের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করায় মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।
আসমা আক্তার ও আমিনা বেগম জানান, তাঁরা এখনো বিষয়টি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি; কেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ব্যালট পেপারেই কাল লেখা হবে আগামীর ভাগ্যলিপি। ভোটাররা চান, তাঁদের এই রায় যেন কোনোভাবেই বিফলে না যায়।

রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা—সর্বত্রই এখন নির্বাচনী আলোচনার রেশ। তবে এবারের আলোচনা কেবল হার-জিতের সমীকরণে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটাররা খুঁজছেন দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, জবাবদিহি এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ। কেউ বলছেন শতভাগ পরিবর্তনের কথা, আবার কারো কণ্ঠে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আস্থাহীনতার কথা। কেউবা কেবল নাগরিক দায়িত্ব পালন করে দায়মুক্ত হতে চান।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে নানা ভাবনা, শঙ্কা আর প্রত্যাশার চিত্র। শেষ মুহূর্তের এই জনমত যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, ভোটাররা কেবল একটি মার্কায় সিল মারতে চান না; তাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান।
শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী পরিবেশ
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকার পরিবেশ আপাতদৃষ্টিতে শান্ত। পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর কিংবা শাহবাগ—কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর নেই। তবে ভোটারদের মনে একটি প্রচ্ছন্ন শঙ্কা কাজ করছে। ঢাকা-৭ আসনের ভোটার মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। আশেপাশের মানুষও ভোট দিতে উৎসাহী। কোনো হুমকি বা উত্তেজনা তৈরি হয়নি।”
পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকার ভোটার মোহাম্মদ আরিফ এবং চকবাজারের জসিম উদ্দিন ওয়াসিও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা জানিয়েছেন। শাহবাগের ফুল বিক্রেতা আসমা আক্তার বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত এবং সুন্দর দেখছি।”
তবে ঢাকা-৮ আসনের এক ভোটার প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নীতি, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিয়ে। একই আসনের ভোটার রুহুল আমিন বাবুল বলেন, “প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে দায়িত্বে থাকার যৌক্তিকতা কী? আমাদের দেশে ব্যর্থ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সংস্কৃতি নেই।”
এছাড়া নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটার মেরেজা বেগম বলেন, “এখন পর্যন্ত ঝামেলা নেই, কিন্তু দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে গণ্ডগোল হতে পারে।”
নির্বাচন ও ভোটারদের আস্থা
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি নিয়ে কারও মনে প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকা-১০ আসনের ভোটার ফিরোজা বেগম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন ভালোই হচ্ছে। আশা করছি ভালো পরিবেশে ভোট দিতে পারব।”
১৭ বছর পর সুস্থ পরিবেশে ভোট দিতে পারার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মোহাম্মদ আরিফ। ঢাকা-৪ আসনের তরুণ ভোটার আরাফাত হোসেন কোনো সহিংসতার আশঙ্কা দেখছেন না। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে পছন্দের প্রতীক বিজয়ী হবে।
কলাবাগানের ব্যবসায়ী মাজহার বিশ্বাস করেন, ফলাফল যদি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করে, তবে সারা দেশের ফলাফল সুষ্ঠুভাবে পাওয়া যাবে।
তবে আব্দুল মান্নান মনে করেন, একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন হওয়ায় কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়।
ভোটে সাধারণ মানুষের আগ্রহ
শঙ্কা থাকলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে ভোটারদের আগ্রহ প্রবল। ঢাকা-৮ আসনের ভোটার বাবুল বলেন, “কাউকে না কাউকে তো ভোট দিতেই হবে, এটা নাগরিক দায়িত্ব।”
শাহবাগ এলাকার ভোটার ঝর্ণা নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার। তিনি বলেন, “যেই আসুক, আমাদের যেন কাজের সুযোগ দেয়। অধিকার না দিলে আমরা তা আদায় করে নেব।”
ঢাকা-৭ এর ভোটার মাইজুদ্দিন জানান, নারীরাও এবার ভোটে বেশ আগ্রহী। পুরান ঢাকার ভোটার আমিনা বেগম তো ভোট দেওয়ার জন্য স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি এসেছেন।
গণভোট: সম্মতি ও বিভ্রান্তি
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পরিবর্তন ও কর্মসংস্থানের আশায় মোহাম্মদ ইয়াকুব, ঝর্ণা, মেরেজা বেগম এবং নাসিরুল্লাহ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরাফাত হোসেন মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রতিনিধিত্ব করায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া উচিত।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। আব্দুল মান্নান ও জসিম উদ্দিন ওয়াসি ‘না’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। চাম্পাতলী এলাকার রোকেয়া বেগম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মানে নির্দিষ্ট দলের সমর্থন। এছাড়া গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে অনেকের মধ্যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি দেখা গেছে। ঢাকা-৮ এর এক ভোটার জানান, গণভোটের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করায় মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।
আসমা আক্তার ও আমিনা বেগম জানান, তাঁরা এখনো বিষয়টি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি; কেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ব্যালট পেপারেই কাল লেখা হবে আগামীর ভাগ্যলিপি। ভোটাররা চান, তাঁদের এই রায় যেন কোনোভাবেই বিফলে না যায়।

কয়েক ঘণ্টা পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট, অমোচনীয় কালিসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে সন্ধ্যার আগেই। রাতে চলছিল শেষ মুহূর্তের ছোটখাটো কাজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে।
৩০ মিনিট আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এবারের নির্বাচনে মাঠে থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।
৪১ মিনিট আগে
ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) সলিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের আগের দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টের সইকৃত ২৩টি রেজাল্ট শিট উদ্ধার করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের নজরদারি প্রযুক্তি পর্যালোচনা কমিটি প্রধান উপদেষ্টাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। প্রতিবেদনে নাগরিকের গোপনীয়তা নিশ্চিত করে আটটি সুপারিশ করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে